সৎ বাবা-মাকে যে কথাগুলো বলবেন না!

সৎ বাবা-মা সন্তানের প্রতি যত ভালোভাবেই দায়িত্ব পালন করুন না কেন, কিছু লোক সুযোগ পেলেই অশোভনীয় কথা শুনিয়ে দেন। কেবলমাত্র বাইরের লোক নয়, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তারা কটু কথা শুনে থাকেন। কিন্তু একটি সভ্য সমাজের মানুষ হিসেবে আমাদের অবান্তর বা অসংযত কথা না বলার চেষ্টা করতে হবে। সৎ বাবা-মাকে বলা উচিত নয় এমন ১২টি কথা নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব।

* এই সম্পর্ক চুক্তি ছাড়া কিছু নয়
প্রকৃতিগতভাবে সৎ বাবা-মা চাপে থাকেন। এ সময় সন্তান হিসেবে আপনার অসংযত কথা তার মানসিক অবস্থা আরো খারাপ করে দিতে পারে। সৎ বাবা-মাকে যা বলবেন না, তার একটি নমুনা হলো: ‘মা/বাবার অধিকার দেখাতে আসবেন না। আপনি জানেন যে এ সম্পর্ক একটা চুক্তি ছাড়া কিছুই নয়। আমাকে আমার মতো চলতে দিন। আমার ব্যাপারে নাক গলাবেন না। আপনার সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক নেই। আপনার সুখ-দুঃখের কথা অথবা সমস্যাও আমাকে জানানোর প্রয়োজন নেই। আমি আমার আমার মতো বাঁচি, আপনি আপনার মতো বাঁচেন।’

* সৎ ছেলেমেয়েকে নিজের সন্তানের মতো দেখা উচিত
অনেক সৎ মা-বাবা সৎ ছেলেমেয়ে ও নিজের সন্তানের মধ্যে পার্থক্য করেন না। কিন্তু তারপরও তাদের লোকজনের কাছ থেকে বিরূপ মন্তব্য শুনতে হয়। যেমন- সৎ ছেলেমেয়েকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসা উচিত। এ ধরনের কথা সৎ মা-বাবাকে এটা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি তার সৎ ছেলেমেয়ের প্রতি আন্তরিক নন অথবা তিনি নিজের সন্তান ও সৎ ছেলেমেয়ের মধ্যে বৈষম্য করেন। আপনার এ ধরনের কথা বিশুদ্ধ মনের মানুষটিকে দোষারোপ করার শামিল। ফলে তিনি অপরাধবোধে ভুগতে পারেন। আপনাকে মনে রাখতে হবে, জোর করে কারো মনে সৎ সন্তানের প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। একজন লোক তার সৎ সন্তানকে পছন্দ নাও করতে পারেন, বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করার কিছু নেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ধীরে ধীরে সৎ বাবা-মা ও সৎ সন্তানের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠছে। একটি ঘনিষ্ঠ ও অর্থবোধক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লাগে।

* আপনাকে পারিবারিক ফটোগ্রাফে চাই না
নিউ ইয়র্ক সিটির অধিবাসী লিসা লক্ষ্য করেছেন, তার নিজের কন্যা সৎ বাবাকে (লিসার বর্তমান স্বামী) ফ্যামিলি ফটোগ্রাফে রাখতে চাইছে না। এ ধরনের স্টেটমেন্ট কেবলমাত্র ছোটদের কাছ থেকে নয়, পরিবারের বড় সদস্যদের কাছ থেকেও আসতে পারে। এটি সৎ বাবা-মাকে থার্ড হুইল ফিলিং বা পরিবারে নিজেকে অবাঞ্ছিত ভাবার অনুভূতি দেয়। এ অনুভূতি থেকে মনে কষ্টের ডালপালা ছড়িয়ে পড়ে। সৎ বাবা-মাকে পারিবারিক ফটোগ্রাফে রাখতে না চাওয়ার মানে হলো পরিবারে এমন একজন রয়েছে যার সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক নেই। এ ধরনের মন্তব্য করবেন না। সৎ মা-বাবাকেও পারিবারিক ছবিতে রাখুন এবং মন বড় করতে চেষ্টা করুন।

* আপনার পাঁচটা সন্তান রয়েছে, চারটি নয়
যদি কারো চারটি ঔরসজাত সন্তান এবং একটি সৎ সন্তান থাকে, তাহলে তাকে এটা বলবেন না যে- তার পাঁচটা সন্তান রয়েছে। কারণ বিষয়টি অনেকেই সহজভাবে নিতে পারেন না। পূর্বের ফ্যামিলি ডাইনামিকের প্রতি সম্মান রেখে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত। এমনভাবে কথা বলবেন না যেখানে মনে হতে পারে যে সৎ সন্তানকে সৎ বাবা-মার জৈবিক ছেলেমেয়ে হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে এভাবে বলুন: আপনার চারটি সন্তান রয়েছে এবং আপনার স্বামীর একটা, তাই না?

* আপনি আসল মা-বাবা নন
সৎ সন্তানের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একজন সৎ মা-বাবা শেষ পর্যন্ত আবেগ কমিয়ে ফেলেন।কিন্তু বিষয়টি লক্ষ্য করে তাকে কটুক্তি করা উচিত নয়। তাকে কখনও বলা উচিত নয়- আপনি তো আর আসল মা-বাবা নন। এ ধরনের শব্দগুচ্ছ তার মনকে আহত করতে পারে। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ ধরনের কথা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন- আপনি কোনো সৎ মায়ের পরিচয় দিতে গেলে এটা বলবেন না যে, তিনি অমুক ছেলেমেয়ের সৎ মা। বরং বলুন, তিনি আপনার বন্ধুর স্ত্রী। এটি হলো সত্য ও শোভনীয় মন্তব্য যা বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে না অথবা মনে কষ্ট দেবে না।

* আমার মেয়ের সঙ্গে অশ্লীল কিছু করার চেষ্টা করবে না
এটা অস্বাভাবিক নয় যে, নতুন সৎ বাবা বা মা প্রথম প্রথম সৎ ছেলেমেয়ের প্রতি একটু বাড়তি আবেগ দেখান। কিন্তু উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক মজবুত করার জন্য শুরুতেই অতি আবেগে তাড়িত হবেন না। সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য সৎ মা-বাবাকে একটু ধীরগতিতে এগুতে হবে। সৎ সন্তানের জেন্ডার ও ইমোশনের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ অনেক নারী তার জৈবিক কন্যার প্রতি বর্তমান স্বামীর স্নেহ-ভালোবাসাকে ভালো চোখে দেখেন না। তারা এমনটাও বলতে পারেন যে, আমার মেয়ের সঙ্গে অসভ্যতা করার চেষ্টা করবে না। কিন্তু অনেক ফ্যামিলি থেরাপিস্ট এমন কথা না বলার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ অন্যের মনে কি আছে তা আপনি জানেন না। সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও সৎ পরিবারের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে দুই থেকে চার বছর সময় লাগে। েতথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

‘‘শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে পেটানো হয়েছে মিন্নির’’

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে আটকের পর বেধরক মারধর করা হয়েছে। তার শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে পেটানো হয়েছে। সেই ব্যথার যন্ত্রণায় মিন্নি এখনও কাতর।

রবিবার সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনে আইনজীবী জেড আই খান পান্নার চেম্বারে তার সঙ্গে মিন্নিকে নিয়ে সাক্ষাৎ করেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। এসময় তিনি এ অভিযোগ করেন।

মিন্নির শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বাবা কিশোর বলেন, মিন্নি অসুস্থ। রিমান্ডের নামে পুলিশের নির্যাতনের ভয়াবহতায় মিন্নি নানা জটিলতায় ভুগছে। তার হাঁটু ও বুকে ব্যথা। তার চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ নেব।

কিশোর আরও বলেন, জেলখানায় ব্যথার ওষুধ (পেইন কিলার) খাওয়ার পর মিন্নির প্রচণ্ড ক্ষতি হয়েছে।

মিন্নির কী ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হচ্ছে- জানতে চাইলে কিশোর বলেন, ওকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে পেটানো হয়েছে। মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

পুলিশ লাইনসে নির্যাতনের কথা তুলে ধরে কিশোর বলেন, পুলিশ লাইনসে ধরে নেয়ার পর মিন্নিকে বসতে দেয়া হয়নি। সেখানে যতক্ষণ মিন্নি ছিল ততক্ষণ তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর রিমান্ডের আগে দেড়-দুদিন তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তখন অজ্ঞান হয়ে দুই-তিনবার মিন্নি পড়ে যায়। তার ওপর বর্বর অত্যাচার করা হয়েছে। মাথায় পিস্তল ধরে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ওর একান্ত চিকিৎসা প্রয়োজন, এজন্য আমাদের ঢাকায় আসা।

মিন্নির বাবা কিশোর আরও বলেন, পুলিশের নির্যাতনের কারণে মিন্নি রাতে এখনও ঘুমাতে পারে না। কিছুক্ষণ পরপর চিৎকার দিয়ে ওঠে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমও নেই। স্বাভাবিকভাবে কথাও বলে না। দিন দিন বিমর্ষ হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন মিন্নি শেষ হয়ে যাচ্ছে। ওর কারণে আমরা কেউ ভালো নেই।

ঢাকার আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিশোর বলেন, আমাদের ঢাকায় আসার উদ্দেশ্য হল সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সঙ্গে দেখা করে তার আইনি পরামর্শ নেয়া। এর আগে শনিবার বিকালে মিন্নি ও তার বাবা বরগুনার আমতলী থেকে লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। ওইদিন কিশোর বলেন, ঢাকায় তাকে চিকিৎসা করাব।

উল্লেখ্য, ২৬ জুন প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে জখম করা হয়। পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এর মধ্যে মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করা হয়।

১৬ জুলাই সকালে বরগুনার মাইঠা এলাকায় বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ওই দিন রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। বিচারিক আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

২৯ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। জামিনের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, মিন্নি তার বাবার জিম্মায় থাকবেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর ২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে ছাড়া পান মিন্নি।

জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে যা বললেন কায়েস!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১টি বছর কেটে গেছে ইমরুল কায়েসের। দেশের ক্রিকেটে ওপেনারদের মধ্যে তামিম ইকবালের পর অন্যতম সফলও ছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরও তার ক্যারিয়ার হয়েছে অন্যরকম।

ইমরুল কায়েস হতে পারতেন জাতীয় দলের অন্যতম ভরসার প্রতীক। আবার হারিয়েও যেতে পারতেন। কিন্তু হয়নি কোনটাই। অন্যান্য ওপেনারদের ব্যর্থতা কিংবা ইনজুরি হলেই ডাক মেলে তার। কিন্তু কেন হল এমনটা সেটাই যেন এই ১১ বছর পরও খুজে ফিরছেন ইমরুল কায়েস।

নিজের ব্যাটিং নিয়ে ইমরুল কায়েস বলেন, দুই দিন পর আবার ব্যাটিং অনুশীলন করলাম। ভালোই হচ্ছে। আগের ভুলগুলো খুঁজে বেড় করে ঠিক করার চেস্টা করছি।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের উন্নতির জায়গা আছে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

তবে বর্তমানে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়াটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের সেটা মেনে নিয়েছেন ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দলে জায়গা পাওয়া চ্যালেঞ্জের সেটা তো সবাই জানে। অনেক ওপেনার এসেছে এখন। পরিবর্তন আসছে। এটি সহজ জায়গা না।

নেইমারের অসাধারণ গোলে জিতল পিএসজি

ট্রান্সফার ইস্যু নিয়ে অনেক জল ঘোলা হওয়ার পর পিএসজির হয়ে কিছুদিন আগেই প্রথম ম্যাচটি খেলতে নেমেছিলেন নেইমার। স্ট্রাসবার্গের বিপক্ষে সেই ম্যাচে নেইমার দেখিয়েছিলেন নিজের ম্যাজিক।

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিকে করেছিলেন পিএসজির জয়সূচক গোল।

সেই ম্যাচের মত এবার তার দ্বিতীয় ম্যাচেও ম্যাজিক দেখালেন নেইমার। এই ম্যাচেও নেইমারের গোলেই জিতেছে পিএসজি।

এবার শক্তিশালী লিওর বিপক্ষে ম্যাচের ৮৭ মিনিটের সময় এসেছে নেইমারের ম্যাজিক গোল। অবশ্য পুরো ম্যাচেই বিভিন্ন সময়ে যখনই বল নেইমারের পায়ে গিয়েছে, তিনি আলো ছড়িয়েছেন, কিন্তু আসল ম্যাজিকটা অপেক্ষা করছিল যেন ৮৭ মিনিট পর্যন্ত।

নেইমার প্রথম সুযোগ পেয়েছিল ম্যাচের ২২ মিনিটে। তবে লিওর গোলকিপারের দুর্দান্ত সেভের কারণে হতাশ হতে হয় তাকে। বিরতির ৪ মিনিট আগে ফের তাকে হতাশ করে লিওর পর্তুগীজ গোলকিপার। তার বিপজ্জনক ফ্রিকিক বাঁচিয়ে দেন লিও গোলকিপার লোপেস।

তবে ম্যাচের ৮৭ মিনিটে অবশেষে লোপেসকে পরাস্ত করতে সমর্থ কন নেইমার। সতীর্থ অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে চারজন ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে সবাইকে বোকা বানিয়ে দারুণ এক শটে গোল করেন নেইমার। আর তার একমাত্র গোলেই জয় পায় পিএসজি।

টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বসেরা ৫ উইকেটরক্ষকের তালিকায় মুশফিক!

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ব্যাট হাতে নেমে আর মাত্র ১০ রান করলেই ইংলিশ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বাটলারকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টিতে রানের দিক থেকে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পাশে নাম লেখাবেন মুশফিক। সেই সাথে জায়গা করে নিবেন বিশ্বসেরা ৫ উইকেটরক্ষকের তালিকাতেও।

এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুশফিক ৮১ ম্যাচে করেছেন ১২০১ রান। উইকেটরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ১১৪৩ রান। অন্যদিকে ইংলিশ কিপার বাটলার করেছেন ১১৫২ রান। উইকেটরক্ষক মুশফিক আর ১০ রান করতে পারলে ছাড়িয়ে যাবেন এই ইংলিশম্যানকে।

এ তালিকায় সবার উপরে ১৯১৮ রান করে অবস্থান করছেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদ। দ্বিতীয়তে আছেন ভারতের মাহেন্দ্র সিং ধোনি। ৯৮ ম্যাচে তার রান ১৬১৭।

লঙ্কান সাবেক উইকেটরক্ষক কুমার সাঙ্গাকারা ৫৫ ম্যাচে করেছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৩৭১ রান। নিউজিল্যান্ডের সাবেক দলপতি ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৪২ ম্যাচে করেছেন ১৩৫২ রানে অবস্থান করছেন চারে। মুশফিক ছয়ে আছেন।

সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের শীর্ষে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সব থেকে আলাদা করে নিজেকে গড়ে তুলছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। প্রতিদিনই যেন চেষ্টা করছেন নিজের উন্নতি করতে। আর তার দেখা পাওয়া যায় ঘরের মাঠে চলমান টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেই।

সিরিজের গ্রুপ পর্ব শেষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকাতেও আছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দুইজনই ৭টি করে উইকেট শিকার করেছেন। যদিও তার সমান ৭ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে আছেন আফগান স্পিনার মুজিবুর রহমান।

শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশের সাইফউদ্দিন ছাড়া আর কেউই নেই। সাইফউদ্দিনের পর বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪টি করে উইকেট নিয়েছেন শফিউল ইসলাম, সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান।

গ্রুপ পর্ব শেষে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের শীর্ষ পাঁচ বোলার:-

খেলোয়াড় – ম্যাচ – ওভার – রান – উইকেট

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (বাংলাদেশ):- ৪-১৬.০-৯৬-৭

মুজিবউর রহমান (আফগানিস্তান):- ৪-১৫.০-৯১-৭

ক্রিস এমপোফু (জিম্বাবুয়ে):- ২-৮.০-৭২-৬
রশিদ খান (আফগানিস্তান):- ৪-১৫.০-১০৮-৬

কাইল জার্ভিস (জিম্বাবুয়ে):-৪-১৫.০-১৪৩-৬।

ফাইনালে সেই দুইজনের উপরেই বাড়তি আশা সাইফুদ্দিনের!

বল হাতে এই ত্রিদেশীয় সিরিজে সবার উপরেই আছেন সাইফুদ্দিন। সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া সাইফুদ্দিন এবার তাকিয়ে আছেন ফাইনাল ম্যাচের দিকেই। আর এই ম্যাচে ওপেনার দুইজনের উপরেই বাড়তি আশা তার।

এই ব্যাপারে ঢাকায় ফিরে বিমানবন্দরে গণমাধ্যমকে সাইফউদ্দিন বলেন, ‘ওপেনিং আশানরুপ হচ্ছে না। আশা করি হবে। ফাইনালে আশা করি ওপেনাররা ভালো করবে। মিডল অর্ডারও আরও ভালো করবে।’

চলমান সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে (সৌম্য সরকার ও লিটন দাস) বাংলাদেশ তোলে ২৬ রান। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওপেনিং জুটি পরিবর্তন করলেও নতুন জুটি (লিটন ও মুশফিকুর রহিম) কোনও রান করতে পারেনি।

চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নামার আগে স্কোয়াডে পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকারের বিদায়ে ওপেন করার সুযোগ হয় নাজমুল হোসেন শান্তের। সেই ম্যাচে উদ্বোধনী জুটি (লিটন ও শান্ত) কিছুটা সফল (৪৯ রান)। যদিও সর্বশেষ ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে একই ওপেনিং জুটি তুলেছে মাত্র নয় রান।

ফাইনালে থাকছেন না রাশিদ!

চলতি ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজে গতকাল শনিবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার সময় চোটে পড়ে মাঠের বাইরে যাওয়া রাশিদ খান আসেননি সংবাদ সম্মেলনে। তবে তাঁকে নিয়েই হয়েছে দু দলের সংবাদ সম্মেলনে যত জিজ্ঞাসা।

এদিকে আফগান অভিষিক্ত পেসার নাভিন উল হক সংবাদ সম্মেলনে আসেন আফগানিস্তানের প্রতিনিধি হয়ে। অভিষেকে ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান খরচায় তুলে নেন ২ উইকেট। মনে রাখার মত অভিষেকই বলা যায় এই তরুণ পেসারের জন্য। ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই সংবাদ সম্মেলনে এলেন দলের প্রতিনিধি হয়ে যেখানে তার এমন অভিষেক নিয়ে প্রশ্নের চাইতে বেশি প্রশ্ন এসেছে দলপতি রাশিদ খানকে নিয়ে।

কারণ রাশিদ খানের দলে না থাকা বেশ বড় সুযোগ তৈরি করে প্রতিপক্ষের জন্য। তবে রাশিদকে নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছেনা দলের ম্যানেজার নাজির জার আব্দুর রহিম জাই। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘ফিজিও দেখছে তাকে। দুই–তিন দিন সময় আছে মাঝে। দেখা যাক কী হয়। এখনই বলতে পারছি না সে খেলতে পারবে কি পারবে না।’

এদিকে ফাইনালের আগে সময় আছে দুদিন, এই সময়ে পুরো ফিট হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী আফগান ম্যানেজার। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পেসার নাভিন উল হককে করা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নাজিম জার আরও যোগ করেন, ‘সে ভালো করছিল আর দেখি কি হয়। আমাদের হাতে আরও দুই-তিনদিন সময় আছে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালানোর। আশা করছি চোট গুরুতর নয়। সে আমাদের অধিনায়ক ও সেরা খেলোয়াড়। আগামীকাল (আজ) আমরা তাকে পর্যবেক্ষণ করবো তারপর সিদ্ধান্ত নিব।’

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন