দুঃসংবাদ: ১৫ জুনের পর ফের আসছে সাধারণ ছুটি!!

Loading...

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে আবারও ‘সাধারণ ছুটি’ ঘোষণার চিন্তাভাবনা করবে সরকার। এজন্য আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

পাশাপাশি সাধারণ ছুটিতে অথবা ছুটি না থাকলে স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি খাতের সার্বিক লাভ-ক্ষতির যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দেশে করোনা মহামারী ভয়াবহভাবে বেড়ে যাওয়ায় পুরো দেশকে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন করার দাবি জানিয়েছেন ৩৩৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।

টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে গত ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন নির্দেশনা মানা সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্ধ থাকা গণপরিবহনও (বাস, লঞ্চ ও ট্রেন) চালু হয়। তবে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি নেই, ক্রমেই তা অবনতিশীল।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৬৯৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৩৭ জন। আগের দিন একই সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হলেও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল বেশি, দুই হাজার ১১ জন। অন্যদিকে আজ বৃহস্পতিবার ২ হাজার ২৩ জনের আক্রান্ত সঙ্গে মৃত্যু ৩৫ জনের।


ছুটি
করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি যদি ক্রমেই এভাবে অবনতির দিকে যায়, তাহলে সরকার ফের সাধারণ ছুটিতে ফিরে যাবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ১৫টি দিন দিয়েছি। আজ (বুধবার) চতুর্থ দিন। প্রথম দিনের চেয়ে আরো কমসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে অফিস করছি।

ভিডিওটি দেখুন

আমাদের মেসেজটা অলরেডি সব জায়গায় পৌঁছে গেছে। অফিস টাইমও খুবই ফ্লেক্সিবল। যার যখন কাজ শেষ হবে দ্রুত চলে যাবে। যদি কেউ দুই ঘণ্টায় কাজ শেষ করতে পারে সে চলে যাবে। যদি না এসে বাসায় বসে করতে পারে করে দেবে। কোনো কিছু আটকাবে না। কিন্তু মুভমেন্ট কম থাকবে।

তবে সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে গেলে ফের সাধারণ ছুটি দেয়া হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যদি দেখি আমাদের ব্যাপক অবনতি ঘটছে তাহলে তো আমাদের (ছুটিতে যাওয়া ছাড়া) বিকল্প কিছু থাকবে না। আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো চালিয়ে নেয়ার জন্যই এটা খুলে দেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি ৮৫ শতাংশ করোনা আক্রান্ত রোগী ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবে। সংক্রমণ যাতে না বাড়ে সে জন্য আমরা ব্যাপকভাবে চেষ্টা করছি। ছোট দেশ বিশাল জনসংখ্যা, ম্যানেজ করা কঠিন হচ্ছে। আমরা পুলিশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করছি।

মানুষের চলাচল বাড়লে করোনা সংক্রমণ আরো বাড়বে এ কথা জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন স্টেজ আছে, আস্তে আস্তে ছড়াতে ছড়াতে শেষের দিকে হয়তো বেশি ছড়াবে। এর চেয়েও সামনে বাড়বে হয়তো। বেড়ে আবার নামা শুরু করবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ও করোনা সংক্রান্ত মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, আমাদের হাতে আরো কিছুটা দিন সময় আছে। আমরা পরিস্থিতি দেখছি। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তো কোনো সমস্যা নেই। তবে অবনতি হতে থাকলে আমরা বসে তখন করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবো।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম একজন করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে গেলে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার।

এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী গত ৩০ মে ছুটি শেষ হয়। দেশে এখন পর্যন্ত মোট ৫৭ হাজার ৫৬৩ জন করোনারোগী শনাক্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৭৮১ জন।

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন