বৃদ্ধ দাদা জানেন না তার প্রিয় নাতি আবরার আর নেই!

আবদুল গফুর বিশ্বাস। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের ৮৭ বছর বয়স্ক এই বৃদ্ধ বুয়েট ছাত্রলীগের নির্মমতার বলি হওয়া শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের দাদা। বয়সের ভারে স্মৃতিশক্তি লোপ পেলেও আবরারকে নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছে সেটি তিনি বুঝতে পেরেছেন।

সোমবার বাড়িতে সাংবাদিকদের আনাগোনা দেখে কৌতুহলী আব্দুল গফুর বিশ্বাস জানতে চান কী হয়েছে? পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সত্য আড়াল করে তাকে জানানো হয়, আবরার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং এখন ভালো আছেন। আগামীকাল আবরার বাড়িতে ফিরবে।

সত্য বড় নির্মম! আবরার বাড়ি ফিরেছেন বটেই কিন্তু এ ফেরাই শেষ ফেরা। আর কখনো বুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরে যাবেন না, দাদা বলে ডাকবেন না আবদুল গফুর বিশ্বাসকে। এই ধ্রুব সত্য কথা তাকে জানানোর ভাষা কেউই যেন খুঁজে পাচ্ছে না।

যমুনা টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মাহাতাব উদ্দিন লালনের একটি প্রতিবেদনে দাদাকে তার প্রিয় নাতির মৃত্যুর খবর না জানানোর খবর উঠে এসেছে।

বৃদ্ধ আব্দুল গফুর বিশ্বাসের ৫ ছেলে চাকুরির সুবাদে বাড়ির বাইরে থাকেন। একসাথে এত লোক কখনও তাদের বাড়িতে আসেন না। অনেকে কান্নাকাটি করছেন, অনেকেই ভারাক্রান্ত। সব মিলিয়ে অজানা শঙ্কা আবদুল গফুরের মনে।

মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে আবরার ফাহাদের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স যখন তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালো তখনো আব্দুল গফুর বিশ্বাসকে কিছুই জানানো হয়নি। তাকে সবকিছুর আড়ালে রাখার একটা প্রচেষ্টা পরিবার-পরিজনদের। একসাথে এতো আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী আর গ্রামের লোকজনকে দেখে সবার কাছে জানতে চান কী হয়েছে? অনেকেই কথা দিয়ে এটা সেটা বোঝানোর চেষ্টা করছেন, অনেকে আবার পাশ কাটিয়ে নীরবে চলে যাচ্ছেন।

গতকাল ব্যাকুল হয়ে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চাইলেন, তোমরা না গত কালকে বললা আমার নাতি এক্সিডেন্ট করেছে? আজকে বাড়ি আসবে। আমার নাতি বাড়িতে আসছে না কেন, আর আমার বাড়িতে এতো লোকজন কেনো? কিছু প্রশ্নের উত্তর হয় না। নির্বাক দর্শকদের ভূমিকা পালন করা ছাড়া খুব বেশি কিছু করা সম্ভব হয়নি।

শুধু রায়ডাঙ্গা না, কুষ্টিয়া না, সারাদেশে যখন আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে, দেশি-বিদেশি মিডিয়াগুলো ফলাও করে আবরারকে ন্যাক্কারজনকভাবে হত্যার সংবাদ পরিবেশন করছে, তখনো দাদা আবদুল গফুর বিশ্বাস আজানা শঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করে আছেন, মেধাবী নাতি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে…

আব্দুল গফুর বিশ্বাসের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আবরার তাকে নিয়মিত দেখতে আসে কিনা। তিনি বলেছিলেন, ছুটিতে বাড়িতে আসলেই গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসতো আবরার। খোঁজখবরও নিতো। মেধাবী নাতিকে নিয়ে গর্বিত এই বৃদ্ধ জীবনের শেষলগ্নে এসেও স্বপ্ন দেখেন তার নাতি অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে। পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। যদিও তার এবং পরিবারের একসময় চাওয়া ছিল আবরার ডাক্তার হবে।

কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছিলেন আবরার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন। কিন্তু, নিজের ইচ্ছাতেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। অত্যন্ত মেধাবী আবরার ফাহাদের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশিরা। আর বৃদ্ধ দাদা তো প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন- নাতি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। যে প্রতীক্ষার কোনো শেষ নেই…

আবরার ফাহাদের খুনিরা ‘মাতাল’ ছিল, ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির দাবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতারা ঘটনার সময় ‘মাতাল’ ছিল বলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে করা তদন্তে দাবি করা হয়েছে।

গত রবিবার রাতে বুয়েটের শেরাবাংলা হলে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারকে একটি কক্ষে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১১ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি।

হত্যাকাণ্ডের পর পরই ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর দায়িত্বে ছিলেন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার। তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। তাঁরা নির্দিষ্ট সময়েই প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এই প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের সময় হল প্রশাসনের ‘দায়িত্বহীনতা ও নির্লিপ্ত’ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্য ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ গতকাল মঙ্গলবার এনটিভি অনলাইনকে বলেন, কমিটি করার পর আমরা তৎক্ষণাৎ সেখানে যাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বে যারা আছেন সবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তার আগেই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেই।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, ‘সেদিন রাতে যারা এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন তাঁরা এর আগে দুর্গাপূজা দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা মদপান করেছিলেন। সবাই মাতাল ছিলেন। তাদের মধ্যে মানবিকতা বলে কিছুই ছিল না। সেখান থেকে এসে তাঁরা একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আবরারকে তাঁর ১০১১ নম্বর রুম থেকে ২০১১ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে যায় এবং তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আবরারের মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটে।’

ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরো দাবি করেন, ‘আবরারকে নির্যাতনের সময় ওই কক্ষে তিন থেকে চারজন শিক্ষার্থী থাকলেও অন্যান্য রুমের কিছু লোক এই নির্যাতনে অংশ নেয়।’

নির্যাতনের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে আবরার মোবাইলে তাঁর বন্ধু ও সহপাঠীদের সাহায্য চেয়েছিলেন বলেও ছাত্রলীগের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয়, ‘কিন্তু কারো সাড়া পাননি আবরার ফাহাদ।’

ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির নেতা আরো বলেন, ‘তদন্তে আরো পেয়েছি, ওই রাতে বার্সেলোনার খেলা ছিল। পূজা থেকে এসে আবরারকে শারীরিক নির্যাতনের পর তাঁরা বার্সেলোনার খেলা দেখতে চলে গিয়েছিলেন।’

‘আবরার এই ফাঁকে তাঁর এক বন্ধুকে ফোন করে তাঁকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বন্ধু তাঁকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেননি। যদি তাঁর বন্ধুরা এগিয়ে আসত তাহলে হয়তো এমন একটি অপমৃত্যুর মতো ঘটনা নাও ঘটতে পারত’, যোগ করেন ইয়াজ আল রিয়াদ।

হল প্রশাসনের দায়

হলের কক্ষের মধ্যে অন্য ছাত্রদের হাতে নির্যাতিত হয়ে আবরারের মৃত্যুর জন্য প্রশাসনের ‘দায়িত্বহীনতা ও নির্লিপ্ততাকে’ও দায়ী করেছেন ছাত্রলীগ নেতা ইয়াজ আল রিয়াদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘হলের মধ্যে রাতভর একটা ছাত্রকে নির্যাতন করা হলেও প্রশাসন কেন বিষয়টি জানতে পারল না? হলের প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষকরা তাহলে কী দায়িত্ব পালন করলেন?’

এই ঘটনায় প্রশাসন ‘দায়িত্বহীনতার’ পরিচয় দিয়েছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই বলেও মন্তব্য করেন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। তিনি আরো বলেন, হল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এর দায়ভার এড়াতে পারে না।’

তাছাড়া ফেইসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারো মত প্রকাশে ছাত্রলীগ বাধা দিতে পারে না বলেও মনে করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির এই সহ-সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ কখনও কারো ব্যক্তিগত মত প্রকাশে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে না। এমনটি করার অধিকারও নেই। যার যার মত তিনি প্রকাশ করবেন। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের কারোর মত প্রকাশের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।’

ছাত্রলীগের কেউ যদি কারো মত প্রকাশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অপকর্ম করে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ইয়াজ আল রিয়াদ। তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগ একটি বৃহত্তর সংগঠন, ছাত্রলীগ কাউকে মারতে বলে না। যে কোনো ভালো কাজ ছাত্রলীগ সমর্থন করে। যদি কেউ ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কোনো অপরাধ করে তার দায়ভার তাঁকেই নিতে হবে।

আবরার মারা গেছে, আমি ওই দফায় বেঁচে ফিরেছি!

12বুয়েটের ও এ বি এর দোতলায় মেকানিক্যাল ড্রয়িং কুইজ দেয়া শেষ হওয়া মাত্রই পরীক্ষার রুম থেকে তন্ময়, আরাফাত, শুভ্র জ্যোতি টিকাদারদের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ছাত্রলীগের ছেলে শিক্ষকের সামনে থেকে তুলে নিয়ে আহসানউল্লাহ হলের তখনকার টর্চার সেল ৩১৯ নম্বর রুমে নির্যাতন করে। আমি কারো সাথে যেখানে রাগারাগি পর্যন্ত করতাম না, কারো সাথে কখনোই সম্পর্ক খারাপ পর্যন্ত যেখানে ছিল না, শুধুমাত্র ফেইসবুকে সরকারি নীতির সমালোচনা করে পোস্টের কারণে বুয়েটের মত একটা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ আমার সাথে এমন আচরণ করে।

এর ৬ দিন আগে সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার(‘০৯) ও কাজল(‘০৯) ল্যাব থেকে আমাকে ধরতে এসে ব্যর্থ হয়ে পরীক্ষার রুম থেকে আমাকে একা ধরতে ওরা ৮-১০ জন প্রস্তুতি নিয়ে আসে! বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা ৩০! বদ্ধ রুমে আমার পিঠের ওপর লোহা দিয়ে ‘১০ ব্যাচের এক ভাই প্রধানত তার শক্তি পরীক্ষা করে।

এর কতদিন আগে কোনো একটা নামাজ মিস দিয়েছি ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু সেদিন তারা আসর আর মাগরিব নামাজ পর্যন্ত পড়ার সুযোগ দেয়নি।
সারাজীবন একটি মাত্র স্বপ্ন দেখেছিলাম- বুয়েটে পড়বো। বুয়েটের ছাত্রদের ভাবতাম আদর্শ। অথচ সেখানেও এমন হবে- জানা ছিল না।

ভর্তি পরীক্ষার সময় গুরুজনেরা বলতেন- দোয়া কর, যেখানে তোমার জন্য কল্যাণ, আল্লাহ যেন সেখানেই তোমাকে চান্স পাইয়ে দেন। আর বুয়েটের অন্ধপ্রেমিক এই আমি দোয়া করতাম- আল্লাহ, বুয়েটেই আমার কল্যাণ দাও।

আসলে বুয়েটে পড়ার প্রথম ইচ্ছে হয়েছিল ক্লাস ফাইভে, বাবা বলেছিলেন- ছেলেকে বুয়েটে পড়াতে চাই, সেই থেকে। ভার্সিটি এডমিশনের সময় বাবা অন্য ভার্সিটিগুলোর ফর্ম নিতে দিচ্ছিলেন না, বলছিলেন- ওসবে কালো রাজনীতি ছেয়ে গেছে, বুয়েটেই চান্স পেতে হবে, ওখানেই পড়তে হবে, ওখানে কালো রাজনীতি নেই। জানি, তুমি পারবা।

পরবর্তীতে আমার বাবা আমার ওপর নির্যাতন দেখে ডুকরে কেঁদেছেন। আমি হাসিমুখে বলেছি- সব ঠিক হবে, আল্লাহ ভরসা, কোনো অন্যায় করিনি, আমার আল্লাহ সাক্ষী, আল্লাহই এর প্রতিদান দেবেন।

মায়ের কান্নাজড়িত চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলার ছিল না, মনে মনে ভেবেছি- “আর কেউ না জানুক তুমি তো জানো মা, তোমার ছেলে কেমন।”

এত নির্যাতনের পর আবার আমাকেই উল্টো পুলিশে দেয়ার জন্য পুলিশ ডেকে আনে। কিছু শিক্ষক অনেক চেষ্টা করে আর অনেক অপমান সহ্য করেও তাদের থেকে বাঁচিয়ে নেন।

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক দেলোয়ার স্যারকে পরে অভিযোগ জানালে উনি বলেন, ওদের সাথে তাল মিলিয়ে চল না কেন? হায়রে! সেদিন চ্যালেঞ্জ করেছিলাম স্যারকে- এ রকম শুধু আমাকেই না, আরো ১৭টি নির্যাতনের ঘটনা কিছুদিনেই ঘটেছে। অথচ যারা ভুক্তভোগী তাদের বিরুদ্ধে একটা মাত্র বুয়েটের শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা কারো সাথে ঝামেলার ঘটনার প্রমাণ দেন। আর যারা নির্যাতন করছে- তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কত গুণ্ডামির প্রমাণ লাগে বলুন।

আল্লাহ তুমি সাক্ষী…আমার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগ ওরা প্রমাণ করতে পারেনি। কিন্তু আমার এই ছবিগুলো তখনই প্রচার হয় বলে ওরা এতে ব্যাপক ক্ষেপে যায়। পাশাপাশি বুয়েট শিক্ষক সমিতি এর বিচারের দাবি জানিয়ে লিখিত বিবৃতি দিয়েছিল। আমাকে ওরা এজন্য ক্যাম্পাসেই ঢুকতে দিতো না, মৃত্যুর হুমকি দিতো। এসব দেখে অন্য নির্যাতিত আরও অসংখ্য ছাত্র নির্যাতিত হলেও প্রকাশ করতো না। নইলে বুয়েটে পড়াশোনা কন্টিনিউ করাই সম্ভব হবে না ওদের।

সেদিন দলকানা ছাত্রকল্যাণ পরিচালক চরম অসহযোগিতা করেছেন। পক্ষান্তরে নিরপেক্ষ শিক্ষকেরা অপমান সহ্য করেও আমাকে উদ্ধার করেছেন। দলকানা শিক্ষকেরা সব সময় স্বার্থবাদী হয়। আমি জীবন নিয়ে ফিরতে পারলেও আবরার জীবন দিল। এভাবে অপরাজনীতির শিকার আরও কত জীবন হবে তা ভাবা অসম্ভব।

এসব অপরাজনীতি থাকলে ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরবেই। তাই নির্যাতিত ছাত্র হিসেবে দাবি জানাই- ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হোক, ছাত্র এবং শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক।

আমি বুয়েটিয়ান হিসেবে লজ্জিত নই, লজ্জা তাদেরই পাওয়া উচিত, যারা অন্যায় করেছে অথবা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। ভালোবাসি বুয়েট, ভালোবাসি বাংলাদেশ।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক:মো. আনামুল হক (ইমন), সাবেক শিক্ষার্থী, বুয়েট

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন