সৌদি আরব আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। আর কেউ যেন সৌদি না আসে।-দেখুন ভিডিওতে!

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১
  • ১৭৯ বার পাঠিত

বাবার কষ্টের উপার্জনের টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়েও কুলসুম এই ভেবে খুশি ছিলেন যে, তাকে বিদেশে পাঠানোর সব প্রক্রিয়া শেষ করেছেন ওই দালাল।

এক বুক স্বপ্ন নিয়ে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বিমানবন্দরে হাজির হন কুলসুম। ওই দিন রাতের ফ্লাইটে রওনা হন সৌদি আরবের উদ্দেশে। দালালের সহযোগিতায় এই পুরো কাজটি করে দেয় ‘বেসকো ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি।

ক্লিনিকে চিকিৎসার নামে নার্সের সাথে এসব কি করছে? প্লীজ ভিডিওটি দেখে সাবধান হন

কিন্তু সৌদি আরবের মাটিতে পা দিয়েই কুলসুমের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কারণ কারখানায় কাজের কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দেওয়া হয় কুলসুমকে।

নিয়তিকে মেনে নিয়ে সেই বাসায় গৃহকর্মীর কাজেই যোগ দেন কুলসুম। কয়েক দিন যেতেই তার ওপর নেমে আসে নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন।

দেখুন ভিডিওতে

কুলসুম বেগম। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। বাবা ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বসবাস করেন। বাবা ভাইয়ের বোঝা হয়ে সংসারে থাকতে চাননি তিনি। নিজেকে স্বাবলম্বী করতে নানা চেষ্টা করেও ব্যর্থতার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। ২০১৭ সালের শেষের দিকে ট্র্যাভেল এজেন্সির এক দালালের মাধ্যমে তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন স্বাবলম্বী হওয়ার।

ট্রাভেল এজেন্সির দালাল কুলসুম বেগমকে বোঝান, বিনা খরচে সৌদি আরবে গিয়ে সেখাকার কারখানায় কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন তিনি। বিনা খরচে বলা হলেও সৌদি আরবের পাঠানোর আগেই নানা অজুহাতে কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ওই দালাল।

স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্কে গিয়ে নির্লজ্জভাবে কি করছে ছাত্র-ছাত্রীরা দেখুন ভিডিওতে

সব কিছু মুখ বুঝে সহ্য করেও কুলসুম তার কাজ চালিয়ে যান। পরদেশ, ভিন্ন পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং একই সঙ্গে গৃহকর্তা ও গৃহকর্তীর নির্যাতনে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন কুলসুম। তবুও চলছিল মেনে নেওয়ার লড়াই।

ভিডিওটি দেখুন

কিন্তু এত কিছুর পরেও যখন মাস শেষে তার বেতনের টাকাও সময় মতো পাচ্ছিলেন না, তখনই কুলসুম সিদ্ধান্ত নেন, আর ভিনদেশে থাকবেন না। ফিরে যাবেন বাবা-ভাইয়ের কাছে, ফিরে আসবেন নিজের দেশে।

কিন্তু ততদিনে কেটে গেছে প্রায় ৬ মাস। এরপর দেশে ফিরে আসার জন্য সৌদি আরবের সেই এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন কুলসুম। কিন্তু সেখানকার ম্যানেজার শফিক আহমেদ তাকে কোনোভাবেই সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ করেন কুলসুম।

যে বাসায় কুলসুম কাজ করতেন, সেখানে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না কুলসুমকে। তাই এক দিন বাধ্য হয়ে গোপনে কাঁদতে কাঁদতে ফোন করেন বড় ভাই গোলজার হোসেনকে।

বাংলাদেশে থাকা বড় ভাই গোলজারকে কুলসুম বলেন, ‘ভাই আমি ১১ দিন পর একটা খেজুর খাইছি। আমারে তুই বাঁচা, আমারে তুই নিয়ে যা।’

অপর প্রান্তে থাকা বড় ভাই গোলজার বোনের এমন আকুতি শুনে ছুটে যান ফকিরা পুলের ‘বেসকো ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে, যে এজেন্সির মাধ্যমে কুলসুম সৌদি আরব যান।

কুলসুমের বড় ভাই গোলজার হোসেন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘কুলসুমকে সৌদি পাঠাতে দালালদের টাকা দিতে হয়েছিল। সেই দালালরাই কুলসুমকে বিদেশে নিয়ে বিপাকে ফেলেছিল। আবারও সেই দালালদের হাতেই টাকা দিয়ে কুলসুমকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা বাধ্য হয়েছি।

এখনো চার মাসের বেতন পাননি কুলসুম। আর কষ্ট, নির্যাতন সেটা তো ফ্রী। সেটার বিচার আর কে দেবে, সেটার দামই বা কে দেবে?’

শত অনুরোধ ও ঝগড়া বিবাদ করেও এজেন্সি থেকে তার বোনকে দেশে ফিরে আনার কোনো আশ্বাস পাননি গোলজার। এ সময় আগমন হয় নতুন এক দালালের।

নতুন দালাল গোলজারকে জানান, কিছু টাকা খরচ করলে এজেন্সির সঙ্গে কথা বলে তার বোনকে দেশে ফিরে আনার ব্যবস্থা করে দেবেন। গোলজার এক প্রকার বাধ্য হয়েই ওই দালালকে প্রথম দফায় ৫ হাজার টাকা ও পরে আরও কয়েক দফায় বেশ কিছু টাকা দেন তিনি।

নতুন এ দালালের হাতে টাকা দেওয়ার কয়েকদিন পরেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয় কুলসুমকে।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
এই বিভাগের আরো খবর
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বিরহীমন ডক কম ২০১৫-২০২২