করোনামুক্ত হলেন মাকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেয়া সেই ছেলে

Loading...

পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মাকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সেই যুবক জিয়াউল হাসান টিটুও আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়। অবশেষে ১৫ দিন করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছেন কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা টিটু।

বৃহস্পতিবার তিনি নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়েছিলেন। রোববার দুপুরে তার মোবাইলে করোনা নেগেটিভের বার্তা আসে।

জিয়াউল হাসান টিটু বলেন, আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। করোনা পজিটিভ থাকাকালে আমার শরীরে কোনো উপসর্গ ছিল না। তারপরও টানা ১৫ দিন আমি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সব কাজ করেছি। এজন্যই দ্রুত আমি সুস্থ হয়ে গেছি।

টিটু আরো বলেন, আমি সুস্থ হওয়ার পেছনে আমার মা রেহেনা বেগম ও ছোট ভাই রাকিবুল হাসান ইভানের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের সেবাযত্নে আমি এখন করোনা মুক্ত। মায়ের সেবা করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছি। এতে আমার কোনো দুঃখ নেই। মমতাময়ী মাকে বাঁচাতে হবে, এটাই ছিল আমার একমাত্র চাওয়া। আমার মা সুস্থ হয়ে বাড়িতে এসেছেন, আমি করোনা আক্রান্ত হয়েছি। সেই মা আমার সেবাযত্ন করেছেন।

এই ১৫ দিন কিভাবে কাটল, এমন প্রশ্নে টিটু জানান, গত ২৩ এপ্রিল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মাকে নিয়ে সেই মোটরসাইকেলে করেই নলছিটির সূর্যপাশা গ্রামের বাড়িতে ফেরেন তিনি। পরদিন

পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়। সেই থেকে বাড়িতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সুস্থ হয়ে ওঠেন টিটু।

ভিডিওটি দেখুন

এই ১৫ দিন তিনি বই পড়ে ও ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে সময় কাটিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার কক্ষে খাবার দিয়ে আসতেন মা রেহেনা বেগম ও ছোট ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগরে ছাত্র রাকিবুল হাসান ইভান। কোনো কিছুর প্রয়োজন হলেই রিভান হাজির হয়ে যেতেন টিটুর কাছে। মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস ও শরীরে পিপিই পড়ে ভাইয়ের সার্বক্ষণিক সেবা করেছেন তিনি। মা ও ভাইয়ের প্রতি আজন্ম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন টিটু।

টিটুর মা রেহেনা বেগম জানালেন, তার সেবা করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে টানা ১৫ দিন ঘরের ভেতরে ছিলেন টিটু। এরপর ছেলের সার্বক্ষণিক সেবাযত্ন করেছেন নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেহেনা

পারভীন। টিটুর বাবা মরহুম আব্দুল হাকিম মোল্লা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাবার মৃত্যুর পরে ছেলেরাই মায়ের দেখাশোনা করেন। স্বামীকে হারানোর অভাব কখনোই বুঝতে দেননি তার তিন ছেলে। বড় ছেলে মেহেদী হাসান মিঠু পুলিশের এসআই। তিনি খুলনার একটি থানায় কর্মরত আছেন।

রেহেনা বেগম বলেন, আমার সব স্বপ্নই এখন সন্তানদের ঘিরে। সন্তানরা যেমন আমার অসুস্থতার সময় নিজেদের

জীবন বিপন্ন করে বাঁচানো চেষ্টা করেছেন, এটা আমার অনেক বড় পাওয়া। আমি চাই, তারা আলোকিত মানুষ হোক। তাদের নিয়ে আমার গর্ব হচ্ছে, যেমনটি দেশের মানুষের হচ্ছে। আমি যখন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরি, তখন

অনেক পত্রিকা ও টিভিতে আমার সন্তানকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে। আমি দেখেছি সবগুলোই, আপ্লুত হয়েছি সন্তানদের এমন ভালোবাসায়। তাদের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন