মিরপুরকে আমি ভালোবাসি, কেননা এটা আমার জন্মস্থানঃ আদিল রশিদ

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলের সদস্য ছিলেন আদিল রশিদ। বল হাতে একের পর এক ম্যাজিক দেখাতে প্রস্তুত তিনি। এই আদিলের জন্মেই হয়েছিলো পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীরে।

এবার সেই কাশ্মীরকেই যেন ভালোভাবে মনে করছেন রশিদ। এই ব্যাপারে তিনি বলেন ,’ ‘মিরপুরের প্রতি আমার বিশেষ ভালোবাসা আছে- আমার বাবা-মা এখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এখানের মানুষের প্রতি কিছু করার ইচ্ছা আমার অনেক আগে থেকেই ছিল। তাদের বিপদের মুহূর্তে পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এটা আমার জন্মস্থান, তাই এখানের প্রতি আলাদা ভালোবাসা আছে আমার।’

উল্লেখ্য যে ,’ কিছুদিন আগে পাকিস্তানের কাশ্মীরের মিরপুর অঞ্চলে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এতে প্রান হারায় ৩৭ জন মানুষ।

আবরার হত্যার বিচার চাইলেন অভিযুক্ত আসামি মুন্নার মা!

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবি করেছেন আসামি ইশতিয়াক আহমেদ মুন্নার মা। মুন্না ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক।

মুন্নার মা কুলসুমা আক্তার শেলি দাবি করেন, তার ছেলে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। কারণ সেদিন রাতে মুন্না তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ঘরগাঁও গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে রাত সাড়ে ১১টায় মুন্না বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

মুন্নার মা আরও বলেন, মুন্নাকে পুলিশ আটক করেছে সন্দেহজনকভাবে। এমন বর্বর হত্যার সঙ্গে মুন্নার জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। আমি এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করছি।
এদিকে আবরার হত্যায় মুন্না জড়িত থাকার বিষয়টি গ্রামের বাড়ি চুনারুঘাটে জানাজানি হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই তাকে চুনারুঘাটের কলঙ্ক বলে আখ্যায়িত করেছেন।

মোসাদ্দেক ছাড়িয়ে গেলেন স্টিভ স্মিথ-রোহিত শর্মাকেও!

ব্যাট হাতে ফার্স্ট-ক্লাসে এক প্রকার তান্ডব দেখিয়েই জাতীয় দলে চান্স পান মোসাদ্দেক। তার গড়া সেই রেকর্ড। যেন ফার্স্ট ক্লাসেও ভালোভাবে রেডি করা আছে।

তার করা সেই রেকর্ডে তিনি যেন ছাড়িয়ে গিয়েছেন স্টিভেন স্মিথ-রোহিত শর্মাকেও। ফার্স্ট ক্লাসে তার যে সবচেয়ে বেশি এভারেজ বর্তমানে এক্টিভ থাকা পেলায়রদের মধ্যে। এমন একটিই প্রতিবেদন তৈরী করেছেন ক্রিকইংফি। সেইখানে দেখানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

মোসাদ্দেকের এবারেজ যেখানে ৫৯ দশমিক ৮৬ সেইখানে তারপরেই আছেন বিহারী। তার এভারেজ ৫৯ দশমিক ৮২। স্টিভেন স্মিথে ৫৯ এবং রোহিত শর্মার ৫৫।

ইলিশের কেজি ৩শ টাকা, ইলিশ কিনতে মানুষের হুমড়ি খাওয়া ভিড়!

ইলিশ মাছ পটুয়াখালীর বাউফলে ৩ থেকে ৪ শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ এই মাছ কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে উপজেলার কালাইয়া বন্দও, বগীর খাল, নিমদী লঞ্চঘাট, বাদামতলী, শিকদারের বাজার, ধুলিয়াসহ তেঁতুলীয়া পাড়ের বিভিন্ন হাট-বাজারে মাছ কেনায় এমনই ধুম লক্ষ্য করা যায়।

আজ রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে উপকূলীয় নদ-নদীতে শুরু হচ্ছে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। আর এ কারণেই সন্ধ্যা থেকে এসব বাজারের মাছ কেনায় জমেছে প্রচুর মানুষের ভিড়। দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকায় এক একজন কিনে নিচ্ছেন ৫-১০ কেজি বা তারও বেশি পরিমাণ ইলিশ মাছ।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস বয়াতি বলেন, ‘৩০ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ চলবে। তাই কম দর পেয়ে ৬ কেজি ইলিশ মাছ কিনেছি।’

কালাইয়া বন্দরের লঞ্চঘাট এলাকার আড়ৎদার বাদল বলেন, ‘মঙ্গলবার জাইল্যারা যে ইলিশ ধরছে, তা ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হয় নাই। ওই সব মাছই স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রির জন্য আনা হইছে। পর্যাপ্ত মাছ থাকনে কম দামে বিক্রি হইতেছে। এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হইতেছে ৩-৪ শ’ টাকায়।’

তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম আরও কমতে থাকবে বলেও জানান এই আড়ৎদার।

আবরার মারা গেছে, আমি ওই দফায় বেঁচে ফিরেছি!

12বুয়েটের ও এ বি এর দোতলায় মেকানিক্যাল ড্রয়িং কুইজ দেয়া শেষ হওয়া মাত্রই পরীক্ষার রুম থেকে তন্ময়, আরাফাত, শুভ্র জ্যোতি টিকাদারদের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ছাত্রলীগের ছেলে শিক্ষকের সামনে থেকে তুলে নিয়ে আহসানউল্লাহ হলের তখনকার টর্চার সেল ৩১৯ নম্বর রুমে নির্যাতন করে। আমি কারো সাথে যেখানে রাগারাগি পর্যন্ত করতাম না, কারো সাথে কখনোই সম্পর্ক খারাপ পর্যন্ত যেখানে ছিল না, শুধুমাত্র ফেইসবুকে সরকারি নীতির সমালোচনা করে পোস্টের কারণে বুয়েটের মত একটা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ আমার সাথে এমন আচরণ করে।

এর ৬ দিন আগে সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার(‘০৯) ও কাজল(‘০৯) ল্যাব থেকে আমাকে ধরতে এসে ব্যর্থ হয়ে পরীক্ষার রুম থেকে আমাকে একা ধরতে ওরা ৮-১০ জন প্রস্তুতি নিয়ে আসে! বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা ৩০! বদ্ধ রুমে আমার পিঠের ওপর লোহা দিয়ে ‘১০ ব্যাচের এক ভাই প্রধানত তার শক্তি পরীক্ষা করে।

এর কতদিন আগে কোনো একটা নামাজ মিস দিয়েছি ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু সেদিন তারা আসর আর মাগরিব নামাজ পর্যন্ত পড়ার সুযোগ দেয়নি।
সারাজীবন একটি মাত্র স্বপ্ন দেখেছিলাম- বুয়েটে পড়বো। বুয়েটের ছাত্রদের ভাবতাম আদর্শ। অথচ সেখানেও এমন হবে- জানা ছিল না।

ভর্তি পরীক্ষার সময় গুরুজনেরা বলতেন- দোয়া কর, যেখানে তোমার জন্য কল্যাণ, আল্লাহ যেন সেখানেই তোমাকে চান্স পাইয়ে দেন। আর বুয়েটের অন্ধপ্রেমিক এই আমি দোয়া করতাম- আল্লাহ, বুয়েটেই আমার কল্যাণ দাও।

আসলে বুয়েটে পড়ার প্রথম ইচ্ছে হয়েছিল ক্লাস ফাইভে, বাবা বলেছিলেন- ছেলেকে বুয়েটে পড়াতে চাই, সেই থেকে। ভার্সিটি এডমিশনের সময় বাবা অন্য ভার্সিটিগুলোর ফর্ম নিতে দিচ্ছিলেন না, বলছিলেন- ওসবে কালো রাজনীতি ছেয়ে গেছে, বুয়েটেই চান্স পেতে হবে, ওখানেই পড়তে হবে, ওখানে কালো রাজনীতি নেই। জানি, তুমি পারবা।

পরবর্তীতে আমার বাবা আমার ওপর নির্যাতন দেখে ডুকরে কেঁদেছেন। আমি হাসিমুখে বলেছি- সব ঠিক হবে, আল্লাহ ভরসা, কোনো অন্যায় করিনি, আমার আল্লাহ সাক্ষী, আল্লাহই এর প্রতিদান দেবেন।

মায়ের কান্নাজড়িত চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলার ছিল না, মনে মনে ভেবেছি- “আর কেউ না জানুক তুমি তো জানো মা, তোমার ছেলে কেমন।”

এত নির্যাতনের পর আবার আমাকেই উল্টো পুলিশে দেয়ার জন্য পুলিশ ডেকে আনে। কিছু শিক্ষক অনেক চেষ্টা করে আর অনেক অপমান সহ্য করেও তাদের থেকে বাঁচিয়ে নেন।

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক দেলোয়ার স্যারকে পরে অভিযোগ জানালে উনি বলেন, ওদের সাথে তাল মিলিয়ে চল না কেন? হায়রে! সেদিন চ্যালেঞ্জ করেছিলাম স্যারকে- এ রকম শুধু আমাকেই না, আরো ১৭টি নির্যাতনের ঘটনা কিছুদিনেই ঘটেছে। অথচ যারা ভুক্তভোগী তাদের বিরুদ্ধে একটা মাত্র বুয়েটের শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা কারো সাথে ঝামেলার ঘটনার প্রমাণ দেন। আর যারা নির্যাতন করছে- তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কত গুণ্ডামির প্রমাণ লাগে বলুন।

আল্লাহ তুমি সাক্ষী…আমার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগ ওরা প্রমাণ করতে পারেনি। কিন্তু আমার এই ছবিগুলো তখনই প্রচার হয় বলে ওরা এতে ব্যাপক ক্ষেপে যায়। পাশাপাশি বুয়েট শিক্ষক সমিতি এর বিচারের দাবি জানিয়ে লিখিত বিবৃতি দিয়েছিল। আমাকে ওরা এজন্য ক্যাম্পাসেই ঢুকতে দিতো না, মৃত্যুর হুমকি দিতো। এসব দেখে অন্য নির্যাতিত আরও অসংখ্য ছাত্র নির্যাতিত হলেও প্রকাশ করতো না। নইলে বুয়েটে পড়াশোনা কন্টিনিউ করাই সম্ভব হবে না ওদের।

সেদিন দলকানা ছাত্রকল্যাণ পরিচালক চরম অসহযোগিতা করেছেন। পক্ষান্তরে নিরপেক্ষ শিক্ষকেরা অপমান সহ্য করেও আমাকে উদ্ধার করেছেন। দলকানা শিক্ষকেরা সব সময় স্বার্থবাদী হয়। আমি জীবন নিয়ে ফিরতে পারলেও আবরার জীবন দিল। এভাবে অপরাজনীতির শিকার আরও কত জীবন হবে তা ভাবা অসম্ভব।

এসব অপরাজনীতি থাকলে ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরবেই। তাই নির্যাতিত ছাত্র হিসেবে দাবি জানাই- ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হোক, ছাত্র এবং শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক।

আমি বুয়েটিয়ান হিসেবে লজ্জিত নই, লজ্জা তাদেরই পাওয়া উচিত, যারা অন্যায় করেছে অথবা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। ভালোবাসি বুয়েট, ভালোবাসি বাংলাদেশ।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক:মো. আনামুল হক (ইমন), সাবেক শিক্ষার্থী, বুয়েট

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন