জুমার নামাজ: প্রতি কদমে এক বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব!

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মে, ২০২২
  • ২৬ বার পাঠিত

পবিত্র মাহে রমজান মাসের শেষ জুমা। জুমার দিনের মাহাত্ম্য, গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর।’ (সূরা আল-জুমুআ, আয়াত-৯)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, আগে আগে মসজিদে গমন করল, পায়ে হেঁটে মসজিদে গেল, ইমামের কাছাকাছি বসল, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল, কোনো কথা বলল না, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতি কদমে এক বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব দান করবেন। (মুসনাদে আহমাদ : ৫৮১)।

জুমার দিনে ছয়টি সুন্নাত: ভালোভাবে গোসল করা, আগে আগে সকাল সকাল মসজিদে গমন করা।

বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি গোসল ফরজ হলে যেভাবে গোসল করে জুমার দিন ঠিক সেভাবে ভালো করে গোসল করে অতঃপর সর্বপ্রথম মসজিদে গমন করে, সে একটি উট সদকা করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।

এরপর দ্বিতীয়তে যে মসজিদে গমন করবে সে একটি গরু আল্লাহর রাস্তায় সদকা করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। তৃতীয়তে যে গমন করবে সে একটি বকরি আল্লাহর রাস্তায় সদকা করার সওয়াব লাভ করবে। চতুর্থতে যে গমন করবে সে একটি মুরগি সদকা করার সওয়াব লাভ করবে। এরপর পঞ্চম নম্বরে যে প্রবেশ করবে সে একটি ডিম সদকা করার সওয়াব লাভ করবে। (সহীহ বুখারী : ৮৮১)।

ভিডিওটি দেখুন

হেঁটে মসজিদে যাবে, কোনো বাহনে আরোহণ করবে না। জুমার নামাজের জন্য কোনো বাহনে আরোহণ না করে হেঁটে হেঁটে মসজিদে যাওয়া সুন্নত। বিশেষ কোনো ওজর না থাকলে এ সুন্নত ত্যাগ করবে না।

ইমামের কাছাকাছি বসবে। আগে আগে মসজিদে গেলে ইমামের কাছাকাছি বসার সুযোগ পাওয়া যায়। তো ইমামের কাছাকাছি বসাও সুন্নত।

মনোযোগসহ খুতবা শুনবে। মনে রাখতে হবে, জুমার খুতবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনর্থক কোনো কথাবার্তা বা কার্যকলাপে লিপ্ত হবে না। মসজিদে এসে নীরবে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকব। কোনো অনর্থক কথা বলব না। অনর্থক কোনো কাজও করব না। মসজিদে দীনি কথা বলা যাবে। কোরআন তেলাওয়াত করব। যিকির করব। অপ্রয়োজনীয় কোনো কথা বলব না।

যে ব্যক্তি জুমার দিন এ ছয়টি সুন্নত পালন করবে তার মসজিদে যেতে যতগুলো কদম ফেলতে হয় প্রতিটি কদমে আল্লাহ তাআলা তাকে এক বছর নফল ইবাদতের সওয়াব দান করবেন। এক বছর একাধারে দিনের বেলা রোজা রাখলে এবং রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগি করলে যে পরিমাণ সওয়াব হবে আল্লাহ পাক তার প্রতি কদমে সে পরিমাণ সওয়াব দান করবেন। ইবাদতের এ মৌসুম রমজানের এর সওয়াব কত গুণ বেশি হবে, তা আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। সুবহানাল্লাহ!

আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে এ সুন্নতগুলো পালন করার তাওফিক দান করুন। রমজান মাসের পরিপূর্ণ রহমত ও বরকত আমাদের উপর নাযিল করুন। আমীন।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
এই বিভাগের আরো খবর
[X]


সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বিরহীমন ডক কম ২০১৫-২০২২