জেনে নিন.. ফ্রিজ ছাড়াই দীর্ঘদিন কো’রবা’নির মাংস সংরক্ষণের দারুণ কৌশল!!

Loading...

দেখতে দেখতেই চলে আসছে কো’রবা’নির ঈদ। আর এই ঈদে মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় গরু বা খাসি কো’রবা’নি দেয়। যা নিকটস্থ আত্মীয়-স্বজন ও গরিবদের দেয়ার পর নিজেদের জন্যও রাখা হয়। তাই বেশিরভাগ মানুষই মাংস সংরক্ষণ করে রাখেন। কারণ একসঙ্গে এতোটা মাংস খাওয়া সম্ভব নয়।

যদিও মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে রেফ্রিজারেটর সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায়। তবে ফ্রিজ না থাকলেও বিকল্প আরো নানা পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ করা যায়। চলুন জেনে নেয়া যাক এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিমের পরামর্শগুলো-

> তিনি জানিয়েছেন, মাংস উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বাল দিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ছয় ঘণ্টা পর পর মাংসটি জ্বাল দিতে হবে, নাহলে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এভাবে মাংস কয়েকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে।

> পানিতে মাংস সিদ্ধ করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

এছাড়াও মাংস সংরক্ষণের বিকল্প অন্যান্য পদ্ধতি সম্পর্কে কয়েকজন গৃহিণীর পরামর্শ হলো-

> মাংস রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। এজন্য মাংসগুলো মাঝারি আকারে কেটে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এই মাংসের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই চর্বি রাখা যাবেনা। এরপর মাংসের পানি নিংড়ে নিয়ে তাতে যথেষ্ট পরিমাণে লবণ ও হলুদ মাখিয়ে নিন। এবার ডুবো পানিতে সেই মাংস কিছুক্ষণ সিদ্ধ করুন।

মাংস আধা সিদ্ধ হলে অর্থাৎ কাঁচা মাংসের গন্ধ যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেটা চুলা থেকে নামিয়ে পুরো পানি ছেঁকে নিন। তারপর মাংসের টুকরোগুলো শিকে গেঁথে রোদে দিয়ে রাখুন। এভাবে মাংস শুকাতে একটানা চার থেকে সাত তিন সময় লাগে।

বাইরের ধুলোবালি থেকে মাংসগুলোকে বাঁচাতে পাতলা কাপড় পেঁচিয়ে দিতে পারেন। মাংসের সব পানি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে গেলে যে কোনো এয়ারটাইট কন্টেইনারে রাখুন। শুকনা এই মাংসটি হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পর স্বাভাবিক নিয়মে রান্না করা যাবে।

ভিডিওটি দেখুন

> এছাড়া সরাসরি তেলে ভেজেও খেতে পারবেন। এভাবে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা নরমাল ফ্রিজে তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত মাংস সংরক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে কন্টেইনারের গায়ে মাংস সংরক্ষণের তারিখটি লিখে রাখা ভালো। তবে বাইরে রোদ না থাকলে এ পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ কঠিন হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে চুলার সাহায্যে মাংস শুকিয়ে নেয়া যেতে পারে। এজন্য মাংসগুলো একটি পাত্রে নিয়ে চুলায় উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বাল দিয়ে পানি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

> লেবু লবণ পানিতে মাংস ডুবিয়ে রাখলে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এজন্য মাংসগুলো মাঝারি আকারে কেটে হালকাভাবে ছেঁচে নিন। এরপর লবণ ও লেবুর রসে ঘণ্টা-খানেক ডুবিয়ে রাখুন, যেন মাংসের ভেতরে ভেতরে সেটা পৌঁছায়। এভাবে মাংস কয়েকদিন পর্যন্ত ভালো রাখা যায়।

> এছাড়া মাংস ভেজেও সংরক্ষণ করা যায়। এজন্য মাংস কেটে পরিষ্কার করে আদা বাটা, রসুন বাটা পেঁয়াজ বাটা দিয়ে মাংসটি কিছুক্ষণ ম্যারিনেট করে রাখুন। এরপর গরম ডুবো তেলে মসলাসহ মাংসগুলো ভেজে নিন এবং তেল ছেঁকে নিয়ে তা সংরক্ষণ করুন।

> মশলা ছাড়াই শুধুমাত্র ডুবো তেলে মাংস সিদ্ধ করে সংরক্ষণ করা যায়। এজন্য হাঁড়িতে যথেষ্ট পরিমাণে তেল গরম করে মাংস ডুবিয়ে পুরোপুরি সিদ্ধ করতে হবে। দু-এক দিন পর পর তেলে ডোবানো মাংস গরম করে নিতে হবে। এভাবে ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত মাংস সংরক্ষণ করা যায়।

> এছাড়া লবণ, সোডিয়াম নাইট্রেট ও সোডিয়াম ল্যাকটেট দিয়ে মাংস পুরো একদিন মেরিনেট করে রাখলে সেটা ফ্রিজে ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই পদ্ধতিতে মাংসের পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন