শরবত বিক্রেতা থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হাফেজ এরদোয়ান

জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িফ এরদোয়ান। তুরস্কের রাজনীতিতে এক শক্তিমান নেতা। আধুনিক তুরস্কের জনক হিসেবে পরিচিত মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের পর নজিরবিহীন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রবর্তক তিনি।

তুরস্কের নতুন সংবিধান অনুযায়ী একচ্ছত্র আধিপত্য ভোগ করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। আর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি  রক্ষণশীল ইসলামী মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে দেশটি পরিচালনা করেন।

শরবত বিক্রেতা এরদোয়ান ১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলের কাসিমপাসায় জন্ম গ্রহণ করেন। তারা বাবা তুরস্ক কোস্টগার্ডের একজন সদস্য হিসেবে চাকরি করতেন।

১৩ বছর বয়সে এরদোয়ান বাবার সঙ্গে ইস্তাম্বুলে আসেন। এরদোয়ানের বাবা সন্তানদের লেখা-পড়া শেখানোর উদ্দেশ্যেই ইস্তাম্বুল আসেন। তরুণ বয়সে এরদোয়ান সংসারের খরচ মেটাতে বাড়তি আয়ের জন্য লেবুর শরবত ও বিভিন্ন খাবার বিক্রি করতেন।

বাবাকে সংসার পরিচালনায় সহযোগিতার পাশাপাশি এরদোয়ান পড়ালেখাও ছিলেন সমান মনোযোগী। শৈশবেই তিনি ৩০ পুরো কুরআন মুখস্ত করে নিয়েছেন। ইস্তাম্বুলের মারমারা ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়ালেখা সম্পন্ন করেন।

মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার আগে এরদোয়ান ইস্তাম্বুলের একটি ইসলামিক স্কুলে পড়ালেখা করেছেন। ছাত্র জীবনে এরদোয়ান পেশাদার ফুটবলও খেলেছেন।

১৯৮৪ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও এরদোয়ান ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। প্রতিষ্ঠার অল্প দিনের মধ্যেই দলটি তুরস্কে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে ১ নম্বর অস্থানে চলে আসে।

তুরস্কের ইতিহাসে একদলীয় দল হিসেবে এবং সংসদীয় নির্বাচনে এরদোয়ান ৪ বার (২০০২, ২০০৭, ২০১১ এবং ২০১৪) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট তিনি তুরস্কের ১২তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেয়ার আগে তিনি একে পার্টির সভাপতি ও প্রধান দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এই দিনটির জন্য আমি অনেকদিন অপেক্ষা করেছি: প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী!

দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে ধরার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারতের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে একটি সৌজন্য সাক্ষাতে এ সুযোগ পেয়ে বেশ আপ্লুত কংগ্রেস সাধারন সম্পাদক। খবর ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই-এর।

প্রিয়াঙ্কা রবিবার বিকেলে নিজের এক টুইটবার্তায় জানান, এই দিনটির জন্য আমি অনেকদিন অপেক্ষা করেছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যতকিছু হারিয়েছেন এবং সব ব্যথা যেভাবে কাটিয়ে উঠেছেন তা সত্যিই প্রেরণাদায়ক। যে অধ্যাবসায় ও সাহসিকতার সাথে তিনি তার বিশ্বাসের জন্য লড়ছেন এবং পরিশ্রম করছেন তার জন্য তিনি সারাজীবন আমার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও শেখ হাসিনাকে নিজের দুপাশে রেখে তোলা একটি ছবিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে রবিবার দুপুরে নয়াদিল্লীর হোটেল তাজমহলে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় কংগ্রেসের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রী। তাদের মধ্যে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি সোনিয়া গান্ধী, তার মেয়ে ও দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অন্যতম। আধাঘন্টাব্যাপী চলা এই আলোচনায় দু’দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৩ অক্টোবর চারদিনের সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার রাতে তার দেশে ফেরার কথা।

ইমরানকে ‘ইট’ মারতে যেয়ে ‘পাটকেল’ খেলেন শেবাগ

ইংরেজি বৈশ্বিক ভাষা। সব দেশের মানুষই নিজেদের কাজে এই আন্তর্জাতিক ভাষা ব্যবহার করে। তবে রাষ্ট্র ভেদে ভাষাটির উচ্চারণশৈলী ভিন্ন। উপমহাদেশের মানুষ যেভাবে ইংরেজি বলে, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ সেভাবে বলে না। আবার যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপিয়ানদের ইংরেজি বাচনভঙ্গি অন্য রকম। আফ্রিকার মানুষদেরও রয়েছে নিজস্ব উচ্চারণ। একই কথা খাটে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রেও। তাই ভাষা এক হলেও এক দেশের মানুষের আরেক দেশের ইংরেজি উচ্চারণ বুঝতে সমস্যা হয়। এই একই সমস্যায় পড়েছেন সাবেক ভারতীয় ওপেনার বীরেন্দর শেবাগ!

ঘটনাটা খুলে বলা যাক। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৭৪তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভাষণটি যেমন আলোচিত তেমনি সমালোচিতও। সমালোচনাকারীদের মধ্যে সিংহভাগই ভারতীয়, পাকিস্তানের সঙ্গে যাদের বৈরিতা চিরকালীন। এর মধ্যে আছেন ভারতীয় ক্রীড়া তারকারাও। ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী যেমন রয়েছেন, তেমনি বীরেন্দর শেবাগও চুপ করে থাকেননি।

এদিকে, জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইমরান। এমএসএনবিসি টিভি চ্যানেলের টক শো ‘মর্নিং জো’-তে গিয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে হাসতে হাসতে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো সাবেক এ অধিনায়ক। বক্তব্যের একপর্যায়ে ইমরান বলেন, ‘এই অর্থহীন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যখন আফগানিস্তানে টাকা ঢালছে, চীন তখন প্রথম বিশ্বের অবকাঠামো গড়ে তুলছে। চীনে গিয়ে দেখুন ওদের অবকাঠামো। আমি তো নিউইয়র্কে এসে দেখছি গাড়িগুলো ধাক্কা খাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জো স্কারবরো অবশ্য ইমরানকে ছেড়ে কথা বলেননি। তিনিও ঠাট্টাচ্ছলে জবাব দেন, ‘আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে না আপনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। মনে হচ্ছে ব্রংক্সের (নিউইয়র্কের এক শহর) কোনো ভোটার যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো নিয়ে অভিযোগ করছেন।’

এখানেই গোল বেঁধেছে। স্কারবরো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, ফলে তাঁর উচ্চারণে আমেরিকান টান থাকবেই। তিনি ‘ভোটার’ শব্দটা এমন করে উচ্চারণ করেছেন, হুট করে মন দিয়ে না শুনলে মনে হবে তিনি ভোটার নয়, ‘ওয়েল্ডার’ বলেছেন, যার অর্থ লোহার ঢালাইকর! ‘ভোটার’ শব্দের সঙ্গে যার অর্থের পার্থক্য আকাশ-পাতাল!

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর থেকে ভারতীয়দের চক্ষুশূল হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সাবেক ভারতীয় ওপেনার বীরেন্দর শেবাগও তার ব্যতিক্রম নন। তবে ইমরানের সমালোচনা করতে গিয়ে সেদিন একটি ভিডিও টুইট করে নিজেই ভজকট পাকিয়ে ফেলেছেন ভারতের সাবেক এ ওপেনার

ভারতের সাবেক ওপেনার শেবাগ ইমরানের টক শো-র ভিডিও টুইটারে শেয়ার করে মন্তব্য করেন, ‘সঞ্চালক বললেন, আপনার কথা ব্রংক্সের ঢালাইকরের মতো। কিছুদিন আগে জাতিসংঘে জঘন্য বক্তৃতার পর এই লোকটা সম্ভবতা নিজেকে ছোট করার নতুন নতুন পথ বের করছে।’

ব্যস, আর পায় কে! শুরু হয় শেবাগের মুণ্ডুপাত। আল জাজিরা ইংলিশের ডিজিটাল সম্পাদক ফারাস গণি সেই টুইটের জবাবে লেখেন, ‘ওয়েল্ডার? শেবাগ, ভিডিওটা আবার শোনো। বারবার শোনো।’ কলাম লেখক মেহের তাহার বলেন, ‘ভোটারকে ওয়েল্ডার বানাচ্ছে ভারতীয়রা, ২০১৯ সালের সবচেয়ে হাসির খবর এটা। প্রথমত, ভোটারের মতো সহজ একটা শব্দের উচ্চারণ বুঝতে পারল না, দ্বিতীয়ত, ওয়েল্ডার শব্দটাকে একটা গালি হিসেবে ব্যবহার করল। জঘন্য।’

পরে খোদ সেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জো স্কারবরো টুইট করে বিষয়টা পরিষ্কার করেন, ‘তোমরা কি নিয়ে কথা বলছ? আমি “ভোটার” বলেছি। “ওয়েল্ডার” নয়। স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে আমি ব্রংক্সের ভোটার বলেছি। ব্রংক্সের “ওয়েল্ডার” বলার চিন্তাও করব না কখনো!’

স্কারবরোর টুইটের পর পাকিস্তানিরা যেন শেবাগকে নিয়ে ঠাট্টা করার নতুন উপলক্ষ পেয়ে যায়। একজন টুইটার ব্যবহারকারী বলেন, ‘অধিকাংশ ভারতীয়র যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলার ধরন বুঝতে সমস্যা হয়। মজার ব্যাপার, ভারতীয়রা একজন অক্সফোর্ড থেকে গ্র্যাজুয়েট করা প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করছে যেখানে তাদের নিজেদের প্রধানমন্ত্রীই এককালে চা বিক্রেতা ছিল।’ আরেক জন লিখেছেন, ‘শব্দটি ভোটার, ওয়েল্ডার নয়। হয় তুমি কানে শোনো না অথবা ওরা যেভাবে ইংলিশ উচ্চারণ করে সেটা বোঝো না। যা বোঝো না সেটা শোনার দরকার নেই, টুইটও করার দরকার নেই। খামোখা নিজেকে লজ্জায় ফেলা।’ আরেকজন বলেন, ‘আত্মসম্মান থাকলে ক্ষমা চাও এখন, আমার মনে হয় যা তোমার একদমই নেই।’

এত শত সমালোচনার পরও শেবাগ সে টুইটটি মুছে দেননি।

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন