ছয়ে থাকা বার্বডোজকে দুইয়ে নিয়ে এলেন সাকিব

বার্বাডোজের প্লে-অফের ভাগ্যটা হয়ত সাকিব আল হাসানের হাতেই লেখা ছিল। তাইতো বাংলাদেশ থেকে উড়ে গিয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ কুঞ্জে ব্যাটে-বলে বাজিমাত করে প্রায় একাই ছয়ে থাকা বার্বাডোজকে দুইয়ে নিয়ে গিয়ে লীগ পর্বের খেলা সমাপ্ত করলেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

যখন সিপিএলে খেলতে গেলেন কখন ৭ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে ৬ পয়েন্টে গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ার শঙ্কায় পড়ে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস। প্লে-অফে যেতে হলে বাকি তিন ম্যাচের দুটিতে অবশ্যই জিততে হতো বার্বাডোজকে।

এমন সমীকারন নিয়ে নিজের প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমে ব্যাটে বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন সাকিব। বল হাতে নেন ৪ ওভারে ১৪ রানে ১ উইকেট। আর বল হাতে করেন ২৫ বলে ৩৮ রান। কিন্তু তার দল হেরে যায় ১ রানে। এতে যেন বাদ পড়ার শঙ্কা আরো বেড়ে যায়।

পরের ম্যাচে আবারো দারুণ বোলিং করলেন সাকিব। এদিন ৪ ওভারে ২০ রান নিয়ে নেন ১ উইকেট। ব্যাটে হাতে ২১ বলে ২২। দারুণ জয় তুলে নেয় তার দল। আর আজ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বল হাতে সাকিবের ৪ ওভারে ২৫ রানে ২ উইকেট। ব্যাট হাতে ১৪ বলে ১৩ রান করেন। এবারো ৭ উইকেটের দারুণ জয় তুলে নেয় বার্বাডোজ।

আর এই জয়ে ১০ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে চলে এসেছে সাকিবের বার্বাডোজ। তাদের উপরে আছে কোন ম্যাচে না হারা গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। তিনে আছে সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস। চারে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স।

জয়ের ৯৯ রানে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ যুবারা

বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব ১৯ দলের মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ২৪২ রান করে তোলে নিউজিল্যান্ড। দলের পক্ষে থমাস জোহরাব সর্বোচ্চ ১১২ রান করেন। বাকিরা আর কেউই তার সাথে তাল মেলাতে পারেনি।

৫৫ রানের ওপেনিং জুটি গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। মৃত্যুঞ্জয় দলীয় ৫৫ রানে প্রথম আঘাত হানেন কিউই শিবিরে। ৩০ রান করে আউট হন ওলে হোয়াইট।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে থমাস জোহরাব ও কনর আনসেল মিলে ৪৭ রানের আরেকটি জুটি বাধেন। কনর ২০ রান করে রাকিবুলের বলে আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

এরপর আর বড় কোন জুটি গড়তে পারেনি কিউইরা। বাংলাদেশের বোলারদের ধারাবাহিক উইকেট নেয়া এবং লাইন লেন্থে বোলিং করার কারণে রান তোলাতেও চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ২৪২ রানেই থামে তারা। একপ্রান্ত আগলে রেখে ১১২ রান করেন থমাস।

জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ৬ রান করেই আউট হন বাংলাদেশের ওপেনার পারভেজ ইমন। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জয় ও তানজিদ হাসান মিলে ৯৫ রানের জুটি গড়েন। তানজিদ ৬৫ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

এরপর তৌহিদ হৃদয় জুটি বাধেন জয়ের সাথে। দুজনে মিলে ৭৭ রানের জুটি বাধেন। তৌহিদ হৃদয় ৪০ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

তবে সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটে দলীয় ২৩৫ রানের মাথায়। ৯৯ রান করে আউট হয়ে যান মাহমুদুল হাসান জয়। এতে অবশ্য বাংলাদেশের জয় আটকায়নি। শামীমের ২০ ও শাহাদাতের ৪ রানে ভর করে ৪৬.৩ ওভারেই ম্যাচ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

আশরাফুল বরিশালের হয়ে খেলতে পারবেন, তবে ১ শর্তে

বিপ টেস্টে ৯ দশমিক ৫ পেয়ে আর উত্তীর্ণ হতে পারলেন না মোহাম্মদ আশরাফুল। এরপরেই তার জাতীয় লীগ খেলা নিয়ে শুরু হয়ে যায় আলোচনার। সবকিছুকে ছাপিয়েই আশরাফুলকে দলে নেয় বরিশাল।

তবে তিনি বিপ টেস্টে পাশ করলেই যে সে দলের হয়ে খেলতে পারবেন। জাতীয় ক্রিকেট লিগ বা এনসিএল শুরু হবে ১০ অক্টোবর। এবারো এনসিএল দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মৌসুম। ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে বোর্ড এবার বেশ সচেতন। তাই বিপ টেস্টে ১১ নম্বর প্রাপ্তির মাধ্যমে ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের নিয়ম করে বিসিবি।

এ বিষয়ে জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশারের ভাষ্য, আশরাফুলকে আবারও পরীক্ষা দিতে হবে। সেখানে ভালো করলে তবেই সে বরিশালে খেলার সুযোগ পাবে। এর আগে সে খেলতে পারবে না।’

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ সিপিএলে নিজের তৃতীয় ও দলের শেষ ম্যাচেও বোলিং তান্ডব চালিয়েছেন সাকিব আল হাসান। বরাবরের মতই বোলিংয়ে তিনি ছিলেন প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস।

সাকিব আল হাসান বারবাডোসের হয়ে আজকের আগে দুইটি ম্যাচ খেলেছিলেন। এরমধ্যে প্রথম ম্যাচে অলরাউন্ড পারফর্ম করেও সতীর্থদের কারণে ম্যাচ জেতা হয়নি তার। দ্বিতীয় ম্যাচে জিতেছিল তার দল এবং বল হাতে ধারাবাহিক ত্রাস ছিলেন প্রতিপক্ষের জন্য।

সেই ফর্মটাই নিয়ে আসলেন তৃতীয় ম্যাচেও। বারবাডোসের আজকে শেষ ম্যাচে আগের দুই ম্যাচের মতই ওপেনিংয়ে বোলিং করেন সাকিব আল হাসান। আর অধিনায়কের আস্থার প্রতিদানও দেন তিনি।

দুই ওপেনার জিমি নিশাম ও লেন্ডেল সিমন্স দুজনকেই আউট করেন সাকিব। এরমধ্যে প্রথম ওভারেই নিশামকে আউট করেন সাকিব। আর ১৫তম ওভারে গিয়ে আউট করেন সিমন্সকে।

ম্যাচে সিমন্স করেন ৬০ রান। ৪৫ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় এই ৬০ রান করেন তিনি। সাকিব ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ২টি উইকেট লাভ করেন।

আমার জায়গা হয়তো কেউ নিবে, কিন্তু তার জায়গা কেউ নিতে পারবে নাঃ তামিম

ব্যাট হাতে নিজেকে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে সরিয়ে রেখেছিলেন তামিম ইকবাল। তবে এর মাঝেই যে ওপেনাররা ব্যার্থ হয়েছেন এই দুই সিরিজেই।

তবে ভারতের বিপক্ষে যে ফিরতে পারেন তামিম। তবে তামিম জানিয়ে দিলেন যে তার জায়গা কেউ নিতে পারলেও মাশরাফির জায়গা কেউ নিতে পারবে না।

এই ব্যাপারে তামিম বলেন ,’ বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাশরাফি ভাইয়ের অনেক ভূমিকা। আমি অবসর নিলে আমার জায়গা হয়তো কেউ নিয়ে নিবে, কিন্তু মাশরাফি ভাইয়ের জায়গা যে কেউই নিতে পারবে না। এই ব্যাপারে আমি অনেকটাই নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি।’

ভারত সফরের আগে সাকিবদের জন্য এলো সুখবর!
এই বছরের শুরু থেকেই বিশ্বের নানা দেশে টানা ক্রিকেট খেলে বেড়িয়েছেন সাকিব-মুশফিকরা। ছিল বিশ্বকাপের মতো বড় আসরও। দেশের মাটিতে আফগানিস্তান টেস্ট ও ত্রিদেশীয় সিরিজের পর ক্রিকেটাররা এখন আছেন বিশ্রামে। কিছুদিন পরই শুরু হয়ে যাবে জাতীয় লীগের ব্যস্ততা। আগামী মাসে আছে টাইগারদের গুরুত্বপূর্ণ ভারত সফর। এই সফর শুরু হওয়ার আগে সুখবরই পেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
4-8
অবশ্য ভারতের জন্য খুব একটা সুখকর না বিষয়গুলো। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে পিঠের চোটে আক্রান্ত হয়ে ছিটকে গেছেন দলের স্ট্রাইক বোলার জসপ্রীত বুমরাহ। বাংলাদেশের বিপক্ষেও থাকছেন না তিনি। যেকোনো দলের জন্যই ভয়ংকর বুমরাহ। তাকে না পাওয়া টাইগার ব্যাটসম্যানদের জন্য বাড়তি সুবিধাও বটে। বুমরাহর ইনজুরির খবরের রেশ না কাটতেই ইনজুরিতে পড়লেন দলের অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। লোয়ার-ব্যাক ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন তিনি।

ভারতীয় টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, হার্দিককে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ মিস করবেন এই অলরাউন্ডার। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড খুব শিগগিরই তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠাবে।

নভেম্বরের তিন তারিখ প্রথম টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে সাকিবদের ভারত সিরিজ। সিরিজের বাকি দুই টি-টোয়েন্টি হবে সাত ও ১১ নভেম্বর। ১৪ তারিখ থেকে শুরু হবে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। বাকি টেস্টটি হবে ২২ নভেম্বর। ভারতের বিপক্ষে এই টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জার্নি।

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন