ফাঁস হলো আবরার হ,ত্যাকাণ্ডের সেই দৃশ্য! (সিসিটিভি ফুটেজ)

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হ’ত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, আবরারকে পিটিয়ে হ’ত্যা করা হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছি। আমরা দেখছি কারা এই হ’ত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। এটি যে হ’ত্যাকাণ্ড, এতে সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, কয়েকটি সিটি সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। বিচার বিশ্লেষণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, যে জড়িত থাকবে তাকেই তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে আবরার হ’ত্যাকাণ্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ। দেখুন সেই ফুটেজটি :

যা দেখা গেল আবরার হত্যার সিসিটিভি ফুটেজে

যা দেখা গেল আবরার হত্যার সিসিটিভি ফুটেজে

Gepostet von Daily Manab Zamin am Montag, 7. Oktober 2019

‘কথা বলবি না, সামনে চল…’

রাজধানীর চাঁদনি চকের ‘ফ্যাশন এশিয়া’ নামে একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করেন শেখ মো. ফায়জুল হক। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দোকান বন্ধ করে মোহাম্মদপুরে নিজের বাসায় ফিরছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি। ঢাকা কলেজের সামনের সড়কে আসার সঙ্গে সঙ্গে চার যুবক ফায়জুল হককে ঘিরে ধরেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারজনের মধ্যে একজন তাঁর কানের কাছে বলতে থাকেন—‘কথা বলবি না। সামনে চল। যেভাবে বলব সেভাবে হাঁটতে থাক। সোজা সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে যা।’

পরে ফায়জুল হককে নিয়ে আটকে রাখা হয় রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলীবাগের পূর্ব আহমেদনগরের একটি বাড়িতে। সেখানে টানা কয়েক ঘণ্টা তাঁকে মারধর করা হয়। মারধরের পর ফোনে ফায়জুল হকের চিৎকার শুনিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে আদায় করেন অপহরণকারীরা। তবে অপহরণের মাত্র ১৭ ঘণ্টার মধ্যে মিরপুরের ওই বাড়িতে আজ সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে ফায়জুল হককে উদ্ধার করে নিউমার্কেট থানা-পুলিশ। ফায়জুল হককে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগী বেগম (৪৮), সোহাগীর ছোট বোন রিতা (৪০), সোহাগী বেগমের মেয়ে স্বর্ণা (২২) ও ছেলে শয়ন (১৯) এবং শয়নের বন্ধু জাওয়াদকে (২০) আটক করা হয়।

থানায় আনার পরও মারধরের কারণে আঁতকে উঠছিলেন ফায়জুল হক। তাঁর ভাই শেখ মো. ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাইকে ঘিরে রেখেই চারজন নিয়ে যান সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের দিকে। যাওয়ার পথে একটি মাইক্রোবাসে ওঠানো হয় তাঁকে। পাশে ছিল আরেকটি মোটরসাইকেল। মাইক্রোতে করে ফায়জুলকে প্রথম নেওয়া হয় মিরপুর-১ নম্বর চত্বরের আগে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে। সেখান থেকে রিকশায় করে শাহ আলীবাগে ধানখেতে মোড়ের পাশে ছয় তলার একটি ফ্ল্যাটে।’

ফজলুল হক বলেন, ‘যে বাসায় আমার ভাইকে রাখা হয়, সেখানে আরও তিন নারী ছিলেন। তাঁকে আলাদা করে একটি ঘরে নিয়ে মারধর করা হয়। টানা কয়েক ঘণ্টা ফায়জুলকে বেদম পেটানো হয়। এ সময় আমাকে ফোন করে ভাইয়ের চিৎকার শোনায় অপহরণকারীরা। তাঁরা বিকাশের মাধ্যমে রাত একটা পর্যন্ত কয়েক দফা টাকা দাবি করে। আমরা কয়েক দফায় ৮০ হাজার টাকা বিকাশ করি।’

সকালবেলা আবারও টাকা দাবি করে ফোন করে অপহরণকারীরা। এ কথা জানিয়ে ফজলুল হক বলেন, ‘রাতে টাকা দিলেও আমি সোজা নিউমার্কেট থানায় চলে যাই। নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম ও নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলামকে পুরো ঘটনা জানাই। তাঁরা রাত একটার দিকে আমাকে জানান যে, ফায়জুল হককে মিরপুরের শাহ আলীবাগ এলাকায় রাখা হয়েছে। সকাল বেলা টাকা দাবির কথা জানালে আরও ১০ হাজার টাকা বিকাশ করি। তবে সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিলাম। বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত করার পর আজ দুপুরে অভিযান চালিয়ে ফায়জুল হককে উদ্ধার এবং পাঁচ অপহরণকারীকে আটক করে পুলিশ।’

ফায়জুল হক তাঁর ভাইকে জানান, যারা তাঁকে ধরে নিয়ে যান এদের কাউকেই তিনি চেনেন না বা পরিচয় নেই। কেন ফায়জুলকে অপহরণ করা হলো সেটি তিনি বুঝতে পারছেন না।

পুলিশ জানায়, ফায়জুলকে অপহরণকারীরা সবাই একটি পরিবারের সদস্য। এদের সবার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। ঢাকায় এসে বাসা ভাড়া করে তারা। রাস্তার চলাচলকারী সহজ সরল ব্যক্তিকে এই চক্র ধরে নিয়ে যায়। তাদের ভাড়া করা বাসায় রেখে যাকে অপহরণ করা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে অশ্লীল ছবি তুলে রাখে। একই সঙ্গে মারধর করে এরা টাকা আদায় করে। দীর্ঘ পরিকল্পনা করে কোনো ব্যক্তিকে তারা অপহরণ করে না।

পুলিশের নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম সাইফ প্রথম আলোকে বলেন, অপহরণকারীরা ফায়জুল হককে ধরে নিয়ে মোট ৮০ হাজার টাকা নিয়েছিল। আমরা পুরো টাকাই উদ্ধার করেছি। এই চক্র আগেও এভাবে অপহরণ করেছিল। এবারের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশময় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম!

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গতকাল রোববার ছিল এক কথায় বাংলাদেশময়। বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবারের মতো ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কখনো জায়গা করে নিতে পারেনি। শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে নরেন্দ্র মোদির ভারত কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে এবং গত দশ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক কোনো উচ্চতায় পৌঁছেছে, রোববারের ভারতের জাতীয় দৈনিকগুলোই তার প্রমাণ।

গত শনিবার রাজধানীর হায়দরাবাদ হাউসে দুই প্রধানমন্ত্রী ও দুই দেশের প্রতিনিধিদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের নির্যাস রোববারের সর্বভারতীয় প্রভাতি দৈনিকগুলোর প্রথম পাতার প্রথম লিড নিউজের জায়গা আদায় করে নিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সব সংস্করণের লিড নিউজের শিরোনাম, ‘বাংলা: এনআরসি রিমেনস আ কনসার্ন, উইল ওয়েট অ্যান্ড সি’। তিন কলামের এই শিরোনামের তলায় সাব হেডিং হিসেবে রয়েছে, ‘সাইনস ডিলস অন এক্সপোর্ট অব এলপিজি, ওয়াটার রিসোর্সেস’। প্রথম পৃষ্ঠার এই খবরেই ছাপা হয়েছে হায়দরাবাদ হাউসের অনুষ্ঠানে দুই প্রধানমন্ত্রীর ছবি। এই কাগজের ভেতরের পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে আরও একটি খবর। হাসিনার ছবি দেওয়া সেই খবরের শিরোনাম, ‘হাসিনা সিকস ইন্ডিয়াজ হেল্প অন রোহিঙ্গা’।

দিল্লি থেকে প্রকাশিত ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রথম পাতার প্রথম চার কলাম জুড়েও সহাস্য হাসিনা-মোদি। লিড স্টোরির হেডিং ‘ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ ভাউ টু বুস্ট টাইজ, স্টেপ আপ কোস্ট সিকিউরিটি’। এই খবরেরই সাব হেডিং, ‘মোদি-হাসিনা মিট, এনআরসি ইন্টারনাল ম্যাটার, প্রসেস ইজ কোর্ট মনিটরড, ঢাকা টোল্ড’। এই কাগজের ভেতরের পৃষ্ঠায় চার কলম জুড়ে ছাপা হয়েছে আরও একটি স্টোরি। শিরোনাম, ‘অ্যাসুয়র্ড এনআরসি ইন্ডিয়াজ ইন্টারন্যাল ম্যাটার, বাংলাদেশ ফরেন সেক্রেটারি’। সাব হেডিংয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রসচিবের বয়ানে লেখা, ‘উইল কিপ আ ক্লোজ আই অন ডেভেলপমেন্টস, ওয়াজ কনসানর্ড ওভার ডিপোর্টেশন স্টেটমেন্টস’।

দা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার প্রথম পাতার পাঁচ কলম জুড়ে বাংলাদেশ-ভারতের খবর। লিড স্টোরির শোল্ডারে লাল কালিতে লেখা ‘হাসিনা ইন ইন্ডিয়া’। তার নিচে পাঁচ কলম জুড়ে ‘ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ সাইন সিকিউরিটি, ট্রেড ডিলস, স্পিক ইন ওয়ান ভয়েস অন টেরর’। এরই তলায় সাব হেডিং, ‘ডিসকাশন অন এনআরসি অ্যালং সেম লাইনস অ্যাজ ইন নিউ ইয়র্ক মিটিং’। ওই কাগজের প্রথম পৃষ্ঠায় তিন কলম জুড়ে আরও একটি খবরের শিরোনাম, ‘‘পয়েজড ফর ‘গোল্ডেন চ্যাপটার’, নেবার্স লুক টু বিল্ড আ ব্রাইট শেয়ার্ড ফিউচার’।

দিল্লি ও কলকাতা থেকে যুগপৎ প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ‘মিলেনিয়াম পোস্ট’ প্রথম পাতার ছয় কলম জুড়ে ছবি সহ স্টোরি করেছে। শিরোনাম, ‘টকস উইথ হাসিনা উইল এনার্জাইস বাইল্যাটারাল রিলেশনস: পিএম মোদি’। অর্থনীতিসংক্রান্ত কাগজ ‘দা ইকোনমিক টাইমস’ পত্রিকাতেও হাসিনার সফর চার কলম জুড়ে। শিরোনাম, ‘দিল্লি, ঢাকা সাইন সারভেলেন্স অ্যান্ড কানেকটিভিটি প্যাক্টস’। ছবির সঙ্গে হাসিনা-মোদির ছবি।

দুর্গা পূজার জন্য কলকাতার সব খবরের কাগজে ছুটি শুরু হলেও প্রায় সব কাগজের ই-পেপারে হাসিনা-মোদির ছবি সহ খবর লিড। আনন্দবাজার পত্রিকার শিরোনাম, ‘সাত চুক্তি সই করল ঢাকা-দিল্লি’। সংবাদ প্রতিদিনের শিরোনাম, ‘প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, যোগাযোগ তিন প্রকল্পের সূচনা’। এই সময়ের শিরোনাম, ‘মোদি-হাসিনা বৈঠকে নজরে এনআরসি-তিস্তা’।

শনিবার সরকারি ছুটির দিন হলেও হায়দরাবাদ হাউসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক উপলক্ষে হাজির হয়েছিলেন দেশ-বিদেশের শতাধিক সংবাদপত্র কর্মী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত যাঁরা হায়দরাবাদ হাউসে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেন তাঁদের মতে, সাম্প্রতিককালে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এত সাংবাদিক উপস্থিত হননি। ভারতের কাছে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের এটিও এক উদাহরণ। হায়দরাবাদ হাউসে উপস্থিত শতাধিক সাংবাদিকের মধ্যে ২৮ জন ছিলেন বাংলাদেশি। তাঁরা সবাই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী।

বিপিএল নিয়ে এবার যা বলছে বিসিবি

কদিন আগে জালাল ইউনুস বলেছিলেন, ‘নির্ধারিত তারিখে  শুরু হবে কিনা আমারও সন্দেহ আছে!’ বিপিএল নিয়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধানের সংশয় থাকলেও আজ তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী। দুপুরে সাংবাদিকদের বললেন, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই (নির্ধারিত সময়ে হবে)। আগেই বলেছিলাম ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে, এখনো সেটাই আছে।’

এবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পৃষ্ঠপোষক নিয়ে বিশেষ বিপিএল আয়োজন করবে বিসিবি। প্রতিটি দলের মালিক যেহেতু বোর্ড, নতুন এই ধাঁচে আয়োজন করার প্রস্তুতিও কম নয়। মাত্র দুই মাসে এত বড় আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব? প্রশ্নটা উঠেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য একবারেই নীরব হয়ে যাওয়ায়। বিশেষ করে বিসিবির প্রভাবশালী পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকের নিষ্প্রভ হয়ে যাওয়াটাই বিপিএল নিয়ে বেশি সংশয় তৈরি করেছে। এক সপ্তাহের বেশি তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় আছেন সেটিও বলতে পারছিলেন না বোর্ডের দায়িত্বশীল কেউ।

তবে জানা গেছে ইসমাইল হায়দার এই মুহূর্তে ভারতের বেঙ্গালুরুতে আছেন। আজ বিকেলে সেখান থেকেই তিনি প্রথম আলোকে জানালেন, বিপিএল ঠিক সময়ে আয়োজন করা হবে, ‘এখনো পর্যন্ত ৬ ডিসেম্বরই থাকছে (বিপিএল শুরু হওয়ার তারিখ)। সোহেল ভাইও (শেখ সোহেল, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান) দেশে নেই। তিনি এলে আমরা বসব। তবে কাজ কিন্তু হচ্ছে। আকরাম ভাই কাজ করছেন। আর এবার বিপিএলের বিষয়টি বোর্ড সভাপতি নিজেই দেখছেন। নির্ধারিত সময়েই টুর্নামেন্ট হয়ে যাবে আশা করি।’

আগামী শুক্রবার কিংবা শনিবার ইসমাইল হায়দারের দেশে ফেরার কথা। শেখ সোহেলও যদি এর মধ্যে চলে আসেন, আগামী সপ্তাহে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে নিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান হয়তো বসবেন।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে যেহেতু বাদ দিয়েছে বিসিবি, এরই মধ্যে তাদের সঙ্গে চুক্তি হওয়া বিদেশি ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ তাহলে কী? জালাল ইউনুস বলছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিদেশি ক্রিকেটাররা যদি খেলতে চান তাঁদের সুযোগ উন্মুক্তই থাকছে, ‘ফরম্যাট আগে যেমন ছিল প্রায় একই থাকবে। একাদশে যে চার বিদেশি খেলোয়াড় খেলার নিয়ম ছিল, সেটাই থাকছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আগে কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে যদি চুক্তি করে থাকে, আর তারা যদি ফ্রি থাকে, তাহলে আমরা তাদের প্রস্তাব দিতে পারি যে তারা খেলবে কিনা।’
যুবলীগের চেয়ারম্যান হচ্ছেন মাশরাফি?

সাম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের শুদ্ধি অভিযানে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে যুবলীগ। এখন পর্যন্ত যারা আটক হয়েছেন তাদের সকলের সঙ্গে যুবলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, আওয়ামী যুবলীগের কিছু মনস্টার তৈরী হয়েছে। যারা ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ।

এই বাস্তবতায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে যুবলীগের নেতৃত্বের পরিবর্তন হবে। আর এতে জাতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার নাম আলোচিত হচ্ছে। এর বাইরেও অনেক নাম আলোচনায় আসছে। তবে মাশরাফিকে নিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে সিপিবির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘যে পদ্ধতিতে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদের জন্য নামগুলো আসছে, তা সাংগঠনিক পদ্ধতি বলে আমরা মনে করি না।

এখানে সংগঠন তার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলবে। কাউন্সিল করবে, সেখানেই নির্ধারণ হবে কে, কারা নেতৃত্ব দেবেন সংগঠন। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়া গণতন্ত্রকে খর্ব করে।’

সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘মাশরাফি বিন মুর্তজাকে আমি অনেক যোগ্য ও ভালো রাজনীতিবিদ মনে করি।

নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সব ধরনের যোগ্যতা তার আছে। সম্ভাবনাও বিপুল। কিন্তু তাদের যুবলীগের নেতৃত্বের বিষয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা একটা গুজব। গুজবকে ভিত্তি ধরে কোনো কথা বলা উচিত নয়। বলতেও চাই না।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বলেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা একজন অসাধারণ নেতা। কিন্তু আপনি যখন তাকে রাজনৈতিক দক্ষতা অর্জনের আগে কোনো বড় সংগঠনের দায়িত্ব দিয়ে দেবেন, এতে তার প্রতিও একটা অন্যায্য করা হবে।

রাজনীতিতে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জনের আগে একটা বড় সংগঠনের দায়িত্ব তাকে সরাসরি দেয়া উচিত হবে না। তার নেতৃত্বে আসা উচিত, তবে রাজনীতিতে যথেষ্ট দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অজনের পর।

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন