মডেল তিন্নি হ’ত্যা মামলার রায় ১৫ নভেম্বর!

Loading...

প্রায় ১৯ বছর আগে মডেল কন্যা সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নির চাঞ্চল্যকর হ’ত্যাকাণ্ডের রায় পিছিয়ে আগামী ১৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরীর আদালত নতুন এ দিন ধার্য করেন।

এদিন এ মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল৷ তবে রাষ্ট্রপক্ষ পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আবেদন করেন। এরপর আদালত পুনরায় রায়ের জন্য আগামী ১৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

এ মামলার প্রধান আসামি হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলারের পাশে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে মডেল তিন্নির লাশ পাওয়া যায়। পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন কেরানীগঞ্জ বর্তমান মডেল থানার তৎকালীন এএসআই মো. সফি উদ্দিন। এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার তৎকালীন এসআই মো. কাইয়ুম আলী সরদার।

এরপর নিহত তিন্নির লাশের ছবি পত্রিকায় ছাপা হলে সুজন নামে নিহতের এক আত্মীয় লাশটি মডেলকন্যা তিন্নির বলে শনাক্ত করেন। পরে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার সিআইডিতে ন্যস্ত হয়। আর তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন সিআইডির পরিদর্শক ফজলুর রহমান।

পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক সুজাউল হক, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গোলাম মোস্তফা, এএসপি আরমান আলী, এএসপি কমল কৃষ্ণ ভরদ্বাজ এবং এএসপি মোজাম্মেল হক। সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

তিন্নি হ’ত্যা মামলার অভিযোগপত্রে ৪১ জনকে সাক্ষী করা হয়। এছাড়াও এই মামলায় ২২টি আলামত জব্দ করা হয়।

পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ গোলাম ফারুক অভি অভিযুক্ত হলেও পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। আর অভির অনুপস্থিতিতেই ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তিন্নি হ’ত্যা ও মরদেহ গুমসংক্রান্ত মামলায় অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

ভিডিওটি দেখুন

২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে খুন হন তিন্নি। এর আগে ৬ নভেম্বর তিন্নিকে তার স্বামী সাক্কাত হোসেন পিয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করেন অভি। তিন্নিও তাকে তালাক দেন। ওই দিনই পিয়ালকে তার দেড় বছর বয়সী কন্যাসন্তানসহ রাজধানীর বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর বিয়ে করার জন্য অভিকে চাপ দিতে থাকেন তিন্নি।

একপর্যায়ে তিন্নি বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। ১০ নভেম্বর রাতে মাথায় আঘাত করে তিন্নিকে হ’ত্যা করা হয়। এরপর গুমের উদ্দেশ্যে ওই রাতে বুড়িগঙ্গার ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেয়া হয় লাশ। কিন্তু পানিতে নয়, লাশটি পড়ে পিলারের উচুঁ অংশে। পরদিন সকালে লাশ ঘিরে জমে উৎসুক জনতার ভিড়।

কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহালের পর ময়নাতদন্ত করে। মর্গে চার দিন রাখার পর ১৫ নভেম্বর অজ্ঞাত হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয় তিন্নিকে।

এদিকে তিন্নি চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হারানো ডায়েরি করেন। লাশ উদ্ধারের দিন একই থানায় একটি হ’ত্যা মামলা করেন থানার এএসআই মো. শফি উদ্দিন। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের আসামি করা হয় মামলায়।

পরে সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি ছোট্ট সংবাদের সূত্র ধরে তিন্নির স্বজনরা আঞ্জুমানে মুফিদুলে যান। ছবি দেখে চিনতে পারেন সেটা তাদের প্রিয় তিন্নির লাশ। এরপর ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

চাঞ্চল্যকর তিন্নি হ’ত্যা মামলার আসামি গোলাম ফারুক অভির বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। তবে দীর্ঘ ১৪ বছরেও তার কোনো সন্ধান বা কোনো ধরনের তথ্য ইন্টারপোল বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরকে জানাতে পারেনি। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি পুনরায় আবেদন করা হলে একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ইন্টারপোল অভির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে, যা ২০২২ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন