যুবকের হাত-পা বেঁধে মলমূত্র খাওয়ানো সেই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার!

বরিশালের হিজলা উপজেলায় আজম ব্যাপারী (২৫) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর প্রকাশ্যে মল-মূত্র খাওয়ানোর মূলহোতা যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে হিজলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার (৪৫) তার সহযোগী টুমচর এলাকার রশিদ মাতব্বর (৩৬) ও কবির হোসেন (৩৬)।

তবে ঘটনার নেপথ্যে থাকা নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারীর ব্যবসায়িক অংশীদার মো. জহির খান ও মল-মূত্র খাওয়ানোর দৃশ্য ধারণকারী মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদলকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারী হরিনাথপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার মহিউদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। ঘটনার পর লোকলজ্জায় এলাকা ছেড়েছেন আজম ব্যাপারী।

স্থানীয়রা জানান, জহির খান ও আজম ব্যাপারী দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রথমদিকে তারা জ্বালানি তেল কিনে বিক্রি করতেন হরিনাথপুর লঞ্চঘাটে। এরপর তারা জমির ব্যবসা শুরু করেন।

জমি ব্যবসায় তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। তবে আজম ব্যবসায়িক সমান অংশীদার হলেও জহির ওই টাকা একাই আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজম ব্যবসার লাভের অংশ চাইলে জহির তাকে টাকা দেবে না বলে হুমকি দেন। কিছুদিন আগে আজমকে মারধর করে এলাকা ছাড়া করেন জহির।

সম্প্রতি আজম এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় ব্যবসার লাভের টাকা দাবি করেন জহিরের কাছে। জহির এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজমকে শায়েস্তা করতে ফন্দি করেন। জহিরকে মারধর ও অপমান করতে হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার ও ইয়নিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদলকে টাকা দিয়ে ভাড়া করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আটদিন আগে আজমকে বাড়ি থেকে ডেকে তালতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যান মাহবুব সিকদার। সেখানে আগে থেকেই মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আজমের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করেন তারা। এরপর আজমের হাত-পা চেপে ধরেন মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা।

এ সময় মাহবুব সিকদার বদনাভর্তি মল-মূত্র আজমের মুখে ঢেলে তা খাওয়ান। মল-মূত্র খাওয়ানোর ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল। পরে আজমকে সেখানে ফেলে রেখে চলে যান তারা।

সোমবার মল-মূত্র খাওয়ানোর ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেন তারা। সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। প্রতিবাদের ঝড় বইতে শুরু করে। ঘটনার পর লোকলজ্জায় আজম ব্যাপারী এলাকা ছেড়ে চলে যান।

সোমবার রাতে বরিশাল জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজরে আসলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে হিজলা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার সকালে হিজলা থানা পুলিশ অভিযানে নামে। দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মল-মূত্র খাওয়ানোর মূলহোতা যুবলীগ নেতা মাহবুব সিকদারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আজম ব্যাপারীর স্বজনরা জানান, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারা ক্ষমতাসীন দলের লোক। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। পুলিশের সঙ্গে তাদের ওঠা-বসা। এ কারণে আজম থানায় অভিযোগ দিতে সাহস পায়নি। এছাড়া ঘটনার পর তারা আজমকে হুমকি দিয়ে বলেছেন বিষয়টি নিয়ে আইন আদালতে গেলে আজমকে হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়া হবে।

আজম ব্যাপারীর বাবা মহিউদ্দিন ব্যাপারী বলেন, আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ কারণে আজমকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানে অবস্থান করা আজমের জন্য নিরাপদ ছিল না। জহির টাকা দিয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এখন তারা বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে এলাকায় নানা কথা রটাচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অমানবিক। যত বিরোধই থাকুক এভাবে কেউ কাউকে অপমানিত করতে পারে, ভাবা যায় না। ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারীর বাবা মহিউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

সন্তান হারানোর শোকে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন আবরারের মা!

সন্তান হারানোর শোকে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বির মা রোকেয়া খাতুন। আহাজারি করতে করতে ছেলে হারানো এই মা বলে চলেছেন, আমার ছেলে কী আপরাধ করেছিলো? কিসের জন্য তারা আমার ছেলেকে এভাবে হ’ত্যা করলো? আমার ছেলে অনেক মেধাবী। সে কারও সঙ্গে উচ্চস্বরে কথাও বলেনি। আর আমার ছেলেকে আজ হ’ত্যা করা হলো। আমি এর বিচার চাই। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই। আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিলো যে তাকে প্রাণ দিতে হলো? আমার ছেলের মতো লাখে একটাও হয় না। সবার ঘরে বেটা থাকতে পারে, আমার ব্যাটার মতো বেটা ছিলো না।

আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, এটা পরিকল্পিত হ’ত্যাকাণ্ড। যে ছেলেটা বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছালো, তাকে ৮টার দিকে নির্যাতন করার জন্য ডেকে নিয়ে গেল। ছয় ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালালো। এটা অবশ্যই পরিকল্পিত। আপনাদের কাছে আমি এর বিচার চাই।

প্রসঙ্গত, রোববার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় ফাহাদকে উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন পি’টিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

এ ঘটনায় বুয়েটের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে আবরার হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হ’ত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে আবরার ফাহাদ রাব্বির দাফন সম্পন্ন হয়। কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা ঈদগাহ ময়দানে তৃতীয় দফা জানাজার নামাজ শেষে রায়ডাঙ্গা গোরস্থান ময়দানে তাকে দাফন করা হয়। আবরারের জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ার শহরের পিটিআই সড়কে পাশে। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বর্তমানে একটি এনজিও সংস্থায় কর্মরত আছেন। মা রোকেয়া খাতুন কুষ্টিয়া শহরের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকতা করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড় ছিলেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলি!

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মঙ্গলবার পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে পাহাড়ি ডাকাত দলের সন্ত্রাসী সদস্যরা। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পে।

টেকনাফের জাদিমুড়া শালবাগান নছিরউল জামান ক্যাম্পে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-১৫-এর টেকনাফ ক্যাম্প ইনচার্জ লে. মির্জা শাহেদ মাহাতাব বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় কাউকে কোনো ধরনের অপরাধে জড়াতে দেয়া হবে না। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে ডাকাত গ্রুপসহ অন্য যেসব অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। কয়েকজনকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। অন্যরা শিগগিরই ধরা পড়বে।

টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মোহাম্মদ মনির বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি জায়গায় শীর্ষ ডাকাত জাকির ও সেলিম গ্রুপের সদস্যরা অবস্থান করছে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। এ সময় ডাকাতদের ধাওয়া করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পাহাড়ে ঢুকে যায় তারা।

তিনি বলেন, সোমবার গভীর রাতে ওই ক্যাম্পে শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির ও সেলিমের গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ ঘটনার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি।

“বাংলাদেশ থেকে না, বিদেশ থেকে গ্যাস এনে ভারতকে দেয়া হবে”

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি নয়, বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করে তা প্রক্রিয়াজাতের পর ভারতে রপ্তানি করা হবে। বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। আজ ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের আউটার স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এ সময় আব্দুল মোমেন বলেন, ‘একটা ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে যে বাংলাদেশ ভারতকে গ্যাস দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানি করা গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে তা ভারতে রপ্তানি হবে।’

এ সময় ররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশেরই লাভ হবে।’ এ সময় তিনি বেশ কয়েকটি দেশের উদাহরণ টানেন।

এদিকে ভারতের সঙ্গে পানিবিনিময় নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক বিষয়ের কথা মাথায় রেখে ফেনী নদীর কিছু পানযোগ্য পানি ভারতকে দেওয়া হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই বিভিন্ন সময় চুক্তি হয়। তারই অংশ হিসেবে আরও নানা চুক্তি হয়েছে।’

তাদের অভিশাপে যেন ধ্বংস হয়ে যায় এই অসুস্থ সমাজঃ শাওন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। আবরার হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন শাওন।

এদিকে স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন- ‘বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ‘৬৯ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আমার বাবা। সারা জীবন তার মুখে গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন ছিল আমারও। ভর্তি পরীক্ষার ফরম তোলার সময় ঢাকার বাইরে থাকায় পরীক্ষাই দিতে পারিনি আমি! সেই দুঃখ ভোলার জন্য প্রায়ই ভেবেছি পুত্রদ্বয়ের যে কোনো একজন যেন এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার হতে পারে।’

‘এ প্রতিষ্ঠানের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ছাত্র ছিল আবরার। আবরারের কথা ভাবি আর আমার পুত্রদ্বয়ের মুখের দিকে তাকাই। আমার বুক কাঁপে। বাচ্চা দুটোর পিঠ হাত-পা’র ওপর হাত বুলিয়ে দেই। ছোটবেলায় এরকম ছোট ছোট হাত পা-ই তো ছিল আবরারের! তার মা কত রাত পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে তাকে!’

‘একেকটা আঘাতে ছেলেটা কি ‘মা গো’ বলে চিৎকার দিয়েছিল? ‘মা গো’ ডাক শুনে খুনি ছেলেগুলোর কি একটুও নিজের মার কথা মনে পড়েনি। ঠিক কতবার। কতক্ষণ ধরে, কতটুকু আঘাত করলে ২০-২১ বছরের একটা তরুণ ছেলে মরেই যায়। আমি আর ভাবতে পারি না।’

‘ফেসবুকে আবরারের পিঠটার ছবি দেখলাম। কি ভয়ংকর। কি নৃশংস। কি কষ্ট। এ ছবিটা যেন তার বাবা-মা’র চোখে না পড়ে। ভুল বলেছি। আবরারের বাবা, আবরারের মা তাদের বাবুটার ক্ষতবিক্ষত পিঠে হাত বুলিয়ে যেন অভিশাপ দেন মানুষের মতো দেখতে খুনি অমানুষগুলোকে। তাদের অভিশাপে যেন ধ্বংস হয়ে যায় এই অসুস্থ সমাজ। নুসরাতকে ভুলে গিয়েছি। আবরারকেও ভুলে যাব বিচার চাই বলে লাভ আছে কিনা জানি না- তবুও বিচার চাই।’

রহস্যময় ‘দ্য লেক অব নো রিটার্ন’
একটি ভয়ংকর লেক। এর আশেপাশে গেলেই মৃত্যু অনিবার্য। লেকটির নাম শুনলেই গায়ে কাটা দেয় যেন! ‘দ্য লেক অব নো রিটার্ন’। নামের মধ্যেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এটি কতটা ভয়ংকর। হ্যাঁ আসলেও লেকটি অনেকটা ভয়ংকর। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে পৃথিবীর বুকে এমন অনেক অজানা রহস্য রয়েছে যার রহস্য আজও উন্মোচন করা সম্ভব হয় নি। তেমনি একটি রহস্যময় জায়গা হচ্ছে এই ‘দ্য লেক অব নো রিটার্ন’।

আপনি যদি জানেন এই লেকটির কাছাকাছি গেলে আপনার আর ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই তাহলে কি আপনি সেখানে যাবেন? আপনি কেন অনেক সাহসী বীরের পক্ষেও এই স্থানটিতে যাওয়ার সাহস হবে না। শুরুতে যারা না জেনে এই লেকটিতে গিয়েছিলো তারা কেউ আর ফিরে আসে নি। কিন্তু কেনো? সেটাই আসলে রহস্য। কোনো এক অজানা কারণে লেকটিতে কেউ গেলেই সে আর ফিরে আসে না বললেও ভুল হবে। আসলে সে অদৃশ্য হয়ে যায়।

দূর থেকে তাকে আপনি দেখছেন। কিন্তু হঠাৎই সে আপনার চোখের সীমানা থেকে হারিয়ে যাবে! উত্তর মায়ানমারের ঘন জঙ্গলে অবস্থিত এ হ্রদটির রহস্যময়তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি। এই রহস্যময় হ্রদটির কথা জানা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। সে সময় এ অঞ্চলে একটি রাস্তা তৈরি হয়েছিল। এই রাস্তার কাজ শুরু হয় ১৯২৩ সালে। তখনই এ হ্রদের খোঁজ পাওয়া যায়। এর অলৌকিক ক্ষমতার কথাও ছড়িয়ে পড়ে অচিরেই।

অরুণাচল প্রদেশের কাছে ভারত-বার্মা সীমান্তে উত্তর মিয়ানমারের ঘন জঙ্গলে ঘেরা পাংসাউ গ্রামে রয়েছে বারমুডার মতই রহস্যময় এই স্থানটি। প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং মাত্র শূন্য দশমিক ৮ কিলোমিটার প্রস্থের লেকটি ঘিরে আছে আরো হরেক গল্পগাঁথা। এর নামকরণের পেছনেও আছে নানান ইতিহাস। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহাসিক লেদো রোড, ১৯৪২ সালে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন মিত্রবাহিনী রাস্তাটি তৈরি করে। মানচিত্রে তখন এর পরিচয় ছিল- স্টিলওয়েল রোড।

সে সময় হিমালয়ের পূর্ব পাশ ঘেঁষা এই লেকের ওপর দিয়ে ভারত হয়ে চীনে যেত রসদবাহী বিমান। জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মার্কিন ও চীনা সেনাদের রসদ পৌঁছাতে এর চেয়ে নিরাপদ আর কোনো পথ সেই সময়ে জানা ছিল না মিত্রবাহিনীর। তবে কোনো এক অজানা কারণে রসদবাহী বিমানগুলো হয় নিরুদ্দেশ হতো না হয় মুখ থুবড়ে পরতো লেকের আশেপাশে। ঠিক ওখানে গেলেই নাকি বিমানগুলোর ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’ দেখা দিত। পাইলটরাও কোনো ধরনের বার্তা পাঠাতে পারতেন না।

ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একটি সফল অভিযান শেষে ওই পথ দিয়েই ফিরছিল এক কোম্পানি জাপানি সেনা। পথ হারিয়ে সেই লেকের কাছে যায়। লেকের বাতাসে ভেসে বেড়ানো ম্যালেরিয়ার জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে একে একে সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অর্থাৎ যেভাবেই যাওয়া হোক, এ লেকের পাশ দিয়ে গেলে না ফেরা নিশ্চিত।

একবার নাকি পুরো এক ব্যাটালিয়ান জাপানি সেনা স্রেফ উধাও হয়ে যায় লেকের আশপাশ থেকে। এমনকি এর তদন্তে যাওয়া আরেকটি সেনাদলও আর ফিরে আসেনি। আরেকটি সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের একদল আর্মিকে একবার লেকটি নিরীক্ষণ করতে পাঠানো হয়। হঠাত লেকের পানি বাড়তে শুরু করে এবং তারা পানির ফাঁদে নিমজ্জিত হয়। অনেক চেষ্টার পরেও পানির তোড় থেকে তারা বেরোতে অক্ষম হয়। লেকের পানি যেন তাদের গলাধঃকরণ করে নেয়!

যারা শুধু কল্পকাহিনী ভাবছেন তাদের জন্য বলা, এই লেকের কথা কিন্তু ইসরায়েলের ‘হাড়িয়ে যাওয়া দশ উপজাতি’দের পুরানো লেখায় উল্লেখ রয়েছে। এই উপজাতিদের ধর্মযুদ্ধের সময় ইসরায়েল থেকে বিতাড়িত করা হয়। ধারণা করা হয়, সেই উপজাতিদের একটি এই অঞ্চলেই নিজেদের ঠিকানা তৈরি করে নেয়।

আরো আছে স্থানীয় প্রাচীন লোকগাঁথা। গ্রামের এক লোক একবার একটা বিরাট মাছ ধরে এই লেক থেকে। এক বৃদ্ধা আর তার নাতনি ব্যতীত গ্রামের সবাইকে সে মাছ খাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। শুধু তাই নয়, লেকের তত্ত্বাবধায়ক তাদের দু’জনকে সে রাতেই গ্রাম ছেড়ে পালাতে বলে। পরের দিন না-কি সমগ্র গ্রাম সে লেকের পানিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া যাবার আগে, বৃদ্ধা তার বাঁশের লাঠি লেকে ছুঁড়ে ফেলে যায়, স্থানীয়দের বিশ্বাস সে বাঁশ এখনো হ্রদের পানির নিচে ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।

রহস্যের এখানেই শেষ নয়। লেকটি না-কি ক্যামেরাবন্দিও হতে চাই না! এ লেকের ছবি তুললেও সে ছবি ওপর থেকে ঝাপসা আসে। হয়ত লেকটির চারপাশে কোনো রশ্মি সর্বক্ষণ বিকিরণ করে যাচ্ছে যার জন্য এখানকার কোনো ছবি ফটো প্লেট চিহ্নিত করতে পারে না! আবার যারা বিভিন্ন সময় হেলিকপ্টারে এ লেক প্রদক্ষিণের চেষ্টা করেছেন, তাদের কারো সঙ্গে কারো তথ্যের মিল নেই। কেউ কেউ একে, লেক হিসেবেই মানতে রাজি নয়। তাদের মতে, এটা কেবলই ঘন জঙ্গলে ঢাকা একখন্ড জমি।

বর্তমানে লেকটি পরিত্যক্ত। পাংসাউ পাস অঞ্চলে এর কাছে তাংসা উপজাতির বাস। তারা প্রতি শীতে সাড়ম্বরে হিম উৎসব আয়োজন করে। উৎসাহী পর্যটকেরা একইসঙ্গে আদিবাসীদের জীবনাচরণ এবং লেকের রহস্যময়তা উপভোগ করতে পানসাউতে ভিড় জমান। তাছাড়া লেকের ছবি তোলা যায় না বলে যে গুজব রয়েছে সেটিও তো একপ্রকার মিথ্যাই। নইলে গুগলে এত ছবিই কারা তুলল, কীভাবে তুলল?

আরও অনেক অভিযাত্রী হেলিকপ্টারে করে এই স্থানটির উপর দিয়ে গিয়েছেন। তাদের মতে, অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তারা বিস্ময়করভাবে পুনঃযৌবন লাভ করে। এখান থেকে দূরে চলে এলেই পূর্বের অবস্থা ফিরে আসে। এ রহস্যময় হ্রদের ব্যাপারে আরেকটি অবাক ব্যাপার হল এর ভূ-প্রকৃতি সম্পর্কে হেলিকপ্টার আরোহীদের দেয়া তথ্য। এসব তথ্য কারও সঙ্গে কারোটা মিলেনা।

ধারনা করা হয়, এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি অদ্ভুতভাবে সব সময় পাল্টায়। ফলে এটি সত্যি জল টলটলে হ্রদ, না এমনি একটি জলাভূমি, না একখণ্ড জঙ্গলে জমি তা সঠিকভাবে জানা যায়না। ভয় আরও বেড়ে যাবে যখন শুনবেন নীরব-নিস্তব্ধ এই স্থানটি থেকে গভীর রাতে মানুষের দুর্বোধ্য আওয়াজ ভেসে আসার কথা শুনলে। এমনটিই শুনে থাকেন স্থানীয় মায়ানমার ও ভারতীয় গ্রামের অধিবাসীরা। তাদের মতে, যেকোনো বড় জনবসতির দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক শোরগোলের মতই সে শব্দ।

দেখা যাক, লেকের এ রহস্য কতদিন অমীমাংসিত থাকে। লেকের রহস্যের সত্যতার গ্যারান্টি না দেয়া গেলেও সবুজে ঘেরা পানসাউ গ্রাম দেখে যেকোনো পর্যটক নিরাশ হবেনা সে কথা বলা যায়। ঐতিহাসিক এ স্থানটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক স্মৃতিচিহ্ন সম্বলিত, রয়েছে যুদ্ধে প্রাণ হারানো সৈনিকদের সমাধিস্থল।

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন