যে চালাকি করে চিত্রনায়িকা শিমুর লাশ নিয়ে বেরিয়ে যান স্বামী

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২২
  • ২৫ বার পাঠিত

ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেলই শিমুকে হত্যা করেন।

রবিবার সকালে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এরপর নোবেল তাঁর বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদের সহায়তায় লাশ দুই খণ্ড করে বস্তায় ভরে কেরানীগঞ্জে নিয়ে ফেলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, শিমুর লাশ যে বস্তায় রাখা হয়েছিল, সেই বস্তা সেলাই করা সুতার মাধ্যমে সন্দেহের আওতায় আসেন তাঁর স্বামী নোবেল। একই রকমের সুতা নোবেলের গাড়িতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া গাড়িটি ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর আলামতও মেলে। এরপর মেলে যোগসূত্র।

ভিডিওটি দেখুন

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নোবেল স্বীকার করেন, রবিবার সকাল ৭টা-৮টার দিকে তিনি শিমুকে গলা টিপে হত্যা করেন। এরপর বন্ধু ফরহাদকে মোবাইল ফোনে কল করে ডেকে নেন। পরে ফরহাদ ও নোবেল পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে বস্তা এনে শিমুর লাশ লম্বালম্বিভাবে দুটি পাটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করেন। এরপর চালাকি করে বাড়ির দারোয়ানকে নাশতা আনতে বাইরে পাঠিয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে শিমুর লাশ নিয়ে বেরিয়ে যান।

জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, রবিবার সন্ধ্যায় লাশ গুম করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বসিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের ওই এলাকায় সড়কের পাশে ঝোপের ভেতর লাশটি ফেলে রেখে চলে যান।

শিমুর বোন ফাতেমা নিসা জানান, তাঁদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার সদর থানার সিআইপাড়া এলাকায়। তাঁর বাবার নাম নূর ইসলাম। তাঁর বোন শিমু ১৮ বছর আগে ফরিদপুরের কমলপুর গ্রামের নোবেলকে বিয়ে করেন। প্রেম করে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের ১৬ বছরের একটি মেয়ে ও সাত বছরের একটি ছেলে আছে।

স্বজন ও সহকর্মীরা জানান, ১৯৯৮ সালে কাজী হায়াতের ‘বর্তমান’ সিনেমায় দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে প্রথম অভিনয় করেন শিমু। এরপর ২০০৪ সাল পর্যন্ত ২৫টি সিনেমায় তিনি দ্বিতীয় নায়িকা ছিলেন। গেল দুই বছর ধরে এফডিসিতে যাতায়াত ছিল শিমুর। শিল্পী সমিতি থেকে ভোটাধিকার হারানো ১৮৪ জন শিল্পীর মধ্যে ছিলেন তিনি। ভোটাধিকার রক্ষার বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁকে সক্রিয় দেখা গেছে।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
এই বিভাগের আরো খবর
[X]


সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বিরহীমন ডক কম ২০১৫-২০২২