মুসলিম হয়ে ইসলামের বদনাম করছেন নুসরাত জাহান

বর্তমানে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত জাহান এবার দুর্গাপূজায় মহাষ্টমীতে স্বামীর সঙ্গে পূজামণ্ডপে গিয়ে ঢাক বাজান এবং অঞ্জলি দেন। একজন মুসলিম হয়ে পূজায় অংশ নেয়ায় ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের পণ্ডিত মুফতি আসাদ কাশমী বলেছেন, ‘ইসলামের বদনাম করছেন নুসরাত।’

এ সময় মুফতি আসাদ কাশমী বলেছেন, ‘এটা নতুন কিছু নয়। তিনি হিন্দু দেবতাকে পূজা দিচ্ছেন, যদিও মুসলিমদের প্রতি নির্দেশ আছে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো উপাসনা করা যাবে না। তাকে বলতে চাই যে এটা ইসলামে হারাম এবং তিনি হারাম কাজ করেছেন।’

এ সময় মুফতি আসাদ কাশমী আরও বলেছেন, ‘তিনি অন্য ধর্মের মানুষকে বিয়ে করেছেন। নুসরাতের উচিত ধর্ম এবং নাম বদলে ফেলা। কারণ, তার মতো মানুষের জন্য ইসলামে যায়গা নেই।’

জানা যায়, গত রবিবার শাড়ি, সিঁদুর এবং মঙ্গলসূত্র পরে স্বামী নিখিল জৈনের সঙ্গে দুর্গা পূজায় অংশ নিয়েছেন নুসরাত জাহান। মণ্ডপে চোখ বন্ধ রেখে হাতজোড় করে অঞ্জলির মন্ত্রপাঠ ও প্রার্থনা করেন নুসরাত। এরপর তিনি স্বামীর সঙ্গে ঢাক বাজান এবং নাচেন।

এরপর সাংবাদিকদেরকে নুসরাত বলেন, ‘তিনি বাঙ্গালিদের শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছে। এই উৎসবে অংশ নিতে তিনি পছন্দ করেন। সমালোচনা নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না।’ খবরঃ ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস।

শেষ ওভারের লড়াইয়ে হেরে গেল বাংলাদেশ

৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। আজ চতুর্থ ম্যাচেও সেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার মিশনে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ ওভারে গিয়ে হেরে যায় টাইগাররা।

আজ দুই দলের মধ্যকার চতুর্থ ম্যাচে বাংলাদেশকে চার উইকেটে হারায় প্রোটিয়া যুব দল।

এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ২৯৫ রানের বড় সংগ্রহ দাড় করায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের চার তারকা পৌছান অর্ধশতকে। আকবর আলী, পারভেজ হোসেন ইমন, তৌহিদ হৃদয় ও তানজিদ হাসান করেন অর্ধশতক।

উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ ও ইমন যোগ করেন ৭১ রান। ৪৪ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তানজিদ বিদায় নিলে হাল ধরেন ইমন। তাকে সঙ্গ দেন হৃদয়।

ইমন ৫৫ রান করে বিদায় নিলে ক্রিজে আসেন আকবর আলী। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১০৪ রানের জুটি গড়েন তিনি ইমনের সাথে। ৪৪ বলে ৬৬ রানের মারকুটে এক ইনিংস খেলে আকবর বিদায় নেন।

আকবরের বিদায়ের পর দ্রুতই আউট হতে থাকে বাকিরা। এরমধ্যে হৃদয় আউট হন ৭৩ রান করে। তবে শেষ পর্যন্ত ২৯৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

জবাব দিতে নেমে শেষ ওভারে গিয়ে ম্যাচটি জিতে নিউজিল্যান্ড। এই জয়ে বড় অবদান রাখেন লেলম্যান ও ট্যাশকফ। লেলম্যান ৭৬ রান করে আউট হন। তবে ট্যাশকফ ৬৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া হোয়াইট ৪৫ রান করেন।

নির্যাতনে অংশ নেন ২২ জন, মুখ চেপে ধরায় চিৎকার করতে পারেনি আবরার!

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের ছাত্র আরবারকে গত রবিবার রাতে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় বুয়েট শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে আরবার ব্যস্ত ছিলেন পড়ালেখায়। রাত ৮টার দিকে আবরার ফাহাদকে ওই হলের দোতলার ২০১১ নম্বর টর্চার সেলে ডেকে নিয়ে হুমকি দিতে শুরু করেন বুয়েট ছাত্রলীগের নেতারা। এ পর্যায়ে ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার আবরারের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হকি স্টিক দিয়ে পেটাতে শুরু করেন।

এ সময় সেখানে অবস্থান করা সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিনও আরেকটি হকি স্টিক নিয়ে আবরারকে পেটানোতে অংশ নেন। ওই সময় ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন আবরারের হাত ধরে রাখেন। আর আবরারের পায়ে পেটাতে থাকেন উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল।

সদস্য মুনতাসির আল জেমি, মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইশতিয়াক মুন্নাও নির্দয়ভাবে পেটাতে শুরু করেন আবরারকে।

এ সময় কেউ হকি স্টিক দিয়ে, কেউ লাঠি দিয়ে, কেউ বা কিল-ঘুষি দিয়ে ইচ্ছামতো আবরারকে পেটানোতে অংশ নেন। এভাবে ২২ জন অংশ নেন এই ভয়ঙ্কর নির্যাতনে। আবরার একটু চিৎকার বা কাঁদতেও পারেননি। কারণ তখন তার মুখ চেপে ধরা হয়েছিল।

ওই অবস্থার মধ্যেই টর্চার সেলে প্রবেশ করেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ। তারাও অপেক্ষা না করে নিস্তেজ প্রায় আবরারকে পেটাতে শুরু করেন। এভাবেই একপর্যায়ে আবরার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাদের গ্রেফতার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন ভয়ংকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।

এ ব্যাপারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত ও ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা ভিডিও ফুটেজে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৯ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, মা হিসেবে এর বিচার করবঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হত্যার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের ক্যাম্পাসে যাওয়া উচিত ছিল।

৮ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ভিসির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘উনি কেমন ভিসি? একটা ছাত্র মারা গেল, আর তিনি এতটা সময় বাইরে ছিলেন? আবরারের জানাজায়ও তার অংশ নেয়া উচিত ছিল।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এর সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে। কাউকে একচুলও ছাড় দেয়া হবে না। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, আমি একজন মা হিসেবে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন নানা রকম উসকানি দেয়া হবে কিন্তু কোনো ফাঁদে পা দেয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখনই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। অনেকে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। আমি ফুজেটগুলো সংরক্ষণ করতে বলেছি। আমরা ব্যবস্থা তো নিচ্ছি। নিজ দলের বলে কাউকে তো ছাড় দিচ্ছি না। তার পরও কিছু মানুষ ও কিছু সংগঠন আছে, যারা সরকারের ভালো কিছু চোখেই দেখে না। সবসময় তারা নেগেটিভ বিষয় খোঁজার চেষ্টা করে।’

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সূত্র জানায়, ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মর্মাহত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ও তো বাচ্চা ছেলে, মাত্র ২১ বছর বয়স। ওর ভিন্নমত থাকতেই পারে। তাই তাকে এমন নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে? যারা মেরেছে তারাও তো একই ক্লাসে পড়ে? কিভাবে এটা সম্ভব?

তিনি বলেন, ‘বন্ধু হয়ে বন্ধুকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে? একটু মায়া লাগেনি? ও (আরবাব) মোংলা বন্দরের কথা বলেছে, আসলে সে সময় তো মোংলা বন্দর ছিল না। ছিল চালনা বন্দর। ও ছোট মানুষ। তার ভিন্নমত থাকতেই পারে। কিন্তু এভাবে মারতে হবে? এটা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ভারত নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলা হচ্ছে।’

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন