মায়ের শেষ ডাকেও সাড়া দেননি শিক্ষক ছেলে, দাফনেও দিলেন বাধা!

Loading...

প্রায় ২৮ বছর আগে স্বামীকে হারালেও সন্তানদের বাবার আদরের কমতি দেননি মা। তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন সাত ছেলে-মেয়েকে। কিন্তু ছেলে বড় হয়ে মাকেই কষ্ট দেওয়া শুরু করেছেন। বাবার রেখে যাওয়া সামান্য সম্পত্তির জন্য প্রায়ই করতেন অবহেলা আর লাঞ্ছনা। এমনকি মারা যাওয়ার পরও মায়ের দাফনে বাধা দেন পাষণ্ড বড় ছেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে এমনই ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর শহরের কেওয়া পূর্ব খণ্ড গ্রামে। মৃত ৬৫ বছর বয়সী মালেকা বেগম একই গ্রামের গ্রামের এমএ মান্নানের স্ত্রী। অভিযুক্ত বড় ছেলের নাম ইকবাল হোসেন। তিনি স্থানীয় অশিন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

জানা গেছে, প্রায় ২৮ বছর আগে চার ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে মারা যান এমএ মান্নান। মৃত্যুর পর বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সন্তানদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। মায়ের নামে জমির মালিকানা। ছোট ভাই আমিনুলকে লিখে দেওয়া হয়েছে- এমন কথায় তাদের বিরোধ আরো চরম আকার ধারণ করে। এছাড়া মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর থেকেই ছোট ছেলে আমিনুলের সঙ্গে থাকতেন মালেকা বেগম। মাঝে মধ্যে ইকবালও দেখভাল করতেন।

ছোট ছেলে আমিনুল বলেন, দীর্ঘদিন আমিই মায়ের দেখভাল করি। পরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মাকে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানে নানা পরীক্ষায় মা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বলে জানানো হয়। বুধবার রাতে হাসপাতালে করোনা ইউনিটে মারা যান তিনি। বাড়িতে লাশ নিয়ে আসার পরই বড় ভাই পুলিশ নিয়ে আসেন। এরপর মায়ের দাফনে বাধা দেন। যদিও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে শেষে মাকে দাফন করা হয়।

ভিডিওটি দেখুন

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর খুব আদর-যত্ন করে, খেয়ে না-খেয়ে আমাদের মানুষ করলেন মা। সেই সন্তানটি শেষবারের মতো মায়ের মুখ পর্যন্ত দেখলেন না। সবাই যখন দাফন-কাফনে ব্যস্ত, তখন বড় ছেলে পরিবার নিয়ে ঘরে বসে দাফনে আটকাতে ব্যস্ত রইলেন। মায়ের কবরে এক মুঠো মাটি পর্যন্ত দিলেন না। মা অসুস্থ হওয়ার পর বড় ভাইকে একনজর দেখতে চেয়েছিলেন। একাধিক লোক দিয়ে খবর পর্যন্ত পাঠিয়েছি। কিন্তু মায়ের সেই ডাকে সাড়া দেননি বড় ছেলে।

এ বিষয়ে বড় ছেলে ইকবাল হোসেন বলেন, মায়ের রেখে যাওয়া সম্পদ আত্মসাৎ করতেই মাকে হত্যা করেছেন ছোট ভাই আমিনুল। মায়ের নামে প্রায় দুই বিঘা সম্পত্তি। কয়েক লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও ব্যাংকে অর্ধ কোটি টাকা ছিল। এসব আত্মসাৎ করতেই মাকে মেরে ফেলেছেন ছোট ভাই। এমন দাবি করে থানায় অভিযোগ করেছি।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, পুলিশ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা না করেই চলে গেছে। কোনো আইনি সহায়তা না পেলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, সম্পদের জন্য মায়ের দাফনে সন্তান এভাবে বাধা তৈরি করবেন ভাবাই যায় না। সত্যিই ঘৃণিত কাজ। এলাকাবাসী হিসেবেও এমন কাণ্ডে লজ্জিত। সবচয়ে বড় কথা সন্তান একজন শিক্ষিত। একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এখানে তার শিক্ষাটা অন্তত পরাজিত হয়েছে।

শ্রীপুর থানার এসআই কামরুল ইসলাম বলেন, থানায় করা মৃতের বড় ছেলের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখা হয়েছে। কাগজগুলো দেখে প্রাথমিকভাবে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ও স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ঘটনাটি যেহেতু ঢাকার একটি হাসপাতালের, তাই অভিযোগকারীকে সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে পরামর্শ করতে বলা হয়েছে।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন