সাফল্য এনে দিতে পারে এই ৭ মন্ত্র!

সবাই কিন্তু একমাত্র : স্বপ্ন তো সবাই দেখে কিন্তু তা পূরণে কাজ করে কতজন? নিজেকে তাই কোন দলে ফেলবেন? স্বপ্নবিলাসী নাকি সফল ব্যক্তিত্ব?

এটা আপনারই জীবন : ‘আরে এটা তো আমার জীবন আর আমার জীবনকে কি আমি সুন্দর করে সাজাব না?’ কী ভাবছেন? সিদ্ধান্ত আপনার। আর উপায়? উত্তর- পরিশ্রম।

অনুশীলন নিখুঁত করে : জেনে আর শিখে কজন জন্মায়? আপনার সফল হওয়ার উত্তর তো এখানেই। মনে রাখবেন, অনুশীলন মানুষকে নিখুঁত করে।

আপনার যেমন বিশ্বাস : বিশ্বাস করতে হবে মন থেকে- ‘আপনি পারবেন’। ‘মনে হয় পারব’ থেকেও শক্তিশালী- ‘আমি বিশ্বাস করি আমি পারব’।

আমি পারবই : ‘আমি পারব- না পারার তো কারণ দেখি না’। সত্যি তো, না পারার কোনো কারণ দেখাতে পারবেন?

আমি করবই : করব, করেছিলাম, দেখা যাক- অবান্তর এমন সব কথা ত্যাগ করে। সরাসরি স্পষ্ট ভাষায় বলুন- ‘আমি করছি, সফল হব কিনা সেটা পরের কথা’।

শেষ দেখে ছাড়ব : সবাই সফল হয়ে গেছে? আচ্ছা, আপনিও হবেন। কেননা সফল না হওয়া পর্যন্ত তো আপনি থামবেন না। কি, ঠিক তো?

ব্যক্তিগত ভিজিটিং কার্ডে সংসদ লোগোর অপব্যবহার, কে এই মনিরা!

অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিজিটিং কার্ডে সংসদের লোগো ব্যবহার এবং সংসদ ভবনে প্রবেশের পাস ফেরত না দেয়ায় সিটি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মনিরা সুলতানার (পপি) বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় ককাশের চেয়ারম্যান ও নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের নির্দেশে তার ব্যক্তিগত সহকারী আশিক মল্লিক গত ১৫ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যার নম্বর-৯৪২। সংসদ সচিবালয়ও বিষয়টি তদন্ত করছে।

আশিক মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ছেলে বর্ষণ ইসলামের রেফারেন্সে চলতি বছরের এপ্রিলের দিকে মনিরা সুলতানা ককাশ চেয়ারম্যান এর দপ্তরে কাজ শুরু করেন। তবে আচরণ সন্তোষজনক না হওয়ায় মাসখানেক পরেই তাকে না আসার জন্য বলা হয়।

আনুষ্ঠানিক কোন পদে নিয়োগ দেয়া না হলেও মনিরা সুলতানা নিজ উদ্যোগেই জাতীয় সংসদের লোগো ব্যবহার করে ককাশ চেয়ারম্যানের (ইসরাফিল আলম) সচিব পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড বানান এবং নিজস্ব কাজে তা ব্যবহার করেন। ভিজিটিং কার্ড বানানোর ক্ষেত্রে ককাশ চেয়ারম্যান এর দপ্তরের কারো অনুমতি না নেয়ায় বিষয়টি ইসরাফিল আলমের অগোচরে থেকে যায়।

মনিরা ও সিটি ব্যাংকের পাল্টাপাল্টি মামলার খবর গণমাধ্যমে আসলে ভিজিটিং কার্ডের অপব্যবহারের বিষয়টি নজরে আসায় জিডি করা হয়েছে। সংসদের লোগো ব্যবহার করে নিজের নামে বানানো কার্ড অপব্যবহার করায় মহান সংসদের সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে উল্লেখ করে, উক্ত কার্ডের ব্যবহার ও বিতরণ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া বারবার বলার পরেও সংসদে প্রবেশের পাস (অনুমতিপত্র) ফেরত দেননি মনিরা, যা জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ চত্বরের এমপি হোস্টেলের দুই নম্বর ব্লকে ককাশের কার্যক্রম পরিচালনা করেন ইসরাফিল আলম। অভিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করে এমন বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনকে সাথে নিয়ে অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় ককাশ এর কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে থাকে। এমন একটি সংস্থা ওয়ারবি (ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ফর রাইটস অব বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস) ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।

ককাশ অফিসের আগে ওয়ারবিতে কাজ করতেন বলে জানিয়েছিলেন মনিরা। তবে ওয়ারবি’র সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা ফারুক আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মনিরা কখনোই তার সংস্থায় কাজ করেননি। মহাখালীর ডিওএইচএস-এর ওয়ারবি কার্যালয়ে মনিরাকে কয়েকবার আসতে দেখেছিলেন মাত্র।

দেশের জনপ্রিয় এক দৈনিক পত্রিকার অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকরি বিধি লংঘন করে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় চারটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন মনিরা। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে নিজ নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্সও নেন। তাতে, এল এম সি এন্টারপ্রাইজ নামে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ আছে।

প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানার সূত্র ধরে দক্ষিণ বনশ্রীতে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায় সেই ঠিকানায় রয়েছে লিগাসি ইন্টারন্যাশনাল প্রি স্কুল অ্যান্ড ডে-কেয়ার সেন্টার। এল এম সি এন্টারপ্রাইজ ছিল কিনা না জানতে চাইলে বাড়ির মালিক জানান, শুরু থেকেই এখানে ডে-কেয়ার চালিয়ে আসছিলেন মনিরা। তবে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

এসব বিষয় নিয়ে মনিরার সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও কোন সাড়া দেননি। রাজধানীর পূর্ব নূরের চালা এলাকায় তার বাসায় যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সাড়া দেননি মনিরা। যদিও তার নামে থাকা অ্যাকাউন্টটি এখন ডিঅ্যাকটিভেটেড দেখাচ্ছে।

কে এই মনিরা?
গত ২০ আগস্ট গুলশান থানায় মনিরার বিরুদ্ধে মামলা করে সিটি ব্যাংক। তাতে বলা হয়, মনিরা সিটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসাইন এর পিএস হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার, বিশ্বাস ভঙ্গ করে ব্যাংকের সুনাম নষ্ট করা, চাঁদা দাবি এবং চাকরিতে পুনর্বহাল না করলে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনকে হয়রানি ও সম্মানহানী করার হুমকি দিয়েছেন।

মনিরা সুলতানা সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর যোগদানের পর থেকে ২০১৮ সালে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তাকে পে-রোল বিভাগে বদলি করা হলে প্রায়ই অফিসে অনুপস্থিত থাকতেন।

মনিরার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের কারণে নতুন ব্যবস্থাপনা পর্ষদ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি অন্যত্র চাকরি খোঁজার পরামর্শ দেয়। এর পরেরদিন ২২ জানুয়ারি থেকে অফিসে আসেননি মনিরা। টানা অনুপস্থিতি ও ৩০ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের ছুটি শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এপ্রিলে তাকে ডাক যোগে নোটিশ পাঠায়। এর কোন জবাব না দেয়ায় আইন অনুযায়ী চাকরি হারায় মনিরা।

গত ১৭ জুলাই ব্যাংকের সমুদয় পাওনা চেয়ে চিঠি দেয়া হলেও জবাব দেননি মনিরা। গাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনা, ক্রেডিট কার্ড ও ব্যক্তিগত ঋণসহ মনিরার কাছে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা পাওনা আছে বলে দাবি করছে সিটি ব্যাংক। চাকরি হারানোর পর যৌন হয়রানি, শ্লীলতাহানী ও হুমকির অভিযোগ এনে সিটি ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গত ১৮ আগস্ট গুলশান থানায় মামলা করেন মনিরা সুলতানা। মামলা দুটি এখন তদন্ত পর্যায়ে আছে। সূত্র : ভোরেরপাতা।

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘হিক্কা’ নিয়ে যে তথ্য দিলো আবহাওয়াবিদরা

প্রবল বেগে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘হিক্কা’ আছড়ে পড়তে পারে বলে জানা গেছে। আর এই ‘হিক্কার’ প্রভাব বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকবে বলে অনুমান করছে আবহাওয়াবিদরা।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট ও তেলেঙ্গানা রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়।

ঘূর্ণিঝড়টি ভারতে আঘাত হানলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরব সাগরে থেকে ধেয়ে আসতে চলেছে ঘূর্ণিঝড় হিক্কা। ঝড়ের প্রভাবে বুধবার সকাল থেকেই শুরু হতে পারে বৃষ্টি। আর এই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হিক্কার প্রভাব বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকবে বলেই আবহাওয়াবিদদের অনুমান।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, ঘূর্ণিঝড় হিক্কার প্রভাবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ধেয়ে আসতে চলেছে গুজরাটের উপকূলবর্তী অঞ্চলে। গুজরাটের ভেরাভাল, পাকিস্তানের করাচির ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ওমানের মাসিরাহের ৭৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব সীমান্তেই হতে চলেছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি।

কেবল ভারত নয়, আগামী বুধবার ওমানের উপকূলবর্তী অঞ্চলেও আছড়ে পড়তে পারে হিক্কা ঘূর্ণিঝড়। হিক্কার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের দাবি, ওমানে ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। ওমানে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হিক্কার প্রভাব বহাল থাকবে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

হিক্কার কারণে ইতোমধ্যেই ভারতীয় জেলেদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

সেই ৩৫ বস্তা টাকা বাড়ি নিয়ে গেল স্থানীয়রা!

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার জালশুকা গ্রামের খাড়ুয়া ব্রিজের কাছ থেকে ৩৫ বস্তা ছেঁড়া কাটা টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। টাকাগুলো মেশিনে কুচি কুচি করা হয়েছে।
সোমবার রাতের কোনো একসময় বগুড়া পৌরসভার ট্রাকে করে টাকার বর্জ্যগুলো বিলে ফেলা হয়।

এতো টাকা কুচি কুচি করা হলো কেন তা দেখতে ও জানতে জনতার ভিড় বাড়তেই থাকে। পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ।

জানা যায়, এসব কুটি কুটি করা টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্জ্য।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার যুগ্ম ব্যবস্থাপক মো. শাজাহান জানান, ফেলে দেয়া টাকার টুকরোগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার শাখার বাতিলকৃত, অপ্রচলনযোগ্য নোটের টুকরো। এগুলো মেশিন দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে, যা কখনই জোড়া লাগানো যাবে না। বগুড়া পৌরসভাকে এই ছেঁড়া টাকাগুলো ধ্বংস করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু জোড়া লাগানো যাবে না শুনেও স্থানীয়দের অনেককেই এসব কুচি কুচি করা নোট বাড়ি নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

এমনটা কেন করছেন তারা জিজ্ঞেস করলে একজন জানান, এগুলো দিয়ে তো আর বাজার করা যাবে না, কিন্তু বাজার রান্না করা যাবে। এগুলো শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করব।

আরেক স্থানীয় জানান, কুটি কুটি করা হোক আর বাতিল হোক, একসঙ্গে এতো টাকা আমি জীবনেও দেখিনি। আমার মা-বোন আর স্ত্রীও দেখেনি। তাই তাদের দেখাতে নিয়ে যাচ্ছি। পরে শুকিয়ে এসব জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করব।

অবশেষে ৩৫ বস্তা কুচি টাকার রহস্য উন্মোচন!

বগুড়ার শাজাহানপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা ৩৫ বস্তা ছেঁড়া টাকাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের। টুকরো করা নোটগুলো বাতিল ও অপ্রচলনযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখায় রাখা টাকার টুকরো ভর্তি বস্তাগুলো নির্ধারিত স্থানে না ফেলে ট্রাকের চালক ভুল করে শাজাহানপুর উপজেলার খারুয়া বিলের ধারে ফেলে যায়। ফলে মঙ্গলবার দিনব্যাপী টাকার টুকরো নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে যায়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া শাখা, বগুড়া পৌরসভা এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার জড় সামগ্রী বিভাগের যুগ্ম ব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান বলেন, ওই শাখায় প্রতিদিন বাতিল ও অপ্রচলনযোগ্য তিন লাখ পিস নোট (৫০ থেকে এক হাজার টাকা) টুকরো টুকরো করা হয়। আগে সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হত। কিন্তু তাতে পরিবেশ দূষিত হয় বলে সম্প্রতি পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এজন্য সেগুলো বর্জ্য হিসেবে পৌরসভার মাধ্যমে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।’

‘আর সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে একটি ডাস্টবিন স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে চলতি বছরের ২০ আগস্ট বগুড়া পৌরসভার মেয়রকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। তবে বগুড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা চত্বরে এখন পর্যন্ত কোন ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়নি। ফলে টাকার টুকরো ভর্তি অর্ধশত বস্তা শাখা চত্বরেই পড়ে রয়েছে। সেখান থেকে কয়েকটি বস্তা পৌরসভার কর্মীরা রবিবার বর্জ্য অপসারণের ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।’

এ বিষয়ে বগুড়া পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এই শহরে বর্জ্য অপসারণের পদ্ধতিটি একটু আলাদা। বগুড়া পৌরসভায় কোথাও ডাস্টবিন রাখা হয়নি। তার পরিবর্তে পৌরসভার মহল্লাভিত্তিক সমিতির (সিবিও) নিয়োজিত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করে তা নির্ধারিত স্থানে (ডাম্পিং স্টেশন) ফেলে দেয়।’

এ ব্যাপারে তিনি জানান, শহরের বাসা-বাড়িসহ সম্ভাব্য সব এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্যগুলো ফেলার নির্ধারিত স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বাঘোপাড়া এলাকায়। বর্জ্য ফেলানোর নির্ধারিত স্থান বাঘোপাড়ার পরিবর্তে কেন অন্যত্র ফেলানো হলো-এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশিদ বলেন, বর্জ্যবাহী ট্রাকের চালকের ভুলের কারণে এটি হয়েছে।

মাসুম নামে ওই চালককে বলা হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকার টুকরো ভর্তি বস্তাগুলো নির্ধারিত স্থানে ফেলতে। কিন্তু তিনি ভুল করে সেগুলো তার বাড়ির কাছে শাজাহানপুর উপজেলার খারুয়া বিলের ধারে ফেলে যান। অবশ্য ব্যাংক চত্বরে আরও যে বিপুল সংখ্যক বস্তা রয়েছে সেগুলো যথারীতি বাঘোপাড়ায় ডাম্পিং স্টেশনেই ফেলা হবে।

এ ব্যাপারে বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান বলেন, ‘নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে যারা অন্যত্র বর্জ্য (টাকার টুকরো) ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট শাখার সকল কর্মচারি এবং অভিযুক্ত ট্রাক চালককে বুধবার শোকজ করা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন