প্রেমের ব্যর্থতায় ‘পাগল’ জসিমের পায়ে এখন শিকল

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ জুলাই, ২০২২
  • ২ বার পাঠিত

প্রেমের ব্যর্থতায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে জসিম উদ্দিনের পায়ে এখন শিকল। পৃথিবীর মায়া ত্যাগে বিষপানও করেছিলেন। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। এখন চিকিৎসার অভাবে পুরোপুরি পাগল হয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

জসিম উদ্দিন পড়াশোনায় ছিলেন অদম্য মেধাবী। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় রেজাল্ট করেছেন ভালো। ৬ বছর আগে ২০১৬ সালে হঠাৎ চলাফেরা অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে তার। বিষপান করে পাশের একটি গ্রামে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন জসিম। ঘটনা টের পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও করা হয়। চিকিৎসা শেষ হলেও সে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। আস্তে আস্তে সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এরপর গত দুই বছর ধরে শিকলে বন্দী হয়ে পড়ে তার জীবন। যুবক জসিম উদ্দিনের বসয় বছর। বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউপির চাড়ালকান্দি গ্রামে। তার বাবা মৃত নিজাম উদ্দিন।

স্থানীয় যুবক ইমরান মাহমুদ বলেন, জসিম উদ্দিনের বাবা নিজাম উদ্দিন তিন বছর আগে মারা গেছেন। বাড়িতে বড় এক ভাই ও মা থাকেন।‌ তার ৪ ভাই বোনের মধ্যে জসিম উদ্দিন হলেন সবার ছোট। জসিম স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় এক মেয়েকে ভালোবেসে ছিলেন। সেই প্রেমের সম্পর্ক বেশি দিন পর্যন্ত গড়ায়নি। প্রেমের সম্পর্ক হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। ভুলে থাকার সহজ সমাধান খুঁজতে আসক্ত হয়ে পড়েন নেশায়। পারিপার্শ্বিক নানা মানসিক চাপের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনও চলে তার ওপর। হঠাৎ বিষপান করে পাশের একটি গ্রামে গিয়ে। সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করে বাড়ি ফিরে আনলে পুরোপুরিভাবে হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য। তারপর থেকেই শিকলে বাঁধা পড়ে মেধাবী জসীম।

ভিডিওটি দেখুন

সরেজমিন জসীম উদ্দীনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি একটি ঘরে নোংরা একটি কাপড় গায়ে দিয়ে শুয়ে আছেন। দুই পাশে বেড়া থাকলেও আর কোনো বেড়া নেই। পায়ে শিকল লাগিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে বাঁধা। কোনো কথা বলছে না এদিক-সেদিক শুধু তাকাচ্ছে। চারপাশে মশার উপদ্রব। কিন্তু সেখানে মশা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি এলে ভিজতে হয়। জসিমকে পুরনো কোনো স্মৃতির কথা বললে লজ্জায় মুখ ডেকে ফেলে।

জসিম উদ্দিনের মা জরিনা বেগম বলেন, জসিম উদ্দিন ৬ বছর ধরে পাগলা হয়েছে, আমার ছেলে আর নেই, জীবিত থেকেও মরা, আগে কিছুটা ভালো ছিলো এখন আরো বেশি হয়েছে। ছেলে বেলা থেকেই পড়াশোনায় ছাত্র খুব ভালো ছিলো। এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার আগে এই সমস্যা তাঁ শুরু হয়। অসুস্থতা হয়েও এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ভালো রেজাল্ট করেছে। তার চিকিৎসায় সংসারের সবকিছু শেষ করেছি। তাকে চিকিৎসা করার মতো আমাদের আর কিছুই নেই। বেসরকারি হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা করেছি ১ লাখ টাকা লেগেছিল । কিছুটা ভালো হয়েছিল টাকার অভাবে সেখান থেকে আবার নিয়ে আসতে হয়েছে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা করলে ভালো হবে। কিন্তু অর্থের অভাবে আর চিকিৎসা পড়াতে পারছি না। মানুষজন দেখলেই মারধর গালাগালি ও বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে। এ কারণে তার পায়ে শিকল পরিয়ে সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে।

জসিম উদ্দিনের চাচা আমজাদ আলী বলেন, ছোটবেলা থেকে সে খুবই শান্ত ও মেধাবী ছিল। হঠাৎ করেই জসিম উদ্দিন পাগলা হলো। ৩ বছর আগে তার বাবাও মারা গেছে। অভাব অনটনের সংসারে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছেন না। চিকিৎসা পেলে সুস্থ হতে পারে সে।

প্রতিবেশী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কয়েক বছর আগেও তিনি একটু ভালো ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ায় আরো বেশি অসুস্থতা হয়ে পড়ছে। উন্নত চিকিৎসা করা হয়। তাহলেই সে সুস্থ হয়ে উঠবে।

ইউএনও সেলিম মিঞা বলেন, আমার জানা নেই। তবে ওই পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে সার্বিকভাবে সহায়তা করা হবে।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
এই বিভাগের আরো খবর
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বিরহীমন ডক কম ২০১৫-২০২২