এই ৩ জনের একজনই হবে বিশ্বের সবচেয়ে গতিময় পেসারঃ শোয়েব আখতার

পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতার নিজের গতির কারণে ছিলেন বিখ্যাত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি গতিতে তিনিই বল করেছিলেন। এখনো কেউ সেই রেকর্ড ভাঙ্গতে পারেননি।

আর বর্তমানে বোলাররা খুব গতিতে বল না করে ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। এদিকে নিজের দেশের তিন তরুণ পেসারকে নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছেন শোয়েব আখতার। তিনি জানিয়েছেন, গতিতে সবাইকে হার মানাবেন এই তিনজন।

তারা তিনজন হলেন- নাসিম শাহ, মুসা খান এবং হারিস রউফ। নাসিমের বয়স মাত্র ১৬ বছর। পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে ৭ ম্যাচ খেলে ৮ উইকেট শিকার করেছিলেন মুসা। অন্যদিকে লাহোরের হয়ে খেলা হারিসের ১০ ম্যাচে ছিলো ১১টি উইকেট।

মূলত তারা প্রায় ১৫০ কিমি. প্রতি ঘণ্টায় বোলিং করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। তাদের ব্যাপারে শোয়েব আখতার বলেন, ‘নাসিম শাহ, মুসা খান, হারিস রউফদের মতো তরুণ মুখগুলো বিশ্বের সবচেয়ে গতিময় পেসার হতে পারবে। আমি আশা করি তারা আমার কাছে আসবে পরামর্শ নিতে। আমি তাদের নিজেদের মতো করে গতিতারকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যাতে করে তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করতে পারে।’

ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ব্যাট ব্যবহার করছে যে দু’জন!

ক্রিকেটে একজন ব্যাটসম্যানকে ব্যাট থেকে শুরু করে প্যাড, গ্লাভস, গার্ড, হেলমেট আরও অনেক কিছুই ব্যবহার করতে হয়। আর এসব সরঞ্জামের পিছনে খরচ করতে হয় অনেক টাকা।

ক্রিকেট সরঞ্জামের মধ্যে সব থেকে বেশি দাম দিয়ে যে জিনিসটি কিনতে হয় সেটি হচ্ছে, ব্যাট। যদিও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়রা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ব্যাট গুলো স্পন্সর পেয়ে থাকে। তাদের খরচ করতে হয় না একটি টাকাও।

কিন্তু যারা উদীয়মান বা যারা ক্রিকেট শিখতে চায় তাদের ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম। তাদের নিজ অর্থায়নেই ব্যাট সংগ্রহ করতে হয়। আর এর পিছনে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে থাকে তাদের পরিবার গুলো। বাংলাদেশে খেলার যোগ্য একটি ব্যাটের দাম কম করে হলেও ৬-৭ হাজার টাকা।

তবে বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে এমন দুজন খেলোয়াড় আছে যারা ক্রিকেট মাঠে সব থেকে বেশি দামি ব্যাট ব্যবহার করে থাকে। আর সে দুজন খেলোয়াড় হচ্ছে ভারতীয় সাবেক ও বর্তমান অধিনায়ক, মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং ভিরাট কোহলি।

সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি যে ব্যাটটি ব্যবহার করে থাকে তার নাম হচ্ছে, স্পার্টান এমএসডি ৭। ধোনির ব্যাটটি বানানো হয় ইংলিশ গাছের কাঠ দিয়ে। ব্যাটটির ওজন ১১৮০-১২৫০ গ্রাম। যার দাম ২৪,০০০ রুপি। বাংলাদেশি টাকায় যেইটার দাম গিয়ে পৌঁছায় ২৮,৬৭৮ টাকায়।

অন্যদিকে বর্তমান ভারতীয় অধিনায়ক, ভিরাট কোহলি যে ব্যাট ব্যবহার করে থাকে তার নাম এমআরএফ জিনিয়াস গ্র্যান্ড এডিশন। ভিরাটের ব্যাটটিও ইংলিশ গাছের কাঠ দিয়েই বানানো হয়ে থাকে। যার দাম ২৩,০০০ রুপি। বাংলাদেশি টাকায় যা গিয়ে দাঁড়ায় ২৭,৪৮৩ টাকা।

প্রসঙ্গত, মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বেই ভারত ২০১১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে থাকে। আর তার ব্যাট থেকেই আসে জিতানোর রানটি। শ্রীলংকান বোলার নুয়ান কুলাসিকারার বলে
লং অন দিয়ে ছক্কা মেরে দলকে আবারও এনে দেয় সেই সোনালি কাপ।

২০১১ বিশ্বকাপের পর ধোনির বিশ্বকাপ জিতানো সেই ব্যাট লন্ডনে এক সমাজসেবা মূলক অনুষ্ঠানে বিক্রি করা হয়েছিলো ১ লাখ পাউন্ডে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিলো এবং ব্যাটটি কিনেছিলেন, আরকে গ্লোবাল শেয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ইন্ডিয়া)

রহস্যময় ‘দ্য লেক অব নো রিটার্ন’

একটি ভয়ংকর লেক। এর আশেপাশে গেলেই মৃত্যু অনিবার্য। লেকটির নাম শুনলেই গায়ে কাটা দেয় যেন! ‘দ্য লেক অব নো রিটার্ন’। নামের মধ্যেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এটি কতটা ভয়ংকর। হ্যাঁ আসলেও লেকটি অনেকটা ভয়ংকর। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে পৃথিবীর বুকে এমন অনেক অজানা রহস্য রয়েছে যার রহস্য আজও উন্মোচন করা সম্ভব হয় নি। তেমনি একটি রহস্যময় জায়গা হচ্ছে এই ‘দ্য লেক অব নো রিটার্ন’।

আপনি যদি জানেন এই লেকটির কাছাকাছি গেলে আপনার আর ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই তাহলে কি আপনি সেখানে যাবেন? আপনি কেন অনেক সাহসী বীরের পক্ষেও এই স্থানটিতে যাওয়ার সাহস হবে না। শুরুতে যারা না জেনে এই লেকটিতে গিয়েছিলো তারা কেউ আর ফিরে আসে নি। কিন্তু কেনো? সেটাই আসলে রহস্য। কোনো এক অজানা কারণে লেকটিতে কেউ গেলেই সে আর ফিরে আসে না বললেও ভুল হবে। আসলে সে অদৃশ্য হয়ে যায়।

দূর থেকে তাকে আপনি দেখছেন। কিন্তু হঠাৎই সে আপনার চোখের সীমানা থেকে হারিয়ে যাবে! উত্তর মায়ানমারের ঘন জঙ্গলে অবস্থিত এ হ্রদটির রহস্যময়তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি। এই রহস্যময় হ্রদটির কথা জানা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। সে সময় এ অঞ্চলে একটি রাস্তা তৈরি হয়েছিল। এই রাস্তার কাজ শুরু হয় ১৯২৩ সালে। তখনই এ হ্রদের খোঁজ পাওয়া যায়। এর অলৌকিক ক্ষমতার কথাও ছড়িয়ে পড়ে অচিরেই।

অরুণাচল প্রদেশের কাছে ভারত-বার্মা সীমান্তে উত্তর মিয়ানমারের ঘন জঙ্গলে ঘেরা পাংসাউ গ্রামে রয়েছে বারমুডার মতই রহস্যময় এই স্থানটি। প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং মাত্র শূন্য দশমিক ৮ কিলোমিটার প্রস্থের লেকটি ঘিরে আছে আরো হরেক গল্পগাঁথা। এর নামকরণের পেছনেও আছে নানান ইতিহাস। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহাসিক লেদো রোড, ১৯৪২ সালে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন মিত্রবাহিনী রাস্তাটি তৈরি করে। মানচিত্রে তখন এর পরিচয় ছিল- স্টিলওয়েল রোড।

সে সময় হিমালয়ের পূর্ব পাশ ঘেঁষা এই লেকের ওপর দিয়ে ভারত হয়ে চীনে যেত রসদবাহী বিমান। জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মার্কিন ও চীনা সেনাদের রসদ পৌঁছাতে এর চেয়ে নিরাপদ আর কোনো পথ সেই সময়ে জানা ছিল না মিত্রবাহিনীর। তবে কোনো এক অজানা কারণে রসদবাহী বিমানগুলো হয় নিরুদ্দেশ হতো না হয় মুখ থুবড়ে পরতো লেকের আশেপাশে। ঠিক ওখানে গেলেই নাকি বিমানগুলোর ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’ দেখা দিত। পাইলটরাও কোনো ধরনের বার্তা পাঠাতে পারতেন না।

ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একটি সফল অভিযান শেষে ওই পথ দিয়েই ফিরছিল এক কোম্পানি জাপানি সেনা। পথ হারিয়ে সেই লেকের কাছে যায়। লেকের বাতাসে ভেসে বেড়ানো ম্যালেরিয়ার জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে একে একে সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অর্থাৎ যেভাবেই যাওয়া হোক, এ লেকের পাশ দিয়ে গেলে না ফেরা নিশ্চিত।

একবার নাকি পুরো এক ব্যাটালিয়ান জাপানি সেনা স্রেফ উধাও হয়ে যায় লেকের আশপাশ থেকে। এমনকি এর তদন্তে যাওয়া আরেকটি সেনাদলও আর ফিরে আসেনি। আরেকটি সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের একদল আর্মিকে একবার লেকটি নিরীক্ষণ করতে পাঠানো হয়। হঠাত লেকের পানি বাড়তে শুরু করে এবং তারা পানির ফাঁদে নিমজ্জিত হয়। অনেক চেষ্টার পরেও পানির তোড় থেকে তারা বেরোতে অক্ষম হয়। লেকের পানি যেন তাদের গলাধঃকরণ করে নেয়!

যারা শুধু কল্পকাহিনী ভাবছেন তাদের জন্য বলা, এই লেকের কথা কিন্তু ইসরায়েলের ‘হাড়িয়ে যাওয়া দশ উপজাতি’দের পুরানো লেখায় উল্লেখ রয়েছে। এই উপজাতিদের ধর্মযুদ্ধের সময় ইসরায়েল থেকে বিতাড়িত করা হয়। ধারণা করা হয়, সেই উপজাতিদের একটি এই অঞ্চলেই নিজেদের ঠিকানা তৈরি করে নেয়।

আরো আছে স্থানীয় প্রাচীন লোকগাঁথা। গ্রামের এক লোক একবার একটা বিরাট মাছ ধরে এই লেক থেকে। এক বৃদ্ধা আর তার নাতনি ব্যতীত গ্রামের সবাইকে সে মাছ খাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। শুধু তাই নয়, লেকের তত্ত্বাবধায়ক তাদের দু’জনকে সে রাতেই গ্রাম ছেড়ে পালাতে বলে। পরের দিন না-কি সমগ্র গ্রাম সে লেকের পানিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া যাবার আগে, বৃদ্ধা তার বাঁশের লাঠি লেকে ছুঁড়ে ফেলে যায়, স্থানীয়দের বিশ্বাস সে বাঁশ এখনো হ্রদের পানির নিচে ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।

রহস্যের এখানেই শেষ নয়। লেকটি না-কি ক্যামেরাবন্দিও হতে চাই না! এ লেকের ছবি তুললেও সে ছবি ওপর থেকে ঝাপসা আসে। হয়ত লেকটির চারপাশে কোনো রশ্মি সর্বক্ষণ বিকিরণ করে যাচ্ছে যার জন্য এখানকার কোনো ছবি ফটো প্লেট চিহ্নিত করতে পারে না! আবার যারা বিভিন্ন সময় হেলিকপ্টারে এ লেক প্রদক্ষিণের চেষ্টা করেছেন, তাদের কারো সঙ্গে কারো তথ্যের মিল নেই। কেউ কেউ একে, লেক হিসেবেই মানতে রাজি নয়। তাদের মতে, এটা কেবলই ঘন জঙ্গলে ঢাকা একখন্ড জমি।

বর্তমানে লেকটি পরিত্যক্ত। পাংসাউ পাস অঞ্চলে এর কাছে তাংসা উপজাতির বাস। তারা প্রতি শীতে সাড়ম্বরে হিম উৎসব আয়োজন করে। উৎসাহী পর্যটকেরা একইসঙ্গে আদিবাসীদের জীবনাচরণ এবং লেকের রহস্যময়তা উপভোগ করতে পানসাউতে ভিড় জমান। তাছাড়া লেকের ছবি তোলা যায় না বলে যে গুজব রয়েছে সেটিও তো একপ্রকার মিথ্যাই। নইলে গুগলে এত ছবিই কারা তুলল, কীভাবে তুলল?

আরও অনেক অভিযাত্রী হেলিকপ্টারে করে এই স্থানটির উপর দিয়ে গিয়েছেন। তাদের মতে, অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তারা বিস্ময়করভাবে পুনঃযৌবন লাভ করে। এখান থেকে দূরে চলে এলেই পূর্বের অবস্থা ফিরে আসে। এ রহস্যময় হ্রদের ব্যাপারে আরেকটি অবাক ব্যাপার হল এর ভূ-প্রকৃতি সম্পর্কে হেলিকপ্টার আরোহীদের দেয়া তথ্য। এসব তথ্য কারও সঙ্গে কারোটা মিলেনা।

ধারনা করা হয়, এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি অদ্ভুতভাবে সব সময় পাল্টায়। ফলে এটি সত্যি জল টলটলে হ্রদ, না এমনি একটি জলাভূমি, না একখণ্ড জঙ্গলে জমি তা সঠিকভাবে জানা যায়না। ভয় আরও বেড়ে যাবে যখন শুনবেন নীরব-নিস্তব্ধ এই স্থানটি থেকে গভীর রাতে মানুষের দুর্বোধ্য আওয়াজ ভেসে আসার কথা শুনলে। এমনটিই শুনে থাকেন স্থানীয় মায়ানমার ও ভারতীয় গ্রামের অধিবাসীরা। তাদের মতে, যেকোনো বড় জনবসতির দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক শোরগোলের মতই সে শব্দ।

দেখা যাক, লেকের এ রহস্য কতদিন অমীমাংসিত থাকে। লেকের রহস্যের সত্যতার গ্যারান্টি না দেয়া গেলেও সবুজে ঘেরা পানসাউ গ্রাম দেখে যেকোনো পর্যটক নিরাশ হবেনা সে কথা বলা যায়। ঐতিহাসিক এ স্থানটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক স্মৃতিচিহ্ন সম্বলিত, রয়েছে যুদ্ধে প্রাণ হারানো সৈনিকদের সমাধিস্থল।

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন