যে ১০ জিনিস স্পর্শ করলে দ্রুত হাত ধুতে হবে!

Loading...

এখন তো করোনাভাইরাস আ’ত’ঙ্কের সময়। জীবাণুমুক্ত থাকতে আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সাবান, পরিষ্কার পানি কিংবা অ্যালকোহল সমৃদ্ধ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। তবে হাত সার্বক্ষণিক সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত রাখা সম্ভব না হলেও ১০টি জিনিস স্পর্শ করলে আপনাকে হাত ধুতেই হবে।

টাকা: নোট হোক কিংবা কয়েন, তা দীর্ঘদিন যাবত হাতবদল হতে থাকে। ফলে এতে নানা ধরণের জীবাণু লেগে থাকে। নিউ ইয়র্ক সিটি ব্যংকের একটি এক ডলারের নোট পরীক্ষা করে গবেষকরা তাতে ওরাল এবং ভ্যাজাইনার ব্যাকটেরিয়া এবং প্রাণী ও ভাইরাসের ডিএনএ পেয়েছেন। তাই নোট কিংবা কয়েন হাত দিয়ে ধরার পর অবশ্যই হাত জীবানুমুক্ত করে নিন।

গাড়ি কিংবা দরজার হাতল: গণপরিবহনের হাতলে বিভিন্ন জনে স্পর্শ করে থাকে। ফলে সেখানে ক্ষতিকর জীবাণু অবস্থান করে। এছাড়াও অফিস-আদালত, দোকানপাট, লিফট প্রভৃতির দরজা ও হাতলে হাত দেওয়ার পর ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের ডার্মাটোলজিস্ট ক্যাটি বারিস।

রেস্টুরেন্ট মেন্যু: রেস্টুরেন্টের সবচেয়ে জীবাণুবাহী জিনিস খাবারের মেন্যু। অসংখ্য মানুষ এটিতে হাত দেওয়ায় এতে লাখ লাখ ব্যাকটেরিয়া অবস্থান করে। আপনি মেন্যু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে পারবেন না, তবে স্পর্শ করার পর অবশ্যই হাত জীবাণুমুক্ত করতে ভুলবেন না।

ডাক্তারখানার জিনিসপত্র: একজন ডাক্তারের কক্ষে নানারকম রোগীর আসা-যাওয়া থাকে। ফলে সেখানকার অধিকাংশ জিনিসেই ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু থাকতে পারে। বিশেষ করে কলম, যা দিয়ে রোগীরা স্বাক্ষর করে থাকেন। ডাক্তারের রুমের একটি কলমে বাথরুমের সিট এর তুলনায় প্রায় ৪৬ হাজার বেশি জীবাণু পাওয়া গেছে। হাসপাতালের ওয়েটিং রুমের চেয়ারের হাতল ও দরজার হাতল ধরার পর হাত ধুয়ে নিন।

যেকোনো প্রাণী: পোষা প্রাণী যেহেতু পরিবারের সদস্যদের সাথে সার্বক্ষণিক থাকে, তাই সেগুলোকে ধরার পর অনেকে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীতা অনুভব করে না। কিন্তু যেকোনো ধরনের প্রাণীই ভাইরাস এবং রোগজীবাণু বহন করতে পারে। তাই সাধারণ কিংবা পোষা প্রাণী ধরার পর হাত ধোয়া অবশ্য-পালনীয় একটি কাজ।

টাচস্ক্রিন: মোবাইল স্ক্রিন কিংবা অফিসের বায়োমেট্রিক স্ক্যানার আমাদের নিত্যকার কাজের অংশ। এয়ারপোর্ট কিংবা পরিবহন যোগাযোগের পয়েন্টগুলোর কিঅস্ক মেশিন অন্যতম জীবাণু বহনকারী। মোবাইলও জীবানু বহন করে, কারণ আমরা সেগুলো অনেকসময় অন্যের হাতে দেই। এসব স্ক্রিনে হাত দেওয়ার পর জীবানুমুক্ত করার জন্য সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট।

কিচেন বোর্ড এবং স্পঞ্জ: রান্নাঘর হলো বাড়ির অন্যতম জীবাণুবোঝাই স্থান। এখানে বাজারের কাঁচা খাবারের সাথে সাথে বিভিন্ন খাবার, ফলমূল, শাকসবজি, মাছ-মাংস এবং রান্নাঘরের জিনিসপত্র ধোয়া ও পরিষ্কার করা হয়। এক গবেষণায়, রান্নাঘরের স্পঞ্জে ৩২৬ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান মিলেছে। খাবার তৈরির আগে এবং কাঁচা মাংসে হাত দেওয়ার পরে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যের কলম: কলম ব্যবহার করার পর আপনার হাত ধুয়ে ফেলুন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকেই ব্যবহার করে এমন কলমে টয়লেট সিট এর তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে।

সোপ ডিসপেন্সার বা পাম্প: সোপ ডিসপেন্সার পাম্প হলো ব্যাকটেরিয়ার জন্য স্বর্গস্বরূপ। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা রিফিলযোগ্য সাবানের পাম্পকে ব্যাকটেরিয়ার আবাসস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কারণ অনেকেই এটি স্পর্শ করে থাকেন।

আপনি যখন সোপ ডিসপেন্সার বা হ্যান্ডওয়াশ পাম্পে চাপ দেন তখন জীবাণু পরিষ্কার হওয়ার মতোই তার থেকে জীবাণু হাতে সংক্রমিত হওয়ার সমান সম্ভাবনা রয়েছে। তাই হাত ধোয়ার পর আর কোনোভাবেই সোপ ডিসপেন্সার স্পর্শ করবেন না।

এয়ারপোর্টের জিনিসপত্র: প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বিমানে যাতায়াত করে। এয়ারপোর্টের জিনিসপত্রে অনেক মানুষের স্পর্শের ফলে জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনাও বেশি। দরজার হাতল, পানির পাত্র, নিরাপত্তা তল্লাশির ট্রে, কিয়স্ক স্ক্রিন প্রভৃতি জিনিস থেকে আপনার হাতে জীবাণু সংক্রমিত হতে পারে। এসব জিনিসে স্পর্শ করার পর আপনি হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিন।

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন