ভালো চাকরি পেতে যে আমল করবেন!

Loading...

চাকরি বা কাজ পাওয়া সব সময়ই কঠিন। ভালো মান-সম্মত চাকরি বা কাজ পাওয়াতো আরও বেশি কঠিন। তা পেতে অনেক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। আর বর্তমান সময়ে চাকরি তো এক দুঃস্বপ্নের নাম।

কেননা কর্মক্ষেত্রের তুলনায় চাকরি প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি। তা দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই ভালো চাকরি বা কাজ পেতে যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি কুরআনি আমলও করা যেতে পারে। এর জন্য রয়েছে একটি দোয়া ও তাসবিহ। আর তাহলো-

দোয়া
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিং ফাক্বির।’

অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবে, নিশ্চয় আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ২৪)

তাসবিহ
ভালো চাকরির নিয়তে দিনে যতবার খুশি মহান আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামের আমল করা এবং বেশি বেশি পাঠ করা।
يَا وَهَّابُ
উচ্চারণ : ‘ইয়া ওয়াহহাবু’
অর্থ : ‘কোনোরূপ প্রতিদান ব্যতীত অধিক দানকারী।’

হজরত শাহ আবদুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যে ব্যক্তি রিজিকের প্রশস্ততার জন্য (ভালো কাজ বা চাকরির প্রত্যাশায়) চাশতের নামাজের

সময় ১২ রাকাআত নামাজ পড়ে সিজদায় গিয়ে (يَا وَهَّابُ) ইয়া ওয়াহ্‌হাবু পবিত্র গুণবাচক নামের জিকির ১০০ বার অথবা ৫০ বার পাঠ করে। তবে অবশ্যই তার রিজিকের অভাব থাকবে না।

দোয়ার উৎস : কুরআনুল কারিমে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের একটি আকুতি ও আল্লাহর কাছে আশ্রয় লাভ ও কাজ অনুসন্ধানের আহ্বান উঠে এসেছে। কুরআনে সে ঘটনাটি এভাবে এসেছে-

মুসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের ঘরে থেকে বেরিয়ে আসার পর তার কোথাও যাওয়ার, আশ্রয়ের কিংবা জীবিকার কোনো সংস্থান ছিল না। সে সময় তিনি ফেরাউনের ঘর থেকে বেরিয়ে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলেন। আল্লাহ বলেন-

‘যখন সে মাদইয়ানের কূপের কাছে পৌঁছল। সেখানে দেখলো একদল লোক তাদের পশুগুলোকে পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের পিছনে দু’জন নারী তাদের পশুগুলোকে আগলে আছে। মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, তোমাদের কি হলো?

(দাঁড়িয়ে আছ কেন?) ওরা (নারী) বলল, রাখালরা ওদের পশুগুলোকে নিয়ে সরে না গেলে আমরা আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করাতে পারি না। আর আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ মানুষ।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ২৩)

এর পরের আয়াতেই মুসা আলাইহিস সালামের কাজ চেয়ে আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়ার আবেদন এসেছে।

আল্লাহ তাআলা মুসা আলাইহিস সালামে সে আহ্বান এভাবে তুলে ধরেন-
‘মুসা (আলাইহিস সালাম) তখন ওদের (দুই নারীর) পশুগুলোকে পানি পান করালো। তারপর সে ছায়ার নিচে আশ্রয় গ্রহণ করে বলল-

‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার জন্য যে কল্যাণ অবতীর্ণ করবে, নিশ্চয় আমি তার মুখাপেক্ষী।’ অর্থাৎ আমার কাজ বা চাকরি দরকার, তুমি আমার জন্য যে কাজ বা জীবিকার ব্যবস্থা করবে। আমি তোমার ব্যবস্থা করা সে কাজের বা জীবিকার মুখাপেক্ষী।

ভালো চাকরি পেতে যে এ দোয়া কার্যকরী তা পরের ঘটনাতেই প্রমাণিত। আল্লাহ বলেন-

‘তখন (ওই) দুই নারীর একজন লজ্জাজড়িত পদে তার কাছে এসে বললো,

আপনি যে আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়েছেন, তার পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন।

অতঃপর মুসা আলাইহিস সালাম তার কাছে এসে সব ঘটনা বর্ণনা করলে সে বলল, ‘ভয় করো না। তুমি জালিম সম্প্রদায়ের কবল থেকে বেঁচে গেছ। ওদের (দুই নারীর) একজন বলল, হে আব্বা!

আপনি একে মজুর হিসেবে নিযুক্ত করুন। কারণ আপনার মজুর হিসেবে নিশ্চয় সে (মুসা) উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ২৫-২৬)

এভাবে হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এ আহ্বানের ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম কর্মক্ষেত্র ও জীবিকা লাভ করেছিলেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উত্তম কাজ বা চকরির জন্য উল্লেখিত দোয়া ও তাসবিহ এর নিয়মিত আমল করার তাওফিক দান করুন। ভালো চাকরি বা কাজ পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সৌন্দর্যের নতুন রানী শ্রীদেবী কন্যা জাহ্নবী, ছবিগুলো দেখার পর!

নিজের সৌন্দর্যের গোপন রহস্য জানালেন শ্রীদেবীর মেয়ে জাহ্নবী কাপুর। তার রূপ গুনে মুগ্ধ সবাই। তার অভিনীত ‘ধড়ক’ ছবি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই লাইমলাইটে শ্রীদেবী কন্যা। জাহ্নবীর সৌন্দর্যে নিয়ে আলোচনা চলছেই। ক্রমেই লম্বা হচ্ছে ভক্তদের লিস্ট। ভক্তদের ভালোবাসায় ভাসছেন তিনি।

যেমন রূপ তার তেমনই মাথার চুল। কেমন করে করে এতো সুন্দরী হলেন জাহ্নবী এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন অনেকেই। নায়িকার মেয়ে বলেই কি? না আর রহস্য না। নিজের সৌন্দর্যের গোপন রহস্য এবার নিজেই খোলসা করলেন জাহ্নবী। জানালেন নিজের চুলের রহস্যও।

সৌন্দর্য চর্চার ক্ষেত্রে মাকেই ফলো করেন এই নায়িকা। মায়ের কথা মতো চলেই নাকি এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মায়ের বলা ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করেই নিজেকে বদলে ফেলছেন তিনি।

এক ফ্যাশন ম্যাগাজিনের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার লম্বা ঘন চুলের রহস্য প্রকাশ করেছেন জাহ্নবী কাপূর। জানিয়েছেন, কোনও নামী-দামি শ্যাম্পু নয়, মায়ের তৈরি ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করেই এমন সুন্দর চুল তার।
জাহ্নবী কাপুর

জাহ্নবী কাপুর

জাহ্নবী কাপুর

জাহ্নবী কাপুর

জাহ্নবী কাপুর

জাহ্নবী কাপুর

জাহ্নবী কাপুর

বাবার কবরে ছেলের টয়লেট নির্মাণ, অতঃপর!

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণ করেছেন তারই ছেলে কাস্টমস কর্মকর্তা আবদুর রউফ। পরিবারের সদস্যরা জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার ২০১৭ সালে মারা গেলে তার ১২ শতক জমি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ভাগ করে নেন। দুদিন আগে উপজেলার বারুনিঘাট এলাকায় বাবার কবরের ওপর এই শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু করে ছেলে। অবশ্য রোববার বিকেলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা কবরের প্রাচীরের ওপর শৌচাগারের জন্য নির্মাণ করা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছেন।

বড় ছেলে আসাদ খান মুনির জানান, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ম মাফিক ভাগাভাগি হলেও নিজের অংশ নিয়ে তার ছোটভাই কাস্টমস ইন্সপেক্টর আবদুর রউফ শুরু থেকেই সংক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জেরে সম্প্রতি তিনি বাবার কবরের প্রাচীরের ওপর থেকে প্রাচীর তুলে শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সবাই বাধা দিলেও রউফ তাতে কর্ণপাত করেননি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে-তার পরিবারের সদস্যরা এই তথ্য জানালে রোববার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি কবরের ওপর তোলা টয়লেটের প্রাচীর ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দেন। সন্ধ্যায় স্থানীয়রা প্রাচীরটি ভেঙে ফেলেছেন।

ভিডিওটি দেখুন

মুক্তিযোদ্ধা বাবার কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া আবদুর রউফ দাবি করেন, জমি-জমা ভাগাভাগির সময় কবরের জায়গাটা তার ভাগেই পড়েছে। কিন্তু তিনি কবর দখল করে কিছু করছেন না। সমস্যা যা হয়েছিলো তা স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ আর মুক্তিযোদ্ধারা রোববার সন্ধ্যায় সমাধান করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

জাতীয় দলে জায়গা পাব কিনা এসব নিয়ে আর ভাবতে চাই না : ইমরুল কায়েস

অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাইরে আছেন ইমরুল কায়েস। বিশ্বকাপে দলে জায়গা পাননি তিনি। এরপর জাতীয় দল বেশ কয়েকটি সিরিজ খেললেও দলে ডাক পাননি ইমরুল।

মাঝে দলে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পারিবারিক কারণে ছুটি নেন তিনি। এদিকে চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি ইমরুলের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

আর দারুণ এই ইনিংস খেলে ইমরুল জানিয়েছেন দলে ফেরা নিয়ে তিনি আর এখন চিন্তা করেন না। তিনি বলেন, ‘রান করলে নিজের ভালো লাগে। জাতীয় দলে জায়গা পাব কিনা এসব নিয়ে আর ভাবতে চাই না। চিন্তাও করি না। আগে চিন্তা করতাম, রান না করলে বাদ পড়ে যাবো, এসব টেনশন আর আসে না। হলে হবে, না হলে নেই। আমার কাজ আমি করে যাই।’

ইকুয়োডেরকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিল মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা!

বল পায়ে লিওনেল মেসির পায়ের জাদুর কথা সবারেই জানার কথা। তবে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা দলের কথা যে ভাবেই হয়না। তবে এবার সেই মেসি, আগুয়েরোবিহীন আর্জেন্টিনা দল যে এবার ইকুয়েডেরকে উড়িয়ে দিলো ৬-১ গোলেই। আর এমন জয়ে আর্জেন্টিনা পুরো দলের অবদানের কথা যেন বলাই যায়।

এই আর্জেন্টিনা দলেই যেন ২-২ গোলে ড্র করে জার্মানির বিপক্ষে। জার্মানির বিপক্ষে ড্র করা আর্জেন্টিনা এই ইউং দল এবার যে ইকুয়েডুরের বিপক্ষেই যে পরপর ৩ গোল করলো। আর এই ম্যাচে প্রথম গোলটি করেন আলারিও। ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় এই গোলটি করেন তিনি। এই ম্যাচে কর্ণার থেকেই হেডে গোল করেন তিনি।

এরপরেই পরপর ১২ মিনিটের ব্যবধানে হয় আরো দুইটি গোল। ইকুয়েডুরের নিজদের গোল নিজেরাকরেন হুয়ান। আর ৩য় গোলটি আর্জেন্টিনার হয়ে করেন পারদেজ। হাফ টাইমের পরেই ৬৬ মিনিটে গোল করেন পেজ্জেল। এরপরের গোলটি করেন ডমিনেজ। আর ৮৬ মিনিটে গোল করেন অকাম্পেস। এরপরের কিছু সময় ইকুয়োডের কাউন্টার অ্যাটাক চালালেও তারা ম্যাচ জিততে পারেনি। ফলে আর্জেন্টিনা দল ম্যাচটি জিতে ৬-১ গোলেই।

আবরারের পরিবারের জন্য ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রিট!

নির্মম নি’র্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে।

রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় শাহিন বাবু নামের এক আইনজীবী এই রিট করেন।

রিটে আবরার ফাহাদের মর্মান্তিক ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং আবরারের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানান রিটের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম ফায়েজ।

বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে গত রবিবার রাতে পিটিয়ে নির্মমভাবে হ’ত্যা করা হয়। পরে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করলে একটি হ’ত্যা মামলা করা হয়। আবরার হ’ত্যাকাণ্ডের এজাহারনামীয় ১৯ জনকেই গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এছাড়াও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও চারজনকে আটক করে ডিবি।

৪ বছর পর জাতীয় লীগে ফিরেই ম্যাচ সেরা মাহমুদউল্লাহ

৪ বছর পর জাতী ক্রিকেট লীগে ফিরেই ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচসেরা হয়েছেন অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে ঢাকা মেট্রোর হয়ে প্রথম ইনিংস বল হাতে ২৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ফিরিয়ে দেন তামিম, মমিনুল ও সাদিকুরকে।

এরপর প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে খেলেছেন ১৩৪ বলে ৬৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসেও বল হাতে ১৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

এবারও তামিম, মুমিনুলকে আউট করে হ্যাটট্রিকেরও সম্ভাবনা জাগান রিয়াদ। শেষ পর্যন্ত সেটি অবশ্য হয়নি। ফিরিয়ে দেন অর্ধশতক করা পিনাক ঘোষকেও।

নববধূকে তালাক দিয়ে বিয়ে করলেন শাশুড়িকে!

ধুমধাম করে মাত্র ১১ দিন আগে বিয়ে হয়েছিল ১৯ বয়সে তরুণীর। শ্বশুরবাড়িতে এক সপ্তাহ থাকার পর বাবার বাড়ি ফিরে আসে গত শুক্রবার। এরপর ১২ অক্টোবর শনিবার বিকেলেই ভাঙ্গে তার ঘর। বর মোনছের আলী (৩২) শ্বশুর বাড়ি এসে নববধূ ওই তরুণীকে তালাক দিয়ে শাশুড়ি মাজেদা বেগমকে (৪০) বিয়ে করেন। দুদিন আগের শাশুড়ি মাজেদা এখন মোনছের আলীর ঘরণী। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কড়িয়াটাআটা গ্রামে।

এ ব্যাপারে জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার হাজরাবাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর পুত্র মোনছের আলী গত ২ অক্টোবর গোপালপুর উপজেলার কড়িয়াটা গ্রামের ওই তরুণীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরদিন শাশুড়ি মাজেদা বেগম মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। মেয়ের সঙ্গে এক সপ্তাহ বেয়াই বাড়ি থাকার পর গত শুক্রবার বর-কনেসহ নিজ বাড়ি ফেরেন।

এরপর গতকাল শনিবার সকালে কোনো এক কারণে নূরন্নাহার বরের সংসার করবেন না বলে জানান। শুরু হয় পারিবারিক কলহ। এ সময় শাশুড়ি মাজেদা বেগম নতুন জামাতার সংসার করবেন বলে জানান। এমতাবস্থায় অসহায় শ্বশুর মাজেদা বেগমের স্বামী গ্রাম্য সালিশ ডাকেন। হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্যরা বৈঠকে বসেন। সামাজিক বিচারে মাজেদা বেগম ও মোনছের আলীকে লাঞ্ছিত করা হয়।

এরপর পুরো পরিবারের সম্মতিতে স্ত্রী মাজেদা বেগমকে তালাক দেওয়া হয়। পরে বর মোনছের আলী নববধূ ওই তরুণীকে দেন। এরপর একই অনুষ্ঠানের সবার উপস্থিতিতে মোনছের আলীর সঙ্গে মাজেদা বেগমের এক লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়। এই কাজ গুলো সম্পন্ন করেন হাদিরা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী জিনাত।

এ ব্যাপারে কাজী জানান, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, গ্রাম্য মাতব্বর এবং ওই পরিবারের সকল সদস্যের সম্মতিতে দুটি তালাক এবং একটি বিয়ের কাজ একই অনুষ্ঠানে সম্পাদন করা হয়।

এ বিষয়ে ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, পুরো কাজটি হয়েছে ওই পরিবারের সম্মতিতে। তবে শাশুড়ি বিয়ে করার ঘটনায় আপত্তি থাকায় গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে মোনছের ও মাজেদাকে শাস্তি দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার জানান, শাশুড়ি বিয়ের খবরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাড়ি ঘেরাও করে মারপিট শুরু করেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান।

এদিকে সংসার না করার কারণ জানতে চাইলে ওই তরুণী জানান, মা এমনটা করবে, ভাবিনি। বিয়ের সময় বাবা বেশ কিছু যৌতুক দিয়েছিলেন। সে গুলো আমাকে ফেরত দেওয়া হোক। নচেৎ আমি আইনের আশ্রয় নেবো বলে জানান তরুণী।

আর ঢাকায় পড়তে চায় না আবরারের ছোট ভাই

বুয়েটে হত্যাকাণ্ডের শিকার আবরার ফাহাদের একমাত্র ছোট ভাই আবরার ফায়াজ আর ঢাকায় পড়বে না। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছে ফায়াজ নিজেই।

আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফায়াজ বলেছে, ভাইকে হারিয়ে সে একা হয়ে পড়েছে।

আবরার ফায়াজ বলে, ‘আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল। ও ছিল আমার অভিভাবক। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক এমন ছিল যে মা–বাবার কথা তেমন মনেই হতো না।’

আবরার ফাহাদ যেদিন (রোববার) কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কের বাড়ি থেকে চলে যান, সেদিন সকালে ঘুমিয়ে ছিলেন জানিয়ে ফায়াজ বলেন, ‘ভাই যাওয়ার সময় মা ডেকেছিল। কিন্তু শুয়েই ছিলাম। তারপরও ভাই বলল, তাড়াতাড়ি ঢাকায় চলে আসবি। এটাই ছিল ভাইয়ের সঙ্গে আমার শেষ কথা ও দেখা।’

পড়াশোনার বিষয়ে ফায়াজ বলে, ‘কলেজে (ঢাকা কলেজ) আর যাব না। কোনো ভয় না, আসলে সত্যি কথা যেটা, ঢাকাতে নিয়ে যাওয়া-ভর্তি, সব ছিল ভাইয়ের ইচ্ছায়। ও সব কেয়ার করত। রুমে পানি না থাকলে ভাইই দিত। ও–নেই, সেখানে কী করে থাকব।’

ফায়াজ আরও বলে, ‘ভাই ছিল, দুজন ছিলাম। এখন একা। ঢাকা আর না, কুষ্টিয়াতে পড়াশোনা করব। এটাই পরিকল্পনা।’

নিচের ভিডিওটি মিস করেন নি তো?
লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন