একসঙ্গে বিষপানে প্রেমিকার মৃত্যু, চিকিৎসাধীন প্রেমিকের নামে মামলা!

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২
  • ৩১ বার পাঠিত

নবম শ্রেণিপড়ুয়া প্রেমিক-প্রেমিকা আগাছানাশক বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টা করে। এ ঘটনায় প্রেমিকা মীম (১৪) মারা যায়। কিন্তু প্রেমিক টগর (১৫) সংকটাপন্ন অবস্থায় বেঁচে যান। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রেমিকা মীমের মা পারভীন বেগম প্রেমিক টগর, তাঁর ভাই ও মায়ের বিরুদ্ধে যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ত্যার অভিযোগে মামলা করেন। সোমবার (২০ জুন) বিকেলে বিষয়টি জানান টগরের বড় ভাই সাগর হোসেন। গত ৮ জুন যশোরের চৌগাছার জগদীশপুর-মির্জাপুর ইসমাইল হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

মীম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামে মায়ের সঙ্গে মামা বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত সে। ৮ জুন পরীক্ষা শুরুর আগে বিদ্যালয়ের পেছনের ভবনে সে ও টগর আগাছানাশক পানে আত্মহত্যার চেষ্টার করে। পরে ১০ জুন দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় মীম। টগর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মীম জগদীপুর মির্জাপুর ইসমাইল হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত। আসামি টগর প্রলোভন দেখিয়ে মীমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিষয়টি টগরের পরিবার জানতে পেরে মীমকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ নিয়ে সালিসে টগরের পরিবার মীমের বাবাকে মারধর করে। মীম ক্ষোভে টগরের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। এতে টগর অভিমান করে ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গত ২৫ মে অপর দুই আসামি মীমদের বাড়িতে এসে স্কুলে যেতে নিষেধ করে গলিগালাজ ও খুনের হুমকি দিয়ে যায় মীমকে।

ভিডিওটি দেখুন

৮ জুন মীম স্কুলে পরীক্ষা দিতে গেলে আসামিরা স্কুলে গিয়ে গালিগালাজ করে আসে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে আসামিরা কৌশলে মীমকে ক্লাস রুম থেকে ডেকে কোমল পানীয়র সঙ্গে গন্ধবিহীন কীটনাশক পান করায়। গুরুতর অসুস্থ মীমকে প্রথমে চৌগাছা পরে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনেরা। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ জুন দুপুরে মীম মারা যায়।

যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সালমান আহমেদ শুভ অভিযোগটি গ্রহণ করে এ ঘটনায় থানায় আগে কোনো মামলা রুজু না হলে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য চৌগাছা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, উভয়ে একসঙ্গে আগাছানাশক পান করার পর প্রায় ৩০ মিনিট পরীক্ষা দিয়ে মীম অসুস্থ হয়ে পড়ে। টগর পুরো পরীক্ষা দেয়। মীমকে হাসপাতালে নেন শিক্ষকেরা। পরিবারের সদস্যরা হাসপতালে নেন টগরকে। টগর ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। তাঁর বড় ভাই ছবি এবং হাসপাতালে ভর্তির রেজিস্টারের কপি দিয়েছে।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
এই বিভাগের আরো খবর
[X]


সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বিরহীমন ডক কম ২০১৫-২০২২