রাজার সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’, স্ত্রীর মর্যাদা হারালেন থাই রাজপত্নী

‘রাজার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও বিশ্বাসঘাতকতা’ করার অভিযোগে স্ত্রীর মর্যাদা ও পদবি খোয়ালেন থাই রাজপত্নী সিনিনাত ওংভাজিরাপাকডি।

থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সিনিনাতকে ‘উচ্চাভিলাষী’ উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি ‘নিজেকে রানির সমমর্যাদায় উন্নীত করার’ চেষ্টা করেছিলেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাজপত্নীর আচার-আচরণ ছিল অসম্মানজনক।’

এ ছাড়া সিনিনাত থাই ‘রাজা ও রানির বিরুদ্ধাচরণ’ করছিলেন দাবি করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই রাজার হয়ে নানা আদেশ দিতেন তিনি।

থাই রাজা চতুর্থবারের মতো বিয়ে করলে রানি হন সুথিডা। এর দুই মাস পরেই গত জুলাইয়ে সিনিনাতকে রাজপত্নীর মর্যাদা দেন থাই রাজা।

থাইল্যান্ডের প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘রাজপত্নী’ খেতাব পান কোনো নারী। সিনিনাত ছিলেন একাধারে একজন প্রশিক্ষিত বিমানচালক, সেবিকা ও দেহরক্ষী এবং সেনাবাহিনীর মেজর-জেনারেল পদাধিকারী।

আর রানি সুথিডা ছিলেন থাই রাজার দীর্ঘদিনের সঙ্গী। রাজার পাশে সুথিডাকে অনেক বছর ধরে জনসমক্ষে দেখা গেছে। সাবেক বিমানবালা ৪১ বছর বয়সী সুথিডা ছিলেন থাই রাজা ভাজিরালংকর্নের দেহরক্ষী বাহিনীর উপপ্রধান।

থাইল্যান্ডের রাজকীয় গেজেটে গতকাল সোমবার সিনিনাতকে পদবিচ্যুত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। থাই রাজার পাশে বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাওয়ার পর ‘রাজপত্নী’ হিসেবে মর্যাদাসীন হন সিনিনাত। কিন্তু বেশিদিন সে মর্যাদা ধরে রাখতে পারলেন না সিনিনাত।

থাই রাজা সুথিডাকে বিয়ে করার পরও সিনিনাতকে রাজকীয় অনুষ্ঠানগুলোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে দেখা যেত।

থাই রাজার আগের তিন স্ত্রী হলেন—প্রিন্সেস সোয়ামসয়ালি (১৯৭৭ থেকে ১৯৯৩), ইয়ুভাধিডা পোলপ্রাসার্থ (১৯৯৪-১৯৯৬) ও স্রিরাসমি সুয়াদি (২০০১ থেকে ২০১৪)।

তবে থাই রাজপ্রাসাদের অন্তরালের খবরাখবর রাজনির্দেশ ছাড়া কখনোই প্রকাশিত না হওয়ায় সিনিনাতের ‘রাজপত্নী’ পদবি খোয়ানোর আসল কারণ সম্পর্কে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। রাজপরিবারের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মানজনক আচরণের বিরুদ্ধে থাইল্যান্ডে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার রীতি রয়েছে।

অবশ্য সিনিনাতকে যে ভাগ্যবরণ করতে হয়েছে, তা একেবারেই অভূতপূর্ব নয়। থাই রাজার আগের স্ত্রীদের বেলায়ও এমনটাই ঘটেছে বলে জানা যায়। ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সে পক্ষের চার পুত্রকে পরিত্যাগ করেন থাই রাজা। ওই স্ত্রী এরপর যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান।

এর পর ২০১৪ সালে থাই রাজার তৃতীয় স্ত্রীকেও সিনিনাতের মতো পদবিচ্যুত করে রাজসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে ওই পক্ষের ১৪ বছরের ছেলেকে জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে রেখে বড় করছেন থাই রাজা।

খেলোয়াড়রা না খেলতে চাইলে খেলবে না : পাপন

বেতন ভাতা বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে গতকাল ২১ অক্টোবর আন্দোলনে নামেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। এই আন্দোলনে তারা ১১টি দাবি জানিয়েছে।

আজ সাকিবদের আন্দোলন নিয়ে জরুরী সভা করে বিসিবি বোর্ড সভাপতি ও পরিচালকরা। তাদের দাবি নিয়ে কথা বলছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। পাপন জানিয়েছেন, খেলোয়াড়রা না খেলতে চাইলে খেলবে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা যদি খেলতে না চায় তারা খেলবে না। ক্যাম্প শুরু হচ্ছে, খেলোয়াড়েরা যদি যোগ দেয় তো দেবে, নয়তো দেবে না। ক্যাম্পে যদি যোগ না দেয়। তাহলে কিছু করার থাকবে না। হ্যাঁ, ওরা বসতে চাইলে আমরা রাজি আছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘টাকার জন্য ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা, এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। ধর্মঘটের পেছনে কোনো কারণ আছে। এগুলো একটা পরিকল্পনানার অংশ। ক্রিকেটের ইমেজ নষ্ট করতে তারা সফল হয়েছে।’

‘‘সাকিবদের ২৪ কোটি টাকা বোনাস দিয়েছি’’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ক্রিকেটারদের জন্য আমরা কি করিনি। এ পর্যন্ত ওদের পারফরম্যান্সের জন্য ২৪ কোটি টাকা বোনাস দিয়েছি। এতটাকা কেউ দেয় নাকি! অথচ তারা টাকার জন্য খেলা বন্ধ করে দিবে? এটা আমার বিশ্বাস হয় না।

মঙ্গলবার মিরপুরে ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি নিয়ে বিসিবির বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন পাপন।

বিসিবি সভাপতি বলেন, প্রতিনিয়তই ওদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছি। অথচ টাকার জন্য ওরা খেলা বন্ধ করে দিবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না। তারা কাউকে কিছু না বলে এভাবে আন্দোলন করবে এতে আমি হতাশ হয়েছি।

বোর্ড সভাপতি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম খেলোয়াড়রা কিছু দাবি-দাওয়া দিয়েছে। তারা বলেছে দাবি আদায় না হলে খেলবে না। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না আমাদের খেলোয়াড়রা এমন কিছু করতে পারে। ওদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক ভালো। তারা আমার সঙ্গে যে কোনো মুহূর্তে তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারে। আমার চেয়ে বেশি মনে হয় না তাদের সঙ্গে এত ভালো সম্পর্ক আর কারও আছে।

তিনি বলেন, ক্রিকেটাররা যে দাবি-দাওয়া চেয়ে আন্দোলনে নামল, এখনও পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটার বলতে পারবে আমার সঙ্গে এ নিয়ে কেউ একজন কথা বলেছে। কোনো ক্রিকেটার বলতে পারবে তারা কিছু চাইছে আমরা তাদের দেইনি।

ক্রিকেটাররা না খেললে, না খেলবে; সাকিবদের পাপনের হুঙ্কার!

জাতীয় দল ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটে নামার পরদিন জরুরি বোর্ড সভা ডেকেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সভা শেষে বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে কড়া কথাই শুনিয়েছেন।

মঙ্গলবার খেলোয়াড়দের ধর্মঘট নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন নাজমুল। বিসিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘ওরা (ক্রিকেটাররা) না খেললে, না খেলবে। কিন্তু তোমরা যদি না খেলো, তাহলে লাভটা কী? না খেললে তো কোনও লাভ নেই। আমি বুঝতে পারছি না দাবিগুলোর সঙ্গে খেলা বন্ধ করার কী সম্পর্ক।’

বোর্ড প্রধান হিসেবে খেলোয়াড়দের দাবি পূরণ করতে কোনও আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন নাজমুল। কিন্তু তাদের কোনও সুযোগ না দিয়ে সরাসরি মিডিয়ায় কথা বলায় খেপেছেন তিনি। বিসিবি প্রধানের বক্তব্য, ‘কারও বক্তব্য থাকলে আসুক, আমরা কথা বলব। ওদের জন্য দরজা ওপেন। ওরা আসুক, দাবি জানাক। কিন্তু দাবি তো দিলোই না, ফোন দিলেও ধরছে না। এই অবস্থায় আমাদের কী করা। আমার অ্যাপ্রোচ করছি।’

সোমবার ১১ দফা উত্থাপন করার পাশাপাশি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাকিব-তামিমরা। অথচ ভারত সফরকে সামনে রেখে ২৫ অক্টোবর জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা। সামনে গুরুত্বপূর্ণ সফর, তবু এই ধর্মঘটকে ‘সময়োপযোগী’ এবং ‘যৌক্তিক’ বলে মনে করছেন ক্রিকেটাররা।

ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ডাকার পেছনে বেশ কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় ইস্যু বিপিএল। মাস দেড়েক আগে কিছু বিষয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে সমস্যা হওয়ার পর বিসিবি নিজ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর নামে বিপিএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক কমে যাচ্ছে অনেক। মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা আগে বিপিএলের একটি আসরে খেলে কোটি টাকার বেশি পেলেও এবার তাদের পারিশ্রমিক নেমে যাবে ৫০ লাখের নিচে। অন্যদিকে যারা ২০ লাখ টাকা পেতেন তারা পাবেন ১০ লাখেরও কম।

ক্রিকেটারদের আন্দোলনকে চক্রান্ত বলে মন্তব্য করলেন পাপন!

ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবিতে ডাকা ধর্মঘটের বিষয়টিকে চক্রান্ত মনে করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। মঙ্গলবার বিসিবিতে ডাকা জরুরি সভা শেষে এ মন্তব্য করেন বিসিবি প্রধান।

সংবাদ সম্মেলনে শুরু থেকে ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টিকে পূর্বপরিকল্পিত দাবি করেন পাপন। ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ডাকার বিষয়টিতে বিস্মিত হয়েছেন বলে জানালেন তিনি, ‘শকিং, আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না আমাদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন কিছু হতে পারে।’

যে কোনো সমস্যা নিয়ে ক্রিকেটাররা সাধারণত বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু আকস্মিকভাবে এমন ধর্মঘট ডাকার বিষয়টিতে ষড়যন্ত্র দেখছেন বিসিবি প্রধান, ‘খেলোয়াড়রা আমাদের না জানিয়ে বিষয়গুলো সাংবাদিকদের জানিয়েছে, এতে আমি বিস্মিত। সব মিলিয়ে আমি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ওদের যদি কিছু বলার থাকে, তাহলে তো বলার কথাই আমাকে। ওদের বেতন বাড়িয়েছি। বিশ্বকাপের পর ২৪ কোটি টাকা বোনাস দিয়েছি। টাকার জন্য তারা খেলা বন্ধ করে দেবে? ওদের সুবিধা বাড়ানো ছাড়া তো কিছু করিনি। কিন্তু টকশো মিডিয়ার খবরে মনে হয়েছে ওদের আমরা শেষ করে ফেলেছি। এতো সম্পর্ক থাকার পরেও আমাদের কিছু বললো না কেন। এটা পূর্বপরিকল্পিত।’

ক্রিকেটারদের খেলা বয়কট প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছিনা দাবিগুলোর সঙ্গে খেলা বন্ধ করার কী সম্পর্ক। তোমরা যদি না খেলা তাহলে লাভটা কী? কারো বক্তব্য থাকলে আসনু আমরা কথা বলি। আমি আপনাদের কাছে সময় চাইছি।’

ক্রিকেটারদের যে দাবীতে বোর্ডের কিছু করার নেই জানালেন পাপন!

বেতন ও বিভিন্ন চাওয়া পাওয়া নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তারা ১১টি দাবী জানিয়েছে বোর্ডের কাছে যা না মানলে সব ধরণের ক্রিকেট বর্জনের হুমকিও দিয়ে রেখেছে।

এই আন্দোলনে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জুনায়েদ সিদ্দিক, ফরহাদ রেজারা ছিলেন উপস্থিত। উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার।


তবে এসব নিয়ে আজ এক জরুরী বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি পাপন। সেই মিটিং শেষেই তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের প্রথম দাবী নিয়ে বোর্ডের কিছু করার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, কোয়াব বোর্ডের অধিনস্থ কোন সংগঠন নয়। তাই এটা নিয়ে বোর্ডের কিছু করার নেই। আমি তো বলতে পারিনা অমুককে সভাপতি বানাও, অমুককে বাদ দেও। এটা করলে তো আমাকে ফিকা এসে ধরবে।

বাবাকে হত্যা করে ৯৯৯–এ ছেলের ফোন

বাবাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ কল দিয়ে জানান বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া একমাত্র ছেলে। পরে তাঁকে আটক করে পুলিশ। গতকাল দিবাগত রাতে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে।

নিহত আবদুল ওয়াদুদ ওরফে বাবুল মাস্টার (৫৫) পাশের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও কোহিনুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি লতিফপুর এলাকার তোতা মার্কেটে ওষুধের ব্যবসা করতেন। দুর্ঘটনায় এক পা হারিয়ে তিনি কৃত্রিম পায়ে চলাফেরা করতেন।

ছেলের নাম ইমরান হাশমি ওরফে রাতুল (২৫)। তিনি ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি মা–বাবার একমাত্র ছেলে। তাঁর একটি বোন আছে।

রাতুলের স্বজনেরা জানান, রাতুল ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করেছেন। পরে তিনি ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উত্তরা শাখায় ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। ছেলেকে নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত টাকা ছেলের হাতে দিতেন না বাবা। ছেলে বেশ কয়েক বছর ধরে বাবার কাছে হাতখরচ ও বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণের জন্য বাড়তি টাকা চাইতেন। বাবা মাঝেমধ্যে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হতো।

গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলে, ‘রাতুল প্রায়ই গভীর রাতে রাস্তাঘাটে চুপচাপ বসে থাকত। মাঝে মাঝে তাঁর বাবা আমাকে ফোন করে বাড়িতে নিয়ে যেতেন। আমি ছেলেকে বুঝিয়ে শুনিয়ে দিয়ে আসতাম। রাতুল মাদকাসক্ত ছিল না। তবে ইচ্ছেমতো টাকা না পেয়ে সে প্রায়ই হতাশ থাকত।’ তিনি আরও বলেন, রাতুল প্রায়ই এসব বিষয় নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়া করতেন। তাদের গায়ে হাত তুলতেন। মা তাঁর ছেলের ভয়ে এক বছর ধরে বাবার বাড়িতে গিয়ে থাকেন। বাড়িতে শুধু বাবা আর ছেলে থাকতেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, গতকাল সোমবার রাত একটার দিকে ছেলে তাঁর বাবাকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তিনি নিজেই ৯৯৯–এ ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। শ্রীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে আটক করে। গুরুতর অবস্থায় বাবাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

বিপিএল থেকে ছিটকে গেলেন ‘সাইফুদ্দিন’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকরা ভারতে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। ওই সিরিজের দলে আছেন সাইফউদ্দিন। কিন্তু ভারত সফরের পর বিপিএল থেকেও ছিটকে গেলেন অলরাউন্ডার সাইফুদ্দিন।

তার পিঠের ইজুরিরর স্ক্যান করানো হয়েছিল আজ সেই স্ক্যান রিপোর্ট দেখে সন্তোষজনক না হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ড। তার পরিবর্তে তাসকিন আহমেদ (যদি ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে),আবু হায়দার রনি কিংবা ফরহাদ রেজাকে দলে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

ইনজুরি কতটুকু গুরুতর তা জানতে যে পরীক্ষা দিয়েছিলেন সাইফুদ্দিন। তার রেজাল্ট সুখকর হয় নি সাইফের জন্য। আগামী তিনমাস মাঠের বাহিরে থাকতে হবে ২২ বছর বয়সী সাইফকে। যেহেতু ডিসেম্বর মাসে গড়াবে বিপিএল সেহেতু বিপিএলে সাইফকে পাচ্ছে না কোন দল।

সাইফকে নিয়ে মিনহাজুল আবেদিন বলেন;“আমরা দলের ফিজিও জুলিয়ন ক্যালেফাতোর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং সাইফুদ্দিন নিয়ে তাকে একটা ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে আমি যা বুঝতে পারছি সে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে খেলতে পারবে না।”

ভারত সফরের দলে ঘোষণা করলেও বাদ পরতে হবে সাইফুদ্দিনকে। সেজন্যই কোচের সাথে কথা বলে তার বিকল্প খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা হবে বলে জানান; বিসিবি নির্বাচক।

সাইফউদ্দিন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকেই ইনজুরিতে আছেন। বিশ্বকাপের সময়ও ব্যথানাশক খেয়ে তিনি খেলেছেন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তিনি এক ম্যাচ দলের বাইরেও ছিলেন। এখনো আছেন সেই ইনজুরিতে।

গাড়ি থেকে নেমেই পত্রিকা নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন পাপন!

ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবীর প্রেক্ষিতে বিসিবির সভাকক্ষে চলছে বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে সভাপতি দর মিটিং। যার মাধ্যমে ক্রিকেটারদের দাবীগুলো পুরন কতটা তবে তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসতে পারে।

দুপুর ১২ টায় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি শুরু হয় দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের দেরিতে ব্যস্ততার কারনেই দেরিতে শুরু হয় সভা।

সভায় যোগদানের পূর্বে ১ টা ৬ মিনিটের দিকে বিসিবি ভবনে আসেন পাপন। গাড়ি থেকে নেমে এসেই তলব করলেন বিসিবি মিডিয়া বিভাগের কর্মীদের। ‘আজকের সব পত্রিকা নিয়ে এস।’ বিসিবির মিডিয়া বিভাগে প্রতিদিনের পত্রিকা বান্ডেল করে রাখা থাকে। সেই বান্ডেল নিয়ে সভাকক্ষে ছুটলেন মিডিয়া কর্মী বুলবুল।

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন