বিএনপি নেতার পরকীয়ায় স্ত্রীসহ সব হারিয়ে নিঃস্ব প্রবাসী!

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২২
  • ৫৩ বার পাঠিত

রজনীর সঙ্গে মাহফুজার চার বছরের প্রেম, পরে বিয়ে। সুখেই কাটছিল তাদের দিন। বিয়ের চার বছর পরই জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান মালয়েশিয়া। রজনীকে নিয়মিত পাঠাতেন টাকা। তবে তখন থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে তাদের দাম্পত্য জীবনের সমীকরণ।
সাড়ে ১৩ বছর পর দেশে ফিরেই হতবাক হন মাহফুজার। দেখলেন শুধু স্ত্রীই নয়, তার অর্থে কেনা সম্পদও আর নিজের নেই। স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা আবুল বাশার মাহফুজারের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করে তুলে দিয়েছে অন্যর হাতে! দেশে ফিরে এখন বিচার চেয়ে মাহফুজার ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে।

ঘটনাটি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার। মালয়েশিয়া ফেরত মাহফুজার রহমান ঐ উপজেলার শৈলধুকড়ী গ্রামের বাসিন্দা। গত ৫ এপ্রিল বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও শাজাহানপুর আমলি আদালতে প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন মাহফুজার। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়েছে। আগামী ১৮ মে’র মধ্যে পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মামলায় আসামিরা হলেন- ৩৩ বছর বয়সী রজনী খাতুন, তার বর্তমান স্বামী মো. রেজাউল করিম, রেজাউলের বাবা আব্দুল খালেক, বিএনপি নেতা আবুল বাশার। অন্য আসামিরা হলেন- আব্দুর রাজ্জাক, চাঁনমুনী, বিউটি বেগম এবং শান্তি। আসামিদের মধ্যে আব্দুল খালেক, আব্দুর রাজ্জাক ও চাঁনমুনী বগুড়া ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। অন্যরা সবাই শাজাহানপুর উপজেলা বাসিন্দা।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবুল বাশার শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

মাহফুজারের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের আগস্টে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান মাহফুজার। এর আগে ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে তারা বিয়ে করেন। তিনি মালয়েশিয়া যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী রজনী মাহফুজারের বাড়ি ছেড়ে শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। স্বামী মাহফুজারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি। ওই সময় বিএনপি নেতা আবুল বাশারের সঙ্গে রজনীর অনৈতিক সম্পর্ক চলত। একপর্যায়ে নয়মাইল জামালপুর এলাকায় নিজের নামে জমি কেনেন রজনী। পরবর্তীতে ওই জায়গায় একতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। সব মিলিয়ে সাড়ে ১৩ বছরে মাহফুজার তার স্ত্রী রজনীকে দেড়কোটি টাকা দেন। তবে এরমধ্যে মাহফুজার জানতে পেরেছিলেন তার টাকা দিয়ে কেনা কোনো সম্পত্তিরই মালিক তিনি নন। সবকিছুই রজনী তার নিজের নামে করে নিয়েছেন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মাহফুজারকে বলা হত তিনি দেশে ফিরে আসলে দুজনের নামেই সব করা হবে। দীর্ঘ সময় পর মাহফুজার ঠিকই দেশে ফিরলেন। তবে এসে দেখলেন স্ত্রীসহ সম্পত্তি অন্যর দখলে।

ভিডিওটি দেখুন

গেল বছরের ২৮ জানুয়ারি গোপনে মাহফুজারকে তালাক দেন রজনী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনদের চাপে একই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তালাক প্রত্যাহার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজকে আবারো তালাক দেন রজনী। এরপর থেকেই মাহফুজারের টাকায় নির্মিত বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি এবং বিএনপি নেতা আবুল বাশারের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।

আরো জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন মাহফুজার। দেশে ফিরে নয়মাইল জামালপুর গ্রামের ওই বাড়িতে উঠতে চাইলে তাকে বাধা দেন রজনীসহ অন্যরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েও কোনো সুরাহা পাননি মাহফুজার। কারণ তার প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী বিএনপি নেতা আবুল বাশার। পরবর্তীতে নিজের দোষ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ রজনীর সঙ্গে রেজাউল করিমের বিয়ে দিয়ে দেন আবুল বাশারসহ অভিযুক্তরা। রেজাউল করিম মাহফুজারের সাবেক স্ত্রী রজনীর আপন মামাতো ভাই।

মাহফুজার বলেন, আমি মালয়েশিয়া থাকাকালীন রজনী বিএনপি নেতার বাশারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। আবুল বাশার আমার সংসার-সম্পত্তি তছনছ করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য অন্যজনের সঙ্গে আমার স্ত্রীর বিয়ে দিয়ে দেন বিএনপি নেতা আবুল বাশার। আমার স্ত্রীসহ আবুল বাশারের বিচার চাই আমি।

তিনি আরও বলেন, বিয়ের আগে রজনীর সঙ্গে আমার যখন প্রেম ছিল, তখনকার তার লেখা সমস্থ চিঠি আমি আজও সংরক্ষণ করে রেখেছি। করোনা পরিস্থিতির সময় আমার পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ না থাকায় পাঁচ মাসেরও বেশি সময় মালয়েশিয়ায় আমি জেল খেটেছি। ওই সময় গোসল করার জন্য আমাকে একটি সাবান দেওয়া হয়েছিল। ওই সাবান ভেঙে এক অংশ আমি ব্যবহার করেছি আর অন্য অংশ স্ত্রীকে দিতে দেশে নিয়ে এসেছি। কিন্তু সেই স্ত্রীই আমাকে আমাকে নিঃস্ব করে দিল। আজ আমি পথে পথে ঘুরছি তার জন্য। রজনীসহ বিএনপি নেতা বাশারের বিচার চাই আমি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রজনী খাতুন মুঠোফোনে জানান, তার বিরুদ্ধে সব মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। মাহফুজার দেশের বাইরে থাকলেও তার পরিবারের সদস্যদের দিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। মাহফুজারের টাকায় কোনো সম্পত্তি করা হয়নি।

জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আবুল বাশার জানান, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে তাকে নিয়ে। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই ষড়যন্ত্র লিপ্ত আছেন।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
এই বিভাগের আরো খবর
[X]


সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বিরহীমন ডক কম ২০১৫-২০২২