‘প্রেমিকের হাতে তুলে দিবেন মেয়েকে’, ডেকে নিয়ে শিকলে বেঁধে নির্যাতন!

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২
  • ২৪ বার পাঠিত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে নিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একপর্যায় ওই প্রেমিকের মাথার চুল কেটে অর্ধ-ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর কাজির হাওলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের এ ঘটনায় বুধবার রাতে রাঙ্গাবালী থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে একটি মামলা করা হয়।

ওই মামলায় এরমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- প্রেমিকার ভাই মামুন হাওলাদার (২২) ও চাচা রিয়াজ হাওলাদার (৩৫)। তাদের বাড়ি সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামে।

জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই প্রেমিকের নাম ফয়সাল প্যাদা (১৮)। তিনি সদর ইউনিয়নের উনিশ নম্বর গ্রামের ফজলু প্যাদার ছেলে এবং রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। কলেজপড়ুয়া ফয়সালের সঙ্গে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের খবির হাওলাদারের মেয়ে কাছিয়াবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আনিশার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের দীর্ঘদিনের এ প্রেমের সম্পর্ক দুই পরিবারে জানাজানি হয়।

ভিডিওটি দেখুন

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় আনিশার বাবা খবির হাওলাদার মুঠোফোনে ফয়সালকে কল করে মেয়েকে তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বাড়িতে ডাকেন। ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফয়সাল তার প্রেমিকার বাড়িতে ছুটে যান। বাড়িতে পৌঁছালেই ফয়সালকে পরিকল্পিতভাবে আটকে শিকল দিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মাথার তালুর চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। পরে মাথায় আলকাতরা দেওয়ারও চেষ্টা করে নির্যাতনকারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টায় ফয়সালকে উদ্ধার করে পুলিশ। এজাহারের তথ্যানুযায়ী, টানা ৭ ঘণ্টা ফয়সালকে আটকে রাখা হয়।

পুলিশ জানায়, ফয়সাল নির্যাতনের ঘটনায় তার মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলায় নামধারী আসামি প্রেমিকার বাবা খবির হাওলাদার পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাদী আকলিমা বেগম বলেন, ছেলেকে তো মারছেই, সেখানে গেলে আমাকেও মারতে চায়। গিয়ে দেখি আমার ছেলেকে শিকল দিয়ে বাঁধা। মাথার চুল কামানো (ন্যাড়া)। পরে আমি পুলিশকে জানাই। তারা এসে আমার ছেলেকে ওখান থেকে উদ্ধার করে।

নির্যাতনের শিকার ফয়সাল প্যাদা বলেন, আমাকে মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলে। পানি ছিটিয়ে উঠানোর পর আবার মারে। মাথা কামিয়ে দেয়। আলকাতরাও দিতে চায়।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, তাৎক্ষণিক ওই ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
এই বিভাগের আরো খবর
[X]


সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বিরহীমন ডক কম ২০১৫-২০২২